প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।
‘‘বিজেপির বহু বিধায়ক, সাংসদ জনজাতির। কারণ, জনজাতিদের বিকাশ, সংস্কৃতির প্রতি বিজেপি সংবেদনশালী। বাংলায় বীরহোড়, লোধা, টোটো জনজাতি রয়েছে। তাঁদের বিকাশের জন্য পিএম জনমন যোজনা রয়েছে। তৃণমূল তা নিয়েও শত্রুতা করছে। আমার আবেদন, বিজেপি প্রার্থীদের সব বুথ থেকে জয়ী করুন। বিজেপি-কে একটা সুযোগ দিন। মোদীকে সেবা করতে দিন। ৪ মের পরে বাংলায় বিজেপি সরকার হবে। এই ভোট বিজেপির প্রার্থী বা কার্যকর্তারা লড়ছে না, বাংলার জনতা, যুবসমাজ, মা-বোনেরা লড়ছেন। বিজেপি সরকার গড়ছেই। ভারত মাতার জয়।’’
‘‘তৃণমূল আপনাদের অধিকার কাড়ে। রেশন, আবাস সব কেড়ে নেয়। মোদীর গ্যারান্টি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব দেবে। ঘর তৈরির জন্য দেড় লক্ষ টাকা দেবে। পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ দেবে। মহিলাদের সার্ভিক্স ক্যানসার রোখার টিকা দেবে। বিজেপি সুবিধা, কর্মসংস্থান দেবে। আবার মহিলাদের অর্থ সাশ্রয় করাবে।’’
‘‘তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে সাবধান করতে চাই। মা-মাটি-মানুষের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল ওরা। তৃণমূল মা-দের ধোঁকা দিয়েছে। বিজেপি চেষ্টা করেছিল, মহিলারা যাতে ২০২৯ সালের নির্বাচনে সংরক্ষণের সুবিধা পায়। কিন্তু মহিলা-বিরোধী তৃণমূল করতে দেয়নি। সংসদে বিরোধিতা করেছে। যাতে বাংলার ৩৩ শতাংশ মহিলা বিধায়ক, সাংসদ হতে না পারে। তৃণমূলকে সাজা দিন!’’
‘‘মহিলারা যাতে নিরাপত্তা পান, কর্মসংস্থান হয়, বিজেপি গ্যারান্টি দিতে চায়। মহিলাদের বছরে ৩৬ হাজার টাকা দেবে বিজেপি। মেয়েদের স্নাতক পড়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দেবে। সুকন্যা সমৃদ্ধি দেবে। লাখপতি দিদি করতে চায়। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য করা হবে।’’
‘‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে বনধন কেন্দ্রের বিস্তার হবে, তাতে জনজাতি বোনদের রোজগার বাড়বে। ঝাড়গ্রাম অরণ্যসুন্দরী। এখানে হোম স্টে, ইকো টুরিজম বাড়বে। রেল সংযোগ বাড়াতে কেন্দ্র উদ্যোগী হয়েছে। বন্দে ভারত এবং আটটি অমৃত ভারতের সঙ্গে জোড়া হয়েছে তাকে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ যাতে দ্রুত হয়, সে জন্য রাজ্য সরকারের সাহায্য দরকার। কিন্তু তৃণমূল কিছু করে না। তাই এখানে বিজেপির বিধায়কদের আনতে হবে। মা সাবিত্রী, কনকদুর্গাকে প্রণাম।’’
‘‘বাংলার মান্ডি থেকে তৃণমূলের সিন্ডিকেট নির্মূল করা হবে। আলু চাষি, ধান চাষিদের শোষণ বন্ধ করব। ৩১০০ টাকা এমএসপি (ন্যূনতম সহায়ক মূল্য) ঘোষণা করা হয়েছে ধানচাষিদের জন্য। পিএম কিষাণ সম্মাননিধির জন্য ৬০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০০ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৪ সালের আগে দেশে কংগ্রেসের সরকার ছিল। তৃণমূল ভাগীদার ছিল। এমএসপি ছিল ৮ বা ১০। এখন প্রায় ১০০ দিচ্ছে আমাদের সরকার। গ্যারান্টি দিচ্ছি, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়ের মতো বাংলার জনজাতি পরিবার সুবিধা পাবে। কেন্দুপাতা, শালাপাতা উৎপাদনে যারা জড়িত, তাদের লাভ হবে।’’
‘‘আপনাদের ভাল স্কুল থেকে বঞ্চিত করেছে তৃণমূল সরকার। বাকি দেশে, বিশেষত জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় একলব্য মডেল স্কুল হচ্ছে। বাকি এলাকায় পিএম শ্রী স্কুল হচ্ছে। ’’
‘‘তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ পরিবার সোলার প্যানেল যোজনার সুবিধা পায়। আমার সঙ্গীদের বিজয়ী করুন। মোদী গ্যারান্টি দিচ্ছে, আপনাদের প্রতি ঘরে ৮০ হাজার টাকা চলে যাবে। এখানে বিজেপির সিএম আনুন। বিদ্যুতের বিল থেকে মুক্তি পাবেন।’’
‘‘তৃণমূলের মন্ত্রী, যাঁরা লুটে শামিল, সকলের হিসাব হবে। এক দিকে, তৃণমূল বিদ্যুৎ লুট করছে। অন্য দিকে মোদী আপনাদের বিদ্যুতের বিল শূন্য করতে চায়। এই জন্য যোজনা কার্যকর করা হয়ে গিয়েছে— পিএম সূর্যগড় মুক্ত বিজলি যোজনা। একটি পরিবার প্রায় ৮০ হাজার টাকা করে পাবে। যাতে আপনারা ছাদে সোলার প্যানেল লাগাতে পারেন, নিজের বিদ্যুৎ নিজে জোগাতে পারেন। কিন্তু তৃণমূল এই যোজনা বাংলায় আনতে দিচ্ছে না। ওড়িশায় ৬০ হাজার পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে। ’’
‘‘আপনারা অন্ধকারে রয়েছেন। তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের গাড়ি চমকাচ্ছে। আপনাদের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। মোদী সঙ্কল্প করেছে, এখানকার কয়লা লুটকারীদের, আপনাদের যারা অন্ধকারে রাখে, তাদের ছাড়ব না। ওদের হিসাব করা হবে। তৃণমূলে সকলের নম্বর আসবে, মোদীর গ্যারান্টি।’’
‘‘ছোট ঘর তৈরি করতে হলেও তৃণমূলের সিন্ডিকেটের উপরে নির্ভর করতে হয়। তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়কেরা আপনাদের সমস্যা নিয়ে ভাবে না। এরা শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবে। শতাধিক একর জমিতে কব্জা করেছে। এক বার বিদ্যুৎ গেলে অনেক দিন পরে আসে। কখনও আসেই না বিদ্যুৎ। তবে বিল আসে!’’
‘‘আপনারা তৃণমূল সরকারকে ১৫ বছর দিয়েছেন (সুযোগ)। তৃণমূলের নির্মম সরকার কী দিল? কী পেলেন? জনজাতি ক্ষেত্রগুলি কী পেল? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার, কিছু পায়নি। সব বেহাল এখানে।’’
‘‘বিজেপি বিকাশ, উত্তরাধিকারের জন্য সমর্পিত। আমাদের সরকার প্রাণপ্রিয় বাংলা ভাষাকে শাস্ত্রীয় ভাষা ঘোষণা করেছে। সাঁওতালি ভাষায় ভারতীয় সংবিধানের সংস্করণ প্রকাশ করেছে। কুড়মালি ভাষা নিয়েও ঘোষণা করেছে। বিজেপি বাংলার এই ঐতিহ্য নিয়ে কতটা গর্বিত, তা স্পষ্ট।’’
‘‘বাংলার এই নির্বাচন এই ভূমির সমৃদ্ধি, পরিচয় রক্ষা করার জন্য। নিজের পরিচয় হারাতে পারে বাংলা, সেই ঝুঁকি রয়েছে। তৃণমূল যে পথে চলছে, সেই এজেন্ডা ভয়ঙ্কর। তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের সরকার তৈরি করতে চায়। যে সরকার অনুপ্রবেশকারীদের ধর্ম, ভাষা, রীতির রক্ষা করবে। ওই অনুপ্রবেশকারী সরকারের শত্রু হবেন আপনারা। বাংলার সব মানুষ সব বর্গ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।’’
মোদী ‘জয় জোহার’ বলে বক্তৃতা শুরু করলেন। বাংলায় বললেন, ‘‘কেমন আছেন?’’ তাঁর কথায়, ‘‘এই ভূমি বীরদের। ঝাড়গ্রামকে জনজাতি নৃত্যের স্বর্ণ কোষাগার বলে।’’
লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলাদের সংরক্ষণ চালুর উদ্দেশে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল শুক্রবার লোকসভায় পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। সে জন্য শনিবার রাতে ভাষণে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে কড়া ভাষা প্রয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘ভ্রূণহত্যা’র অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র মতো দলগুলির বিরুদ্ধে। বিল পাশ করাতে না-পারার জন্য প্রধানমন্ত্রী ক্ষমাও চেয়ে নেন দেশের সমস্ত ‘মা-বোন-কন্যা’র কাছে।
রবিবার রাজ্যে চারটি জনসভা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তৃতীয় সভা রয়েছে ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে।