কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। —ফাইল চিত্র।
তৃণমূলকে বিঁধে শাহ বলেন, “মমতা দিদি ১৫ বছর ধরে নিজের ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করার রাস্তা প্রশস্ত করা ছাড়া আর কিছুই করেননি। আমি আজ মমতা দিদিকে বলছি, ভাইপো কোনও দিন মুখ্যমন্ত্রী হবে না। আপনাদের সময় শেষ। পশ্চিমবঙ্গও নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিকাশের পথে এগোচ্ছে। বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া বিকশিত ভারতের স্বপ্ন পূরণ হবে না। সময় এসেছে পশ্চিমবঙ্গকে বিকশিত করার।”
শাহ বলেন, “আমাদের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রে আমরা বলেছি— ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট। প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে তাড়াব। এখানে অভিন্ন দেওয়ানবিধি চালু করব। প্রত্যেক সরকারি কর্মীকে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা দেব।”
শাহ বলেন, “বিজেপির ৩০০ কর্মীকে খুন করা হয়েছে। ওরা ভাবছে এ ভাবেই ভোট জিতে নেবে। আমি বলে যাচ্ছি, এ বারের ভোটে মমতার গুন্ডাদের ভয় পাওয়ার কোনও দরকার নেই। নির্বাচন কমিশন সঠিক ভাবে ভোটের সব ব্যবস্থা করেছে। যারা রিগিং করে, তাদের আমি বলে যাচ্ছি, ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে বিজেপি সরকার গঠনের পর তারা কেউ ছাড় পাবে না।”
শাহ বলেন, “নির্বাচন কমিশন এসআইআর করছে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। আর মমতা দিদির সমস্যা শুরু হয়ে গিয়েছে। এটা তো সবে শুরু হয়েছে। এখন ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সরকার গড়ুন, আমরা ওদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়াব।”
শাহ বলেন, “মমতা দিদির গুন্ডারা অনুপ্রবেশকারীদের এতটাই তোষণ করে যে কোথাও কোথাও সরস্বতী পুজোও আটকানোর চেষ্টা হয়েছে। আমি বলে যাচ্ছি, মমতার সব গুন্ডারা কান খুলে শুনে নিক— ৫ তারিখের পর বিজেপির সরকার আসবে। রামনবমী হোক বা সরস্বতী পুজো, যেই সমস্যা তৈরি করবে, তারা রেহাই পাবে না।”
তৃণমূলকে নিশানা করে শাহ বলেন, “এখানে মহিলারা আতঙ্কিত। সন্দেশখালিতে তৃণমূলের অনুপ্রবেশকারী নেতা আমাদের মা-বোনেদের বছরের পর বছর ধরে শোষণ করে গিয়েছে। তিনি তৃণমূলের ছিলেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ধরেননি। আরজি কর, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ, সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ-সহ বিভিন্ন জায়গায় আমাদের মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়েছে। আর মমতা দিদি বলেন, রাত ৭টার পরে মহিলারা কেন বাইরে যাবেন? মমতা দিদি, আপনার সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। বিজেপির সরকার আসছে। রাত ১২টার সময়েও ছোট ছোট মেয়েরা নির্ভয়ে ঘুরতে পারবে, সেই রকম শাসনব্যবস্থা চালু করব। বিজেপির সরকার ভয়ের নয়, ভরসার সরকার হবে।”
শাহ বলেন, “কংসাবতী, সুবর্ণরেখার মতো পবিত্র নদী থাকার পরেও পুরো এলাকায় সাঁওতালি এবং কুড়মি সমাজকে জলের কষ্টে ভুগতে হয়। আমরা ২৫০ কোটি টাকা খরচ করে পুরুলিয়া এবং আশপাশের এলাকায় প্রত্যেক বাড়িতে নলবাহিত জল পৌঁছে দেব।”
শাহ বলেন, “বিজেপির যে সরকার তৈরি হবে, তা কাটমানি এবং সিন্ডিকেট থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুক্ত করবে। সিমেন্ট, বালি, ইট কিনতে গেলে কাটমানি দিতে হয়। চিন্তা করবেন না। বিজেপির সরকার গড়ে দিন।”
শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক মহিলাকে প্রত্যেক মাসে ৩০০০ টাকা করে দেব। প্রবীণ, বিধবা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদেরও মাসে ২০০০ টাকা করে দেব। কৃষকদেরও প্রতি বছরে ৯০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।”
মমতার সরকারকে বিঁধে শাহ বলেন, “তরুণদের উপার্জনের জন্য ভিন্রাজ্যে যেতে হয়। পশ্চিমবঙ্গে ৭০০০ কারখানা বন্ধ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব কারখানা বাইরে চলে গিয়েছে। আমাদের আদিবাসী, কুড়মি ভাইয়েরা উপার্জন করতে পারেন না। এখান থেকে বেঙ্গালুরু, আহমেদাবাদ, দিল্লি, মুম্বই যেতে হয়। বিজেপির সরকার গঠন করুন। আমরা পশ্চিমবঙ্গকে আবার আগের মতো শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্পূর্ণ চেষ্টা করব। তত দিন পর্যন্ত সকল বেকারকে মাসে তিন হাজার টাকা করে বেকার ভাতা দেওয়া হবে।”
শাহ বলেন, “এ বার পুরুলিয়ার ৯টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই বিজেপি-কে জেতাতে হবে। ক্লিন সুইপ করে দিন।”
অমিত শাহ বলেন, “বিএসএফ-এর জমি দরকার কাঁটাতার বসানোর জন্য। ১৫ বছর ধরে তিনি জমি দিচ্ছেন না। বিজেপি স্থির করেছে, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দেওয়া হবে। অনুপ্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
শাহ বলেন, “আমাদের জঙ্গলের জমি অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্ত করতে হবে কি হবে না? ভাইপো এটা করতে পারবে? মমতা দিদি করতে পারবে? ওরাই তো এনে রেখেছে। ওদের তো ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু মমতা দিদি, আপনার সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। ৫ তারিখ বিজেপির সরকার আসবে। পুরো রাজ্য থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে তাড়াব।”
শাহ বলেন, “কুড়মি এবং সাঁওতালদের মধ্যে সংঘর্ষ করিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৫ তারিখ বিজেপির সরকার গঠন করুন। মহান কুড়মি ভাষাকে আমরা অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করব।”
বাঁকুড়ার জোড়া জনসভা শেষ করে অমিত শাহ পৌঁছেছেন পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে। সেখানে জনসভা থেকে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে বক্তৃতা করছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে বাঁকুড়ায় জোড়া জনসভা করেছেন অমিত শাহ। প্রথমে ওন্দায় এবং তার পরে ছাতনায় সভা করেন তিনি।