মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির মা-বোনেদের বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান মমতা। বলেন, ‘‘এসআইআর-এর বদলা একটা করে ভোট। আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্মান করি। কিন্তু আমি দেখেছি, বাঁকুড়ায় ওরা বিজেপির পতাকা নিয়ে যাচ্ছিল। কোনও দিন যা হয়নি, তা হচ্ছে। মা-বোনেরা ভোটের দিন সকাল থেকে বুথ পাহারা দিন। পাঁচ বছরের জন্য যদি শান্তি চান, এক দিনের জন্য পাহারা চাই। যাতে দিল্লির লোকজন এসে ছাপ্পা না দিতে পারে। ভয় দেখালে ঘরে যা আছে তা নিয়ে বেরোবেন। আপনারা তো রান্নাবান্না করেন, আমাকে আর বেশি বলতে হবে না।’’
প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকদের বদলি প্রসঙ্গে ফের কমিশনকে আক্রমণ করেন মমতা। বলেন, ‘‘আমি নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও এই প্রথম না জানিয়ে সব অফিসারকে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। খাদ্য দেবে কে? ঝড় হলে সুরক্ষা দেবে কে?’’ বিজেপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘অপদার্থের দল! ওরা জানে না, আমি ভাঙি তবু মচকাই না।’’
রাতে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গোলমাল নিয়ে মাটিগাড়া থেকে সুর চড়ালেন মমতা। জানালেন, তাঁর নামও সন্দেহের তালিকায় চলে গিয়েছিল। মমতা বলেন, ‘‘হঠাৎ করে কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে সকলের নাম মুছে গেল! এখন বলছে হ্যাকিং হয়েছে। হ্যাকিং করেছ না বজ্জাতি করছ, মানুষকে জানাও। আমি রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট লড়াই করেছি। লড়ে যাব। ছাড়ব না। এখনও অতিরিক্ত তালিকা টাঙায়নি। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য আমরা ক্যাম্প করব। বিনা পয়সায় আইনজীবী দেব। আপনাদের শুধু দরখাস্ত করতে হবে। শোনা যাচ্ছে আট লক্ষের নাম বাদ গেছে। তালিকা কোথায়?’’
মমতা বলেন, ‘‘পশ্চিমবাংলা সব ধর্মকে নিয়ে চলে। ধর্মের সবচেয়ে বড় জায়গা এটাই। সব উৎসব আমাদের উৎসব। আজ বাসন্তী পুজো। আগামী কাল অন্নপূর্ণা পূজা। রামনবমী হবে তার পর। আমরাও রামনবমীর মিছিল করি। রাম কারও কেনা নয়।’’
মমতা বলেন, ‘‘বিজেপি গ্যাসবেলুন। গ্যাস দেওয়ার ক্ষমতা নেই। গ্যাসবেলুন দিয়ে যাচ্ছে। এখন বলছে ৩৫ দিন লাগবে দুটো সিলিন্ডারের জন্য। একটা সিলিন্ডার থাকলে তো শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই সব বাড়িতেই দুটো সিলিন্ডার রাখা হয়। দামও বা়ড়িয়ে দিচ্ছে। এরা বেশি দিন থাকলে দেশটাকেই বেচে দেবে। এরা বিক্রি করার জন্যেই এসেছে।’’ ভোটের জন্য টাকা খরচ না করে গ্যাসের ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মমতা।
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি থেকেও এসআইআর নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা। বলেন, ‘‘এসআইআর-এর জন্য কত লাইন দিতে হয়েছে? কত আদিবাসীর নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে? রাজবংশী, বাঙালিদেরও সরিয়ে দিয়েছে। সেই বিজেপি ভোট চাইছে? এটা কি বিজেপির জমিদারি? না, এটা আমাদের জমিদারি। জনতার জমিদারি।’’ রাজ্যে ২০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘এত দিন কাটানোর পর এখন পরীক্ষা দিতে হবে এই দেশের নাগরিক কি না? ওদের লজ্জা হওয়া উচিত। আদিবাসী, রাজবংশীদের বেছে বেছে নোটিস দিয়েছে। এর পরে এনআরসি করবে। ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে। আমি থাকতে তা কখনও হবে না।’’
মমতা বলেন, ‘‘শিলিগুড়ির উন্নতি হলে জলপাইগুড়ির হয়, আলিপুরদুয়ারেরও হয়। উত্তরবঙ্গে ১০০ কোটি খরচ করে ক্যানসার হাসপাতাল করছি আমরা।’’
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি থেকে উত্তরবঙ্গের মহাকাল মন্দির তৈরির প্রসঙ্গ তোলেন মমতা। বলেন, ‘‘এখানে মহাকাল মন্দির করছি ১৭ একর জমিতে। তার শিলান্যাস হয়ে গিয়েছে। শুধু বড় মহাদেবই নয়, দেশের যত বিখ্যাত শিবলিঙ্গ আছে, সব স্থাপনা করা হবে। নেপালে যখন ঝামেলা চলছিল, তখনও আমি এসেছিলাম।’’
মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে দিনের তৃতীয় জনসভা শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন তিনি। এর আগে ময়নাগুড়ি এবং ডাবগ্রাম ফুলবাড়িতে জনসভা করেছেন তিনি।