মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে এ বার বিদায়ী বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেনি তৃণমূল। তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন বাম মন্ত্রী তথা প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা বসুন্ধরা গোস্বামীকে। টিকিট না-পেয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তপন। পূর্বস্থলীর সভা থেকে নাম না-করে তাঁকে নিশানা করেছেন মমতা। তিনি বলেন, “কেউ কেউ আছে, কাজও করবে না, আর সারাজীবন তাকেই প্রার্থী করতে হবে। না, এটা দল পারে না। যে মানুষের কাজ করবে, সে প্রার্থী হবে। যে মানুষের কাজ করবে না, তাকে দল রাখতে পারে না। প্রার্থী হলেই দলের হয়ে কাজ করব, না হলে গোসা করে অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ করব— এই দু’ধরনের জিনিস চলতে পারে না। পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে কেন প্রার্থী বদল করতে হল, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, “আজকে কেন বসুন্ধরাকে নিয়ে আসতে হল? যদি কাজটা ঠিক মতো করত, তা হলে বসুন্ধরাকে নিয়ে আসতাম না। নিয়ে এসেছি এই কারণে যে, ও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর মেয়ে, স্কুটারে করে গ্রামে গ্রামে যাওয়ার মেয়ে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মেয়ে।”
মমতা বলেন, “উত্তরপ্রদেশ থেকে ২০০ গাড়ি সিআরপিএফ আসছে অযোধ্যা দিয়ে। দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক আনছে। সেখানকার ভোটারদের বাসে করে নিয়ে আসছে। বর্ডারগুলো খুলে দিয়েছে, যাতে আমরা ধরতে না পারি।”
মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা তোপ মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, “কালকে উনি (প্রধানমন্ত্রী) এলেন কোচবিহারে। মোথাবাড়ির ঘটনা উল্লেখ করলেন। আর যে প্রথম ধরল তাকে, দিল্লির পুলিশ নয়, আমাদের সিআইডি, তাকে আপনি তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দিলেন। কারণ পাছে বিজেপির লোক ধরা পড়ে। করিয়েছিলেন হায়দরাবাদ থেকে লোক নিয়ে এসে।”
তোতাপাখি কমিশন রটিয়ে দেবে তৃণমূল হারছে, বিজেপি জিতছে, বিশ্বাস করবেন না, শেষ পর্যন্ত কাউন্টিং (ভোটগণনায়)-এ থাকবেন: মমতা
গণতন্ত্রের মাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে বদলা নিতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। জনগণের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “গণতন্ত্রের মাধ্যমে বদলা নিন, বাংলা থেকে রাজনৈতিক ভাবে জব্দ করে বিজেপিকে তাড়িয়ে দিন।”
প্রধানমন্ত্রী মোদীকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, “টেলিপ্রম্পটার দেখে বলছেন ‘সুনার বাংলা’, আর বাংলায় কথা বললে ভিন্রাজ্যে মারধর করা হচ্ছে!”
মমতা বলেন, “বিজেপি নেতারা ৫০ জন সিআরপিএফ, গাদা গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন। এত পয়সা পাচ্ছেন কোথায়?”
‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের পরিকল্পনা কী ভাবে তাঁর মাথায় এসেছিল, ফের তা ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মোদী সরকার যখন সকলের থেকে সব কেড়ে নিয়েছিল, তখন আমি ভেবেছিলাম, মহিলাদের অধিকার থাকা দরকার। ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম।” এই প্রকল্পের সুবিধা সারাজীবন পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ফের এআই ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বস্থলীর সভায় তিনি বলেন, “বিজেপির নেতারা দিল্লিতে বসে এআই ব্যবহার করে একপাক্ষিক ভাবে সকলের নাম কেটেছে, এর বদলা হবে কি হবে না?”
পূর্বস্থলীতে ভোটপ্রচারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী— পূর্বস্থলী দক্ষিণের স্বপন দেবনাথ, পূর্বস্থলী উত্তরের বসুন্ধরা গোস্বামী এবং নবদ্বীপের পুণ্ডরীকাক্ষ সাহার সমর্থনে সমুদ্রগড় হাইস্কুলের মাঠে জনসভা করছেন তিনি।