মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।
আমাকে মহিলা শেখাবেন না। বাংলাই পথ দেখায়। ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করছি। মেয়েদের ৫০ শতাংশ রিজ়ার্ভেশন আমরা পঞ্চায়েতে দিয়েছি। মিউনিসিপ্যালিটিতে দিয়েছি। রাজ্যসভায় আমাদের দল মনোনীত করে, তার পরে নির্বাচিত হয়। ৪৬ শতাংশ আমাদের মহিলা আছে। আর লোকসভায় নির্বাচিত মহিলা সাংসদ ৩৭ শতাংশ আছে। কোনও রাজনৈতিক দলে নেই। কাজেই মহিলা বিল আলাদা। আর মহিলা বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিল ঢুকিয়ে দিয়েছে যাকে বাংলাকে টুকরো করতে পারে। উত্তরপ্রদেশকে টুকরো করতে পারে। দেশকে টুকরো করতে পারে। টুকরো টুকরো গ্যাং। এটা ছিল আসল পরিকল্পনা। সামনে ছিল মহিলা বিল। আড়ালে ছিল বদ উদ্দেশ্য। আর ডিলিমিটেশন করেই এনআরসি করত। সবাইকে তাড়াত। আর ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাত। যেমন এসআইআরের নামে আপনাদের ভোটাধিকার কেড়েছে। আপনাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছে।
কাল থেকে পতন শুরু হয়েছে। তাই বাবুকে আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে হচ্ছে। বাপরে, কত বড় জাতির নেতা! প্রধানমন্ত্রী মোদীকে তোপ মমতার।
সবাইকে এক করে কালকে দিল্লিতে হারিয়েছি। ইলেকশন চালাকালীনও এমপিদের পাঠিয়েছি। আরও ৮ জন যেতে পারেনি। আরও অন্য পার্টিরও ২০ জন আছে। সব মেলালে কত হয়? বিজেপি ধপাস। বিজেপি এ পাশ ওপাশ ধপাস। মাইনোরিটি গভর্নমেন্ট। দু’জনের সাপোর্ট নিয়ে চালাচ্ছে। যে দিন উইথড্র করে নেবে... মানে টুক টুক করে আগুন জ্বলছে।
বিজেপির নেতারা ২০-৩০টা করে গাড়িতে সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। আর শওকতদের সিকিউরিটি কেড়ে নেওয়া হবে। কারণ বিজেপির ভ্যানিশ ওয়াশিং কমিশন অর্ডার দেবে। মনে রাখবেন, মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না। মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে খেলবেন না। আমার সিকিউরিটি তুলে নিন। যদি সে রকম হয় আমি আমার সিকিউরিটি তুলে নিয়ে শওকতকে দেব। দেখি আপনারা কী করতে পারেন। আমার সিকিউরিটির দরকার নেই। আমি ওসব গুন্ডা-টুন্ডাকে ভয় পাই না। আমাকে বোম, বন্দুক দিয়ে মেরেও কিছু করা যাবে না। জন্মেছি এক দিন, মৃত্যু এক দিন হবেই। তবে বিজেপি-কে আমি দেখে ছাড়ব। ওদের আমি ছাড়ব না।
শওকতকে খুন করতে চায় ওরা। ওর সিকিউরিটি তুলে নিতে চায় বিজেপি-কে বলে। ওর যদি কোনও রকম কোনও ক্ষতি হয়, তখন কাউকে ছেড়ে কথা বলব না। বিজেপির হিম্মত নেই। আমার সঙ্গে লড়তে পারে না। ওরা শওকতকে নিয়ে পড়েছে। আমি যদি বাঁ হাত হই, শওকত আমার ডান হাত।
আমি ইচ্ছা করে ক্যানিং থেকে শওকতকে নিয়ে এসেছি। শওকত আমাকে বলেছিল আটটি থানা বানাতে। ওই আমাকে বলেছিল মেডিক্যাল কলেজটা হয়নি। ক্যানিং স্টেডিয়াম থেকে শুরু যা আপনাদের দরকার, সব করে দেব। কিন্তু কথা দিতে হবে শওকতকে জেতাবেন। আর ক্যানিং পূর্বেও আমাদের প্রার্থী বাহারুলকেও জেতাবেন। আরও ২ লক্ষ ছেলেমেয়ের চাকরি হবে লেদার হাবে। সব প্রস্তুত হচ্ছে। এখানে অনেক শিল্প গড়ে উঠবে।
আমাদের ক্যান্ডিডেটের বাড়িতে যাচ্ছে, পার্টি অফিসে গিয়ে চেক করছে। আর ভাঙড়ে কতগুলো বিজেপির দালাল আছে, টুক টুক করে বোম মারে, আর বিজেপি-কে ফোন করে বলে একে অ্যারেস্ট করিয়ে দাও, ওকে অ্যারেস্ট করিয়ে দাও। আমি সব জানি। ওদের বিশ্বাস করবেন না। ওরা বিজেপির টাকায় চলে। বিজেপি যেমন কমিউনাল। অন্য ধর্মেও আরও কিছু কমিউনাল আছে যারা টাকা খেয়ে নিজের বর্ণের সঙ্গে, জাতির সঙ্গে গদ্দারি করে।
আপনাদের এখানে জমির মিউটেশন বন্ধ করেছিলাম। কারণ গরিব মানুষের জমি দখল করে নেওয়া হচ্ছিল। হাসপাতাল যাঁকে তৈরি করতে দেওয়া হয়েছিল, তিনি করেননি। কিন্তু ইসলামিয়া হসপিটাল ভাঙড়ের এই হসপিটাল তৈরি করবে। ইতিমধ্যে আমাদের কাছেও এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সেটাও হয়ে যাবে। সংখ্যালঘুরা জেনে রাখবেন সবচেয়ে বেশি কাজ আমাদের আমলে হয়েছে। চার কোটি ছেলেমেয়েরা স্কলারশিপ পেয়েছে।
আমরা বলেছিলাম, বাংলাকে টার্গেট করলে আমরা দিল্লিকে টার্গেট করব। কালকে মোদীকে পরাস্ত করা হয়েছে। আগামী দিন বাংলা জিতে মোদীকে আবার পরাস্ত করা হবে। দিল্লি থেকে এই সরকারের বিনাশ করা হবে গণতন্ত্রের মাধ্যমে। কালকে মহিলা বিল নয়, ওর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিল ডিলিমিটেশন। মানে কী জানেন? আপনাদের কেন্দ্রগুলি ভাগ ভাগ করে বঙ্গভঙ্গ থেকে দেশভঙ্গ করার পরিকল্পনা। ওটাকে আমরা উল্টে দিয়েছি। এবং মোদীবাবুর পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। আজকে শুনছি, উনি দেশের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ওঁর ভাষণ শুনে মানুষের রেশন মিলবে না। ওঁর ভাষণ মানে মিথ্যার ফুলঝুরি।
বিজেপির হাত যাঁরা শক্ত করছে, সেই গদ্দারদের পরাস্ত করুন। এই ভাঙড়ের মাটিতে কৃষিজমি দখল করে নিচ্ছিল। এখানে কোনও উন্নয়ন ছিল না। ১১০০ একর জমিতে লেদার হাব করে দিয়েছিল। পাঁচ লক্ষ কর্ম সংস্থান হয়েছে। আরও ২ লক্ষ কর্ম সংস্থান হবে। দেশের লেদার হাব যদি কোথাও থাকে, সেটা হল ভাঙড়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার দিনের প্রথম জনসভা শুরু করেন উলুবেড়িয়া থেকে। তার পর তিনি বারুইপুরে জনসভা করেন। সেখান থেকে ভাঙড়ে পৌঁছোন। এখান থেকে তিনি যাবেন সোনারপুরে। সবশেষে হাওড়ায় একটি পদযাত্রা করবেন।