পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
মমতা বলেন, ‘‘তিন সপ্তাহ পরে তৃণমূলের সরকারই আসছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইভিএম লুট করার। আমাদের কাছে খবর আসছে। গণনার মেশিনে যারা ভোট গুনতে যাবেন, তাঁরা বিষয়টি নজরে রাখবেন। কেউ ১০০ পেলে ওরা কম্পিউটারে তুলবে পাঁচ। দেখে নেবেন। যত ক্ষণ কম্পিউটারে ভোট না তোলা হবে, কেউ হাল ছাড়বেন না। লড়ে যাবেন। যুদ্ধ জয় করতে হবে।’’
মুরারইয়ের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘আপনাদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল, দ্বারকা নদীর উপর একটা স্থায়ী সেতু নির্মাণ। আমরা সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। প্রাথমিক রিপোর্টও তৈরি হয়ে গিয়েছে। ৫৬ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। ভোটের জন্য কাজ শুরু করতে পারিনি। ভোট মিটলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। পুরাতনগ্রাম থেকে সেকেন্ডা পর্যন্ত সেতুটা হবে। সাধারণ মানুষের অনেক সুবিধা হবে। স্থানীয় ব্যবসায় উন্নতি হবে।’’
লোকসভায় বিজেপির হারকে তুলে ধরে মমতা বলেন, ‘‘অহঙ্কারের পতন হবেই। বাংলায় জিতে আমরা দিল্লি দখল করব। গণতন্ত্রের জয় হবে।’’
মমতা বলেন, ‘‘আমাদের একটাই এজেন্সি। তোমাদের হাজারটা আছে। তাদেরও বলেছে বাংলা ছেড়ে চলে যেতে! লজ্জা করে না?’’
মমতা বলেন, ‘‘যাঁরা বিজেপির হয়ে কাজ করছ, আগামী দিনে যেখানেই থাকো, খুঁজে বার করব আর নারকেলের নাড়ু খাওয়াব।’’
ঝাড়গ্রামে গিয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছেন মোদী। তাকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘সব সাজানো। ১০ টাকা কখনও ওঁর পকেটে থাকে? কত নাটক! ঝালমুড়িও নিজেরা তৈরি করে রেখেছে। না হলে দোকানে ক্যামেরা ফিট করা থাকল কী করে?’’
মমতা বলেন, ‘‘অনেককে গ্রেফতারের পরিকল্পনা করেছে। লিস্ট আমি পেয়ে গিয়েছি। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়ব। শুধু তৃণমূলকে টার্গেট করেছে। এই বীরভূম থেকে এক নেতা লড়ছে। কোটি কোটি টাকা কয়লা থেকে খায়। ভদ্রতা করে নাম বলছি না। সবচেয়ে বড় দুরাচারী বিজেপি।’’
মমতা বলেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডার সারাজীবন পাবেন। যুবসাথী যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা আমরা করে দেব। এখনও যাঁরা পাকা বাড়ি করে উঠতে পারেননি, করে দেব। পানীয় জল সর্বত্র পৌঁছে দেব।’’
মমতা বলেন, ‘‘শান্তির জন্য লড়ুন, ভাষা-জাতিকে রক্ষা করুন, ভোটাধিকারের জন্য লড়ুন। তৃণমূল সরকার থাকলে আপনাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত থাকবে। এ বারের ভোটটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।’’
মমতা বলেন, ‘‘বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিয়ে কেউ কেউ নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্ম, দলকে বিক্রি করা যায় না। নির্দলের কোনও জাত নেই, দল নেই। সম্প্রদায়ের সঙ্গে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেন, তাঁদের ক্ষমা করবেন না।’’
মমতা বলেন, ‘‘লোকসভায় আমরা বিজেপি-কে হারিয়েছি। ২০২৬ সালেই বাংলায় হারাব ওদের। তার পর দিল্লি থেকে তাড়াব।’’
বীরভূমের মুরারইতে ১টায় জনসভা ছিল মমতার। কিন্তু পৌনে ৩টে নাগাদ সভা শুরু হয়। পৌঁছেই ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। বলেন, ‘‘লু খুব বেশি। আমার ৫০ মিনিট লাগার কথা। দু’ঘণ্টা লেগে গেল। ফিরেও অনেক কর্মসূচি আছে। এত রোদে সকলে অপেক্ষা করে আছেন। বেশি ক্ষণ বলতেও পারব না। ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’’
এর আগেও বীরভূমে প্রচার সেরে গিয়েছেন মমতা। সোমবার তাঁর সভা মুরারইয়ের খান ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। তৃণমূল প্রার্থী মোশারফ হোসেনের সমর্থনে এই জনসভা।