পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার জঙ্গিপুরে। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।
মুর্শিদাবাদের নেতা হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ভিডিয়ো প্রকাশ করে বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাঁতের দাবি করেছে তৃণমূল। শনিবার জঙ্গিপুরে সভা করতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘‘ভোট যত এগোচ্ছে, তৃণমূল পরাজয় দেখতে পাচ্ছে। তাই ওরা এআই কাজে লাগিয়ে ভুয়ো ভিডিয়ো বানিয়ে মিথ্যা প্রচার শুরু করেছে। অসম আর পুদুচেরীতেও এটা করেছে। আমি আপনাদের সতর্ক করছি, এগুলোতে ভুলবেন না। দলে দলে ভোট দিতে বেরোন। বিজেপিকে জয়ী করুন।’’ মোদী হুমায়ুনের নাম নেননি। তবে এই প্রসঙ্গেই তিনি মন্তব্য করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার কলকাতায় অমিত শাহকেও এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানিয়ে দেন, যে দল পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ বানানোর কথা বলে, তাদের সঙ্গে কখনওই হাত মেলাবে না বিজেপি। তার চেয়ে ২০ বছর বিরোধী আসনে থাকা তাঁদের কাছে শ্রেয়।
মোদী বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে আমরা বাঙালিদের সংখ্যালঘু হতে দেব না আমরা। সকলে একজোট হয়ে ভোট দিতে যান। সরকার পরিবর্তন করুন। আপনাদের একটি ভোট আমাদের কাছে আশীর্বাদ।’’
মোদী বলেন, ‘‘এখানে রামনবমীর মিছিলেও হামলা হয়েছে। পাথর ছোড়া হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে।’’
মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূল বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে সরকার তৈরি করতে চায়। তা করতে দেওয়া যাবে না। তাই এই ভোট কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের ভোট নয়। বাংলার পরিচিতি বাঁচানোর ভোট।’’
মোদী বলেন, ‘‘অষ্টম বেতন কমিশনের কথা চলছে। তা থেকেও বাংলার সরকারি কর্মচারীরা বঞ্চিত হবেন না। ডিএ বেড়ে যাবে। সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা তাঁরা এখনই পেয়ে যাবেন।’’
জঙ্গিপুর থেকে নাম না-করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখ করেন মোদী। বলেন, ‘‘যুবসমাজকে ঠকিয়েছে তৃণমূল। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে দেখা গেল, শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠের বাড়িতে কোটি কোটি নগদ টাকা! বিজেপি ক্ষমতায় এলে এগুলো আর চলবে না। সব হিসাব হবে।’’
মোদী বলেন, ‘‘তৃণমূলের ১৫ বছর এই রাজ্যকে পিছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অন্যান্য রাজ্যের জিডিপি বাড়ছে। কিন্তু বাংলার জিডিপি কমছে। ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ হয়ে গিয়েছে।’’
জঙ্গিপুরের সভা থেকে তৃণমূলের পাশাপাশি বামেদেরও কটাক্ষ করেছেন মোদী। বলেছেন, ‘‘বাংলার মানুষ বামেদের সরিয়েছিল। অনেক আশা নিয়ে মা-মাটি-মানুষের কথা শুনে তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল তো বামেদের কার্বন কপি হয়ে গিয়েছে। সব গুন্ডা তৃণমূলে চলে এসেছে। বামেদের সব দুর্নীতি তৃণমূল নিয়ে নিয়েছে। এখন তারা আবার জয়ের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু ওরা ভুলে যাচ্ছে, এটা নেতাজির মতো বীরের ভূমি। তৃণমূলের ভয়ের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে বিজেপির ভরসা। তাই এ বার তৃণমূলকে বার বার বাংলা বলছে, এই সব চলবে না।’’ শেষ অংশটি একাধিক বার বাংলায় উচ্চারণ করেন মোদী।’’
মোদী বলেন, ‘‘দেশভাগের পর থেকে এখন পর্যন্ত যারা বাংলাকে চ্যালেঞ্জ করেছে, তাদের অহঙ্কার চূর্ণ হয়ে গিয়েছে। প্রথমে ইংরেজ, তার পর কংগ্রেস, বাম আর এ বার তৃণমূল। সকলের অহঙ্কার ভেঙে যাবে।’’
মোদী বলেন, ‘‘৪ মে-র পর তৃণমূল পালিয়ে যাবে। যারা জনতার অধিকার খাবে, তাদের জন্য কোনও রেড কার্পেট থাকবে না। জেলের দরজা খুলে দেওয়া হবে।’’ বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি চালু করা হবে বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘‘বাংলার মানুষ নিজেদের জন্যেই এ বার আসল পরিবর্তন করবেন।’’
বিজেপির ইস্তাহারে মহিলাদের জন্য মাসিক তিন হাজার ভাতার কথা উল্লেখ করেন মোদী। বলেন, ‘‘বাংলার মেয়েরা আর ভয় পাবেন না। এ বার থেকে তাঁরা আত্মসম্মানের সঙ্গে এগিয়ে যাবেন।’’ এমস, আইআইটির মতো প্রতিষ্ঠানও এ রাজ্যে চালু করা হবে বলে জানান মোদী।
জঙ্গিপুরের সভায় জনসমাগম দেখে উচ্ছ্বসিত মোদী। বলেন, ‘‘যে দিকে তাকাচ্ছি, শুধু মানুষ আর মানুষ। তৃণমূলের ঘুম উড়ে যাচ্ছে। পরিবর্তন নিশ্চিত।’’
মঞ্চ থেকে মোদী বাংলায় বলেন, ‘‘মুর্শিদাবাদে ইতিহাস কথা বলে। এখানকার ঐতিহ্য এখানকার ইতিহাস। এখানকার মানুষকে আমি প্রণাম জানাই।’’
শান্তনুর পর মঞ্চে উঠে বলতে শুরু করলেন মোদী। তাঁর জন্য কেউ কেউ উপহার এনেছেন, সেগুলি নিরাপত্তারক্ষীদের সংগ্রহ করে নিতে বলেন। প্রার্থীদের এবং জেলার নেতাদের সঙ্গে হাত মেলান তিনি।
শান্তনু বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।’’ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের অপশাসন, দুর্নীতিকে উৎখাতের ডাক দিয়েছেন শান্তনু।
জঙ্গিপুরের মঞ্চে এলেন মোদী। তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন শান্তনু এবং জেলা নেতৃত্ব। মোদীকে উত্তরীয় পরানো হয়েছে, উপহার দেওয়া হয়েছে ভারতমাতার একটি মূর্তি। পদ্মফুলের একটি মালাও মোদীকে পরানো হয়।
জঙ্গিপুরে চলে এসেছে মোদীর হেলিকপ্টার। তা দেখে উপস্থিত জনতা উচ্ছ্বসিত।
জঙ্গিপুরের মঞ্চে পৌঁছে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। মোদীর সঙ্গে মঞ্চে থাকবেন তিনিও।
মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে সভা করবেন মোদী। প্রচুর মানুষ সভাস্থলে উপস্থিত।
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার জনসভা দিয়ে শনিবার প্রচার শুরু করেছেন মোদী। সেখানে বিপুল জনসমাগম দেখে তিনি আপ্লুত। হেলিপ্যাড থেকে একটি ভিডিয়োবার্তাও দেন।