দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন চলছে শনিবার। ছবি: পিটিআই।
কমিশন জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার যে দুই বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছে, তাতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলেছে।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই বিধানসভার ১৫টি বুথের ভোটদানের হার ৮৬.৯ শতাংশ। ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে ভোট পড়েছে ৮৭.৬ শতাংশ এবং মগরাহাটের ১১টি বুথের ভোটদানের হার ৮৬.১১ শতাংশ।
বিকেল ৩টে পর্যন্ত দুই বিধানসভার ১৫টি বুথে ৭২.৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। ডায়মন্ড হারবারের চারটি বুথে ভোটের হার ৭২.৩৬ শতাংশ। মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি বুথে ভোটের হার ৭২.৫০ শতাংশ।
মগরাহাটের ইয়ারপুরে বিজেপি প্রার্থী গৌর সুন্দর ঘোষকে দেখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। ফলে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
বেলা ১টা পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনে ৫৫.৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ডায়মন্ড হারবারের চারটি বুথে ৫৪.৯ শতাংশ এবং মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি বুথে ৫৬.৩৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।
মগরাহাটের বুথে পুনর্নির্বাচনের লাইন। শনিবার। ছবি: পিটিআই।
বুথের বাইরে ভিড় ভোটারদের। শনিবার সকালে। ছবি: পিটিআই।
বেলা ১১টা পর্যন্ত দুই বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনে প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের হার ৩৬.৯৯ শতাংশ। মগরাহাট পশ্চিমে ভোট পড়েছে ৩৮.২ শতাংশ। ডায়মন্ড হারবারে ৩৫.৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে।
বুথের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি। শনিবার। ছবি: পিটিআই।
সকাল ৯টা পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাটের বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচনে ১৬.২৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। মগরাহাটের ১১টি বুথে ভোটের হার ১৬.৬৮ শতাংশ। ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে ভোটের হার ১৫.৮৩ শতাংশ।
মগরাহাট পশ্চিমের একটি বুথের সামনে সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে লাইন দিয়েছেন ভোটারেরা। তাঁদের দাবি, এই ওয়ার্ড শান্তিপূর্ণ। কখনও কোনও ঝামেলা হয় না। কেন পুনর্নির্বাচন হচ্ছে, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। দ্বিতীয় বার ভোট দিতে হচ্ছে বলে বাসিন্দাদের কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মগরাহাট পশ্চিমের বুথের সামনে পুনর্নির্বাচনের লাইন। শনিবার সকালে। —নিজস্ব চিত্র।
সকাল থেকেই পুনর্নির্বাচনের বুথগুলির সামনে লাইন দিয়েছেন মানুষ। দু’দিন আগে যে ভোট দিয়েছেন, তা বাতিল হয়ে গিয়েছে। ভোটারেরা জানাচ্ছেন, বিএলও বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুক্রবার রাতেই তাঁদের খবর দিয়েছেন, ফের ভোট হবে। তবে ভোট দিতে কোনও সমস্যা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
সকাল থেকে পুনর্নির্বাচনে মোটের উপর শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি। প্রথম এক ঘণ্টায় কোনও গোলমালের খবর আসেনি।
পুনর্নির্বাচনেও তৎপর কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ। বুথের সামনে কোনও জমায়েত করতে দেওয়া হচ্ছে না। এলাকায় জওয়ানেরা টহল দিচ্ছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় একাধিক বুথ থেকে গোলমালের অভিযোগ উঠেছে। স্ক্রুটিনির জন্য সেখানে গিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ফলতায় পুনর্নির্বাচন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ১১টি বুথ এবং ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোট হচ্ছে মগরাহাট পশ্চিমের ৪৬, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৪২, ২১৪, ২১৫, ২১৬, ২৩০, ২৩১, ২৩২ এবং ডায়মন্ড হারবারের ১১৭, ১৭৯, ১৯৪, ২৪৩ নম্বর বুথে।
ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাটের ১৫টি বুথে সকাল ৭টা থেকে পুনর্নির্বাচন শুরু হয়েছে। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
ভোটগণনা হবে আগামী ৪ মে। গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে কমিশন। ২৯৪টি আসনের ভোট গোনা হবে ৭৭টি কেন্দ্রে। তার আগে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইভিএম সংরক্ষণের ওই কেন্দ্রগুলিতে সিসি ক্যামেরার কঠোর নজরদারি রয়েছে।
সূত্রের খবর, দিল্লিতে পাঠানো প্রস্তাবে কমিশন-নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, ফলতার প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচন করা হোক। একই দাবি জানিয়েছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর মতেও, ফলতায় পুনর্নির্বাচন হওয়া উচিত। শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ-ও বলেন, ‘‘ডায়মন্ড হারবারে ৪টি এবং মগরাহাটে ১১টি বুথে পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। যদিও ডায়মন্ড হারবারে ১৬টি বুথে সমস্যা ছিল।’’
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (সিইও) চিঠি লিখে পুনর্নির্বাচন করানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ১১টি বুথ এবং ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল ৭টা থেকে ওই বুথগুলিতে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।