মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
ভোট গণনার ৭২ ঘণ্টা আগে শুক্রবার দীর্ঘ বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকাল ৫টা নাগাদ অভিষেক পৌঁছোন মমতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে। তার পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক হল দু’জনের। কী নিয়ে কথা হয়েছে তা তৃণমূলের তরফে জানানো হয়নি। তবে এ হেন দীর্ঘ বৈঠক নিয়ে শাসকদলের অন্দরে প্রত্যাশিত ভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার সকালেই তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়, শনিবার ২৯১টি কেন্দ্রের প্রার্থীদের হয়ে যাঁরা গণনার কাজে যাবেন, সেই ‘কাউন্টিং এজেন্ট’দের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক করবেন অভিষেক। কিন্তু অভিষেক-মমতার বৈঠক চলাকালীনই জানা যায়, শুধু অভিষেক নন, শনিবারের ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন নেত্রী মমতাও। তিনিও বার্তা দেবেন। গণনাকেন্দ্রের রণকৌশল কী হবে, সে ব্যাপারেই বার্তা দেবেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। শুক্রবারের বৈঠকেও দু’জনের মধ্যে জেলা এবং আসন ধরে গণনাকেন্দ্রে দলের রণকৌশল নিয়ে কথা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিমত অনেকের।
গত লোকসভা নির্বাচনে নির্দিষ্ট কিছু আসনের জন্য গণনার কাজে ‘বিশেষ পর্যবেক্ষক’ নিয়োগ করেছিল তৃণমূল। অভিষেকের পরিকল্পনাতেই তেমন পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়েছিল। যেমন তমলুক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে, আরামবাগের দায়িত্বে ছিলেন শান্তনু সেন এবং বাঁকুড়া লোকসভায় গণনা পর্যবেক্ষণে গিয়েছিলেন সমীর চক্রবর্তী। যদিও ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে ২৯১টি কেন্দ্রে এখনও তেমন কোনও পদক্ষেপ তৃণমূল করছে বলে শুক্রবার রাত পর্যন্ত খবর নেই। শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে মমতা বা অভিষেক কোনও নির্দেশ দেন কি না, তা-ও দেখার।
তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, দলের কাছে অভ্যন্তরীণ যে বিশ্লেষণ রিপোর্ট এসেছিল, শুক্রবার মমতা-অভিষেকের মধ্যে তা নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে নিয়ে শাসকদলের অন্দরে দু’রকম মতামত রয়েছে। একটি অংশের বক্তব্য, এ বারের ভোটে ৪৬টি আসন এমন অবস্থায় রয়েছে, যেখানে যে কেউ জিততে পারে। এ বাদ দিয়ে তৃণমূল সব চেয়ে কম হলেও ১৭৭টি আসন পাবে। আবার অভিষেক ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে, কোনও ভাবেই দল ২০৬-এর নীচে নামবে না। তাঁদের মতে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই রয়েছে বা যে কেউ জিততে পারে এমন আসনের সংখ্যা ২৭টি। এ হেন কোনও সমীক্ষার কথাই আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল জানায়নি। সবটাই আলোচিত হচ্ছে নিজেদের মধ্যে, ঘনিষ্ঠবৃত্তে। বরং দ্বিতীয় দফার ভোটের দিনই দলীয় সূত্রে বলা হয়েছিল, ২৩০টি আসন জিতবে তৃণমূল।
এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষাতেই দেখানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হতে চলেছে। ক্ষমতা হারাচ্ছে তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গে জিততে চলেছে বিজেপি। তার পর তৃণমূলের তরফে বলা হয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও সমীক্ষায় এগিয়ে ছিল বিজেপি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছিল উল্টোটা হয়েছে। বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করে ভিডিয়োবার্তায় তোপ দেগেছেন মমতা। এই সবের মধ্যেই শুক্রবার দীর্ঘ বৈঠক করলেন মমতা এবং অভিষেক। শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠকেও থাকবেন দু’জনে।