তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
চৌরঙ্গীর সভা থেকে নাম না-করে রাজ্যপাল আরএন রবিকে কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘২০০৫ সাল থেকে হিসাব নিয়েছেন লাটসাহেববাবু। আমি জানিও না। ক্যালকুলেট করছে। আপনার ক্যালকুলেটরটা বিজেপি-কে দিন। আর আপনি নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুন। আপনাকে সম্মান করে এ টুকু বললাম।’’
মমতা বলেন, ‘‘টাকার বান্ডিল নিয়ে ঘুরছ। সেই জন্য পুলিশ চেঞ্জ করেছ। আমার কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার চেঞ্জ করেছ। আমার একটা ছোট্ট গলিতে মিটিং ছিল। বলে কি না, পারমিশন হবে না। থাকে তো চম্পাহাটিতে। সুজনবাবুকে বলে সুজয়কাকু। আমাকে বলল মিটিং করতে দেবে না। আমি বললাম নো প্রব্লেম। আমি গিয়ে চা খেয়ে এলাম। আমার কাজ তো হয়ে গেল। মাইকে কথা নাই বললাম। আমার চা কথা বলে দিল।’’ শেষে মমতার বার্তা, ‘‘আগামী দিনেও সকলকে ভোট দিতে হবে।’’
মমতা বলেন, ‘‘আমাকে একজন বললেন, দিদি গ্রামে এখন হরিনাম শোনা যাচ্ছে না। আজানের শব্দ শোনা যাচ্ছে না। শুধু শোনা যাচ্ছে গট গট করে বুটের শব্দ। তোমরা সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এসেছ। পহেলগাঁওয়ের সময় কোথায় ছিল তোমাদের সাঁজোয়া গাড়ি?’’
মমতা বলেন, ‘‘এসআইআরের নাম করে ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে। ওদের লোক বসিয়েছে। ওরা আমার সঙ্গে যোগাযোগও রাখে না। নবান্নটাকে তছনছ করে দিয়েছে। এর দায়িত্ব কিন্তু ওদের নিতে হবে। কোনও ঘাপলা হলে সব ওদের ঘাড়ে যাবে। আমি সামলাব, আর তোমরা হামলা করবে, তা হতে পারে না।’’ তার পরেই মমতা বলেন, ‘‘বাংলার মানুষ জানে কী ভাবে ভোট রক্ষা করতে হয়।’’ বিজেপি সরকারকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘‘সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ সরকার।’’
ডিলিমিটেশন বিল সংসদে আটকে যাওয়া নিয়ে মোদী সরকারকে কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘তখনই বোঝা গিয়েছিল, মানুষের আস্থা নেই। পদত্যাগ করা উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর।’’
চৌরঙ্গীর সভা থেকে প্রথম দফার ভোটদানের হার নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘জানেন এত কেন ভোট পড়ছে? ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তুলেছি। ট্রাইবুনাল কিছু তুলতে পারেনি। সেটা ওদের নির্দেশে কাজ হয়েছে কি না জানি না। তবে মানুষ জানেন এটা তাঁদের অধিকার রক্ষার লড়াই। তৃণমূলকে ভোট না-দিলে আমও যাবে, ছালাও যাবে। তার অধিকার, সম্পত্তি, ঠিকানা, ব্যবসা যাবে। বিজেপির অত্যাচারের বিরুদ্ধে কেন ভোট দেবে?’’ মমতা বলেন, ‘‘মানুষ জানে এর পরে এনআরসি করার পরিকল্পনা করবে। ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে এসেছিল।’’
বিজেপি-কে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘‘ভোটের দিন এখানে এসে বলছেন আপনারা জিতছেন! কী ভাবে বলছেন? এটা তো জনগণ ঠিক করবেন। মহামুর্খ হন কী ভাবে। তা হলে কি ইভিএম মেশিন ফিট করে রেখে দিয়েছেন? না হলে বলেন কী ভাবে যত ভোট পড়ছে সব আপনার?’’
মমতা বলেন, ‘‘আজ সকাল থেকে এসেছিল গরম করতে। বিজেপির এজেন্ট তো নেই। ও তো এজেন্সি। চমকাতে এসেছিল প্রশাসনকে, যাঁরা এখন ওঁদের হয়ে কাজ করছেন তাঁদের।’’
ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে আবার কটাক্ষ করলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘আমি যদি কোনও দোকানে যাই তবে স্বতস্ফূর্ত ভাবে যাব। আগে থেকে নিশ্চয় টিভি ক্যামেরা ফিট করা থাকবে না। দোকানে আগে থেকে টিভি ক্যামেরা ফিট রেখেছিল। সিকিউরিটি দিয়ে ঝালমুড়ি বাড়ি থেকে বানিয়ে এনেছিল। পকেট থেকে সাজানো চকচকে নোট বার করেছিল। আমার কাছেও নেই।’’ তার পরেই মোদীর উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘এখন বলছে জিতে ঝালমুড়ি খাবেন। আপনাকে ভেলপুরি পাঠাব। দিল্লিতে পাওয়া যায়। ওখানে ঝালমুড়ি পাওয়া যায় না। আপনি ১০ টাকা নিয়ে এসেছেন। আগের বার বলেছিলেন চায়েওয়ালা, এখন ঝালমুড়ি দেখাচ্ছেন? ঝালমুড়ির ঝাল খেয়ে তো আমরা অভ্যস্ত। আপনি কখনও মাছভাত খেয়েছেন?’’
চৌরঙ্গীর সভা থেকে মমতা ব্যবসায়ীদের বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘‘বৌবাজার সোনার হাব। যখন মেট্রোর জন্য সব ভেঙে পড়েছিল, তখন আমি পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। পুনর্বাসন দিতে মেট্রোরেল বাধ্য করেছিল। ওদের ভুল পরিকল্পনার জন্য হয়েছিল। আমি এলাকায় এলাকায় ঘুরেছি। ভুলে যাবেন না, কোভিডের সময় বড়বাজার থেকে কোলে মার্কেট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন আমি রাস্তায় নেমেছিলাম। বাজার খুলিয়েছিলাম। যখন বড়বাজার থেকে শুরু করে সব জায়গায় ব্যবসায়ীদের তল্লাশি করা হচ্ছিল, কারা ছিল না, ইডি, সিবিআই, আয়কর। তখন আমি পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। আপনাদের দোকান, পাড়ায় ঘুরে বেরিয়েছিলাম।’’
প্রথম দফার ভোটের দিনেও প্রচার কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রথমেই তিনি চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মোড়ে একটি জনসভা করবেন। তাঁর দ্বিতীয় জনসভা যাদবপুরে। টালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস এবং যাদবপুরের দেবব্রত মজুমদারের সমর্থনে প্রচার করেন তিনি। দুই জনসভার মাঝে ভবানীপুরে নিজের কেন্দ্রে একটি পদযাত্রাও করার কথা মমতার।