নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।
‘‘বাঙালি বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশি। তোমাদের কী পরিচয় ভাই। কখনও ভাবি, ভাগ্যিস এখানে জন্মেছিলাম। না হলে আমাকেও বলে দিত অনুপ্রবেশকারী।’’
‘‘ক’দিন আগে ঝালমুড়ি খেয়েছেন। বলছেন, আমি ঝালমুড়ি খেয়েছি, তৃণমূলের ঝাল লেগেছে। আরে আমাদের কেন ঝাল লাগবে। ঝালমুড়ি তো বাড়ি থেকে তৈরি করা। যে দোকানে গেছ, সেখানে আগে গিয়ে ক্যামেরা ফিট করে এসেছ। স্পন্টেনিয়াস হলে ক্যামেরা ফিট করা থাকত না। আবার বলছে, ঝাল লেগেছে! ঝাল লাগেনি আমাদের। কাউন্টিংয়ের সময় ঝাল তো লাগবে তোমার। তখন জ্বলবে আর লুচির মতো ফুলবে।’’
‘‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি,ওদের লোক নেই। ট্রেনে-বাসে করে লোক ঢুকেছিল। ভবানীপুরেও কাল বাস ঢুকেছিল। আমরা ভাল করে মিষ্টি খাইয়েছি। বলেছি আবার খাওয়াব। যা যা চায়, তা-ই খাওয়াব।’’
‘‘আমরা চেয়ারকে রেসপেক্ট করি। কিন্তু কী করে আপনি বলছেন... আপনি আরও ঘুরুন। আপনার জন্য আমাদের ভোট আরও বাড়বে। কিন্তু আপনি কী করে বলছেন, ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সোজা করা হবে। হিংসার কথা বলছেন! আমি জানি, এঁদের বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নেবে না। কিন্তু আইনজীবী যাঁরা আছেন, তাঁদের বলছি কেস করুন। এ কথা হোম মিনিস্টার বলতে পারেন না। আমিও বলতে পারি না। আইন সকলের জন্য এক। আরে ঘরে ঘরে তো তৃণমূল। এত লোককে পেটাবেন!’’
‘‘আমোদী-প্রমোদী বাবুদের বলছি, বছরে ২ কোটি চাকরি দিয়েছেন? আমরা চাকরি দিয়েছি। দেশে ৪০ শতাংশ বেকারি বেড়েছে। আর বাংলায় ৪০ শতাংশ বেকারি কমেছে। কোথাও যেতে হবে না, আপনি হাওড়া থেকে বর্ধমান একদিন ন্যাশনাল হাইওয়ে ধরে যান। দেখবেন চারদিকে শুধু ইন্ডাস্ট্রি, ইন্ডাস্ট্রি আর ইন্ডাস্ট্রি। হিন্দমোটর কারখানার ৪০ একর জমি নিয়ে আমরা মেট্রো কেচের ফ্যাক্টরি বানিয়েছি। আগামী দিনে অনেক লোকের ওখানে চাকরি হবে। আরও অনেক শিল্প হবে। ছ’টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে।’’
‘‘দেশের জন্য কী করেছেন? খেয়েছেন। দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। নিজের নামে জ্যান্ত অবস্থায় স্টেডিয়াম! যেখানে আমরা কাজ করেছি, সেই লোকসভা ভেঙেছে। বিশ্বনাথের মন্দির করতে গিয়ে কতগুলো মন্দির ভেঙেছে। এরা ধর্মের নামে সর্বনাশ করছে। এরা দু’নম্বরি নয়, চার নম্বর। গান্ধীজিকে হত্যার জন্য তিনটে বুলেট চলেছিল। সেই তিনটে বুলেটের জবাব চাই।’’
অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে মমতার কটাক্ষ, ‘‘শুধু একটা রাজ্যে এ সব করছ। ভান্ডার সারা দেশে করো না কেন। বাজেটে তো নেই। এখানে এসে ভান্ডার দেওয়ার কথা মনে পড়েছে। বুদ্ধির গোড়ায় একটু ধোঁয়ার প্রয়োজন ওদের।’’
‘‘শুনুন, যাদের অন্নপূর্ণা ফর্ম বিলি করেছিল, বাঁকুড়ায় জঙ্গলমহলে সেই ফর্ম ভোটের পর গড়াগড়ি খাচ্ছে। আমরা এ সব করি না। আমরা যেটা বলি, সেটা করি। পেট্রলের দাম কমাতে উদ্যোগী হন না প্রধানমন্ত্রী। ইলেকশন চলে গেলে দেখবেন আবার দাম বাড়বে... পরিযায়ী শ্রমিকদের বলেছে, গীতা-কোরান ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করো, বিজেপিকে ভোট দেবে। ট্রেনের টাকা দেবে বলেছিল। বাড়ি আসার পর ২ হাজার টাকার স্লিপ ধরিয়ে দিয়েছে।’’
‘‘জয়রামবাটী থেকে মাহেশের রথ, উন্নয়নে কাজ করেছি। এখানে অনেক মন্দির-মসজিদ আছে। এই মাটি পুণ্যের... দেখেছেন বিজেপি কেমন খেপে গেছে! খুব চাপ, দৌড়োদৌড়ি করছে কেমন! আজ নাকি ৫০টা হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছে। আমরা তিনটে জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি। ওদের ৫০টা হেলিকপ্টার, ১৯টা চিফ মিনিস্টার, কেন্দ্রীয় সরকারের সব মিনিস্টার, কেন্দ্রীয় বাহিনী, সাঁজোয়া গাড়ি, ইডি-সিবিআই সব নিয়ে চলে এসেছে। আজকে আবার আমার খুব প্রিয় ভাই, মোটাভাই সিআরপিএফের, নন্দীগ্রামে যাকে ভোট লুট করতে পাঠিয়েছিল, তাকে নিয়ে মিটিংয়ে বসেছিল। মিটিং করে বলেছে, ভোট স্লো করে দাও। লোকে যেন ভোট দিতে না পারে। এ সব আরও কিছু বলেছে। আমি এ সব আইডিয়া করছি। আমার ভবানীপুরেও দায়িত্ব দিয়েছে। আমার বয়েই গেছে। তোরা কাঁচকলা করবি আমার।’’
‘‘এই মাটিতে প্রবীরদার দৌলতে অনেক বার আসার সুযোগ হয়েছে। ও কোন্নগরের এমএলও ছিল। আমি এখান থেকে চন্দননগরের প্রার্থী গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে জেতানোর বার্তা দিচ্ছি। এখান থেকে রিষড়া, কোন্নগরের মানুষকে আমাদের প্রার্থীদের জেতানোর আহ্বান করছি।’’
‘‘পুলিশ ভাইয়েরা আপনাদের এত সক্রিয় হওয়ার দরকার নেই। পরশু তো আমার বিধানসভা ভবানীপুরেও এক কর্মীকে পিটিয়েছে।’’ রোদ থেকে ছায়ার দিকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আসার সময় মন্তব্য মমতার। বললেন, গরমে চার জন মারা গিয়েছেন ভোটের দিন। পুলিশের এত সক্রিয়তার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘‘এক-এক জন করে ঢোকাচ্ছেন। আমার টাইমের দাম নেই বুঝি? আমারও আরও মিটিং আছে।’’
‘‘আমরা যারা উপরে বসে থাকি, তাদের চেয়ে বড় সম্পদ যারা নীচে বসে থাকে। আপনারা দেখেছেন কল্যাণ কেমন ফাইট করে লোকসভায়। আমি যখন লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি নিয়ে মামলা করলাম তখন কল্যাণ কাজ করেছে। চিন্তা করবেন না। সকলের নাম উঠবে।’’
উত্তরপাড়ার জোড়াপুকুর মাঠে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে সভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
উত্তরপাড়ায় জনসভার পর উত্তর দমদমে মমতা একটি পদযাত্রা করবেন। তার পর ভবানীপুরে পদযাত্রা এবং জনসভা মিলে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। শেষে বেহালায় আরও একটি জনসভা করবেন তৃণমূলনেত্রী।
হুগলির উত্তরপাড়ায় এ বার তৃণমূল প্রার্থী করেছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর সমর্থনে শনিবার উত্তরপাড়ায় জনসভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে দীপাঞ্জন চক্রবর্তীকে। সিপিএমের টিকিটে লড়ছেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।