West Bengal Elections 2026

দ্বিতীয় দফার আগে দুই বাঙালির নিয়োগে বার্তা মোদীর

অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নীতি আয়োগের চতুর্থ উপাধ্যক্ষ অশোক প্রথম বাঙালি। আর এই প্রতিষ্ঠানের আগের অবতার ‘যোজনা কমিশন’-এর শেষ বাঙালি উপাধ্যক্ষ ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৪৮
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নীতি আয়োগের নবনিযুক্ত ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নীতি আয়োগের নবনিযুক্ত ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রকাশ করা।

অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রের প্রাক্তন আর্থিক উপদেষ্টা অশোক লাহিড়ীকে নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ করেছে মোদী সরকার। আগে ওই পদে ছিলেন সুমন বেরি। বাঙালি স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী গোবর্ধন দাসকে করা হয়েছে কেন্দ্রের পরামর্শদাতা সংস্থাটির পূর্ণ সময়ের সদস্য। পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের ঠিক চার দিন আগে। বস্তুত, এ দফায় নীতি আয়োগের পুনর্গঠন করেছে কেন্দ্র। নবনিযুক্ত বাকি সদস্যেরা হলেন রাজীব গৌবা, কে ভি রাজু, এম শ্রীনিবাস এবং অভয় করন্ডিকর।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপির টিকিটে অশোক লাহিড়ীকে বালুরঘাট কেন্দ্রে জেতেন। জল্পনা ছিল, বিজেপি জিতলে তিনি অর্থমন্ত্রী হবেন। কিন্তু দল হেরে যায়। এ বারে বিজেপি তাঁকে টিকিট দেয়নি। তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও হয়। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বের মাথায় যে বৃহত্তর কৌশল কাজ করছিল, তা এখন স্পষ্ট। বৃহত্তর কলকাতার ভোটের ঠিক আগে অশোককে নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ নিয়োগ করল সরকার। এই দফার আসনগুলিতে গত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটে খারাপ ফল করেছিল বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, তৃণমূল যখন বিজেপির গায়ে বাঙালি-বিরোধী তকমা সাঁটার মরিয়া চেষ্টা করছে, ঠিক তখন বাঙালি আবেগকে উস্কে দেওয়ার আরও একটি তাস খেলল তারা। গোবর্ধন দলিত উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তান, সেই বিষয়টিও এ দিন ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বিজেপির তরফে।

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অশোক। পদাধিকার বলে নীতি আয়োগের অধ্যক্ষ প্রধানমন্ত্রী এক্স-এ লিখেছেন, ‘শ্রী অশোক কুমার লাহিড়ীজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে আমার শুভকামনা জানালাম। অর্থনীতি এবং জননীতিতে তাঁর সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ভারতের সংস্কারের পথ এবং ‘বিকশিত ভারত’ হয়ে ওঠার যাত্রাপথকে আরও শক্তিশালী করবে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, তাঁর প্রচেষ্টা আমাদের দেশের নীতি নির্ধারণকে আরও গতিশীল করবে। তাঁর ফলপ্রসূ কার্যকালের জন্য আমার অনেক শুভকামনা রইল’। গোবর্ধন দাসকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। ওই বিজ্ঞানীর পোস্টকে ফের পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘প্রফেসর গোবর্ধন দাসজি, অনেক অভিনন্দন!... জনস্বাস্থ্য, বিজ্ঞান এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আপনি যে অমূল্য অবদান রেখেছেন, তার জন্য সারা দেশ গর্বিত। আপনার কার্যকালের জন্য আমার আন্তরিক শুভকামনা রইল’। অশোককে অভিনন্দন জানিয়ে ‘বাংলার গর্ব’ বলে উল্লেখ করেছেন বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সদস্য হিসেবেও তাঁর কাজের কথা মনে করিয়েছেন তিনি।

অশোক নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের প্রাক্তনী। অর্থনীতিতে স্নাতক স্তরের পাঠ প্রেসিডেন্সি কলেজে (এখন বিশ্ববিদ্যালয়)। তার পরে গবেষণা স্তর পর্যন্ত ছিলেন দিল্লি স্কুল অব ইকনমিক্সে। ২০০২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৭ সালের জুন পর্যন্ত কেন্দ্রের প্রধান আর্থিক উপদেষ্টার ভূমিকায় ছিলেন। ২০১৫-এ বন্ধন ব্যাঙ্ক তৈরির সময়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সদস্য হওয়ায় ওই পদ থেকে ইস্তফা দেন। অর্থনীতিবিদ হিসেবে তাঁর কাজের মেয়াদ প্রায় চার দশক। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরে অশোক বলেন, “আমার নিয়োগ পশ্চিমবঙ্গের আগের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বীকৃতি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে অর্থশাস্ত্রের অনেক বিশিষ্ট মানুষ এসেছেন। ফলে এটা রাজ্যের জন্যও বড় সম্মান।”

গোবর্ধন ভোপালের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ডিরেক্টর। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমি পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রামের দলিত শ্রেণির এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান। শৈশব থেকেই মাটির গন্ধ, কঠোর পরিশ্রমের মূল্য এবং সংগ্রামের বাস্তবতা আমার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে। আজকের এই দায়িত্ব আমার কাছে শুধু একটি পদ নয়, আমারই মতো অগণিত সাধারণ মানুষের স্বপ্ন, আশা এবং বিশ্বাসের এক ছবি’।

অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নীতি আয়োগের চতুর্থ উপাধ্যক্ষ অশোক প্রথম বাঙালি। আর এই প্রতিষ্ঠানের আগের অবতার ‘যোজনা কমিশন’-এর শেষ বাঙালি উপাধ্যক্ষ ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ১৯৯১ সাল থেকে পাঁচ বছর ওই পদে ছিলেন তিনি। নীতি আয়োগের আগের সিইও ছিলেন বি ভি আর সুব্রমনিয়ম। মাস দেড়েক আগে হঠাৎই তাঁকে সরিয়ে নিধি ছিব্বরকে ওই পদে আনে কেন্দ্র। এ বার উপাধ্যক্ষ পদ থেকে সরানো হল সুমন বেরিকে। এ দিন প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘নীতি আয়োগ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ভাবনার গতিশীল মঞ্চ হিসেবে কাজ করে চলেছে’।

আরও পড়ুন