মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাতে অরবিন্দ কেজরীওয়ালের পরে এ বার ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের নেতা তথা জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাকেও পাশে পেলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দু’জন ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে কমিশনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট বলে সরব হয়েছেন শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) নেতা সঞ্জয় রাউত। তাৎপর্যপূর্ণ ইন্ডিয়া মঞ্চের অন্যান্য বিরোধী দল মমতার সমর্থনে সুর চড়ালেও নীরব কংগ্রেস। আর বিজেপির বক্তব্য, তৃণমূলের অনুরোধেই মুখ খুলছে বিজেপি-বিরোধী ওই দলগুলি।
পশ্চিমবঙ্গের ভোট ঘোষণার পরেই রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক রদবদল করে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে গত কাল সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই কমিশনের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেজরীওয়াল। তাঁর অভিযোগ, দিল্লির ধাঁচেই কমিশনকে হাতিয়ার করে পশ্চিমবঙ্গ দখলের ছক কষছে বিজেপি। আজ মমতার বক্তব্যকে সমর্থন করে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সমাজমাধ্যমে বলেন, ‘‘এ ধরনের ব্যাপক রদবদল শুধু অবিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গেই ঘটে থাকে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমি বিশ্বাস করি যে, আমলারা কোনও রাজনৈতিক দলকে ভোট জেতাতে পারেন না।ভোটে জেতান সেই দলের রাজনৈতিক কর্মীরা। নির্বাচন কমিশন ফলাফলকে প্রভাবিত করার যতই চেষ্টা করুক না কেন, কোনও লাভ হবে না।’’ পাল্টা ওমরকে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘(আপনি) জম্মু-কাশ্মীর নিয়েই থাকুন। মিথ্যা প্ররোচনায় কান দেবেন না। হয় আপনি পশ্চিমবঙ্গের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াকিবহাল নন, নচেৎ আপনি না জানার ভান করছেন। আমরা চাই না, পশ্চিমবঙ্গ ১৯৯০-এর দশকের কাশ্মীরে পরিণত হোক। যেখানে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপরে হামলার কারণে তাদের রাজ্যছাড়তে হয়েছিল।’’
বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস চুপ থাকলেও, মমতার পক্ষে সমর্থনের সুর শোনা গিয়েছে মহারাষ্ট্র থেকেও। অতীতে ঠিক একই ভাবে মমতাকে ইন্ডিয়া জোটের নেত্রী করার প্রশ্নে এক যোগে সুর চড়িয়েছিলেন এই দলগুলি। বিজেপির বক্তব্য, তাৎপর্যপূর্ণ হল, ওই দলগুলি যেমন বিজেপি-বিরোধী, তেমনই কংগ্রেসের সঙ্গেও বিশেষ সদ্ভাব নেই। তাই এই পরিস্থিতিতে মমতার সমর্থনে পাশে দাঁড়িয়েছে ওই ছোট দলগুলি। আজ সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে মমতাকে হারানো কেবল কঠিনই নয়, কার্যত অসম্ভব। তা জানেন অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদীরা। জানে নির্বাচন কমিশনও। তাই কমিশন পশ্চিমবঙ্গের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।’’ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই ভোট হচ্ছে বিজেপিশাসিত অসমে। কিছু দিন আগে ভোট হয়ে গিয়েছে এনডিএ-শাসিত মহারাষ্ট্রে।সে সব রাজ্যে কেন ভোটের সময়ে মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি-কমিশনারদের বদলি করা হচ্ছে না বা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সঞ্জয়। তাঁর দাবি, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছে। আবার তিনিই জিতবেন।’’