মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘ছাড়পত্র’ আগেই দিয়েছিল আমেরিকা। এ বার ইরানের তেলের উপর চাপানো নিষেধাজ্ঞায় আংশিক ছাড় দিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার তারা জানিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে যে জ্বালানি সঙ্কট এবং দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই এই পদক্ষেপ! তবে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে ৩০ দিনের জন্য। শুধুমাত্র সমুদ্রপথেই ইরানের তেল কেনা যাবে।
মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার এই ছাড়ের ফলে বিশ্ব বাজারে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল আসবে, যা জ্বালানি সরবরাহের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর ইরানের সন্ত্রাসী হামলার জবাবে জ্বালানি প্রবাহ সর্বোচ্চ রাখতে এই পদক্ষেপ। তবে বেসেন্ট এ-ও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অব্যাহত থাকবে। এই অভিযানে ফল মিলেছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।
বেসেন্ট বলেন, ‘‘বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের তেল সস্তায় কিনে মজুত করছে চিন। সেই শৃঙ্খল ভাঙতেই এই উদ্যোগ।’’ তবে মার্কিন অর্থ সচিব জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক ভাবে প্রত্যাহার করা হচ্ছে কেবল সেই সব তেলের ক্ষেত্রেই, যা সমুদ্রপথে রয়েছে। বেসেন্টের দাবি, বিশ্বের জ্বালানির বাজারে তৈরি হওয়া সঙ্কট দূর করতে বদ্ধপরিকর আমেরিকা। আর সেই কারণেই নানা পদক্ষেপও করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৪৪ কোটি ব্যারেল অতিরিক্ত তেল বিশ্ব বাজারে আনার বন্দোবস্ত করেছে।
চলতি মাসেই রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছিল আমেরিকা। প্রথমে তারা জানিয়েছিল, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ‘অনুমতি’ দেয় ভারতকে। তবে শর্ত একটাই, এই ছাড় কেবল সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলের ট্যাঙ্কার বা জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। পরে বিশ্বের অন্য দেশগুলির ক্ষেত্রেও একই ছাড়ের ঘোষণা করে আমেরিকা। এ বার ইরানের তেলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলল ট্রাম্প প্রশাসন।