বেলুড় মঠের অধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দ মহারাজের (বাঁ দিকে) সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
এক দিনে তিনটি জনসংযোগ কর্মসূচি। দু’টি জনসভা, একটি রোড শো। কিন্তু অন্তিমটি এমন এক মহল্লা ছুঁয়ে, যার স্থানমাহাত্ম্যের কারণ শৈশব থেকেই নরেন্দ্র মোদীকে আকর্ষণ করে। তাই পশ্চিমবঙ্গের এই স্নায়ু-টানটান নির্বাচনী প্রচারের মাঝেও প্রধানমন্ত্রী মোদী কিছুক্ষণের জন্য থামলেন। চড়া রাজনৈতিক সংগ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মুখে কিছুক্ষণের বিরতি নিলেন। ঘুরে এলেন বেলুড় মঠ থেকে। তার পরে শুরু করলেন বেলুড়ের রোড শো।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা পিছিয়েই চলছিল। রাজ্য বিজেপির তরফে বেলুড়ে রোড শো শুরুর যে ‘আনুষ্ঠানিক সময়’ জানানো হয়েছিল, তা পেরিয়ে যখন প্রায় সওয়া ঘণ্টা হয়ে গিয়েছে, তখন খবর আসে, কৃষ্ণনগর এবং কাকদ্বীপের জনসভা সেরে মোদী হাওড়ায় পৌঁছেছেন। কিন্তু রোড শো তখনই শুরু হচ্ছে না। কারণ, মোদী গিয়েছেন রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের প্রধান কার্যালয় বেলুড় মঠে।
শৈশব থেকেই রামকৃষ্ণ মঠ তথা সঙ্ঘের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন মোদী। সন্ন্যাস নেওয়ার বাসনায় একাধিক বার মঠের একাধিক শাখায় গিয়েছিলেন। কিন্তু রামকৃষ্ণ মঠের সন্ন্যাসীদের পরামর্শেই সন্ন্যাস না-নিয়ে সামাজিক কাজে মন দেন। আরএসএস হয়ে বিজেপিতে যান। গুজরাতে ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু সে দীর্ঘ যাত্রাপথেও রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সঙ্গে সম্পর্ক বহাল রাখেন। ফলে মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথম বার শপথ নেওয়ার আগে বেলুড় মঠ থেকে প্রসাদী ফুল গিয়েছিল মোদীর কাছে।
পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে এর আগেও একাধিক বার মোদী বেলুড় মঠে গিয়েছেন। সেখানে রাত্রিযাপনও করেছেন। এ বার অবশ্য বেলুড় মঠে তিনি থাকছেন না। রাতে কলকাতায় লোকভবনেই থাকছেন। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মঠে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা এবং স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। সঙ্ঘাধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দের সঙ্গে দেখা করেন। ঘুরে দেখেন মঠের নানা অংশ। গঙ্গার ধারের বারান্দাতেও কিছুটা সময় কাটান। তবে এই মঠ সফরকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির স্পর্শ থেকে দূরে রাখার বিষয়েও মোদী যত্নশীল ছিলেন। নিজের দলের কাউকে তিনি সঙ্গে নেননি। একাই গিয়েছিলেন বেলুড় মঠে। হাওড়া তথা বেলুড়ের রোড শো শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাতে লোকভবনে চলে যান। শুক্রবারও পশ্চিমবঙ্গে তাঁর জোড়া কর্মসূচি রয়েছে। প্রথমে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে জনসভা করবেন আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের সমর্থনে। দ্বিতীয় জনসভাটি করবেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার যাদবপুর সাংগঠনিক জেলায়।