ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: সংগৃহীত।
দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলকে নিশানা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তিনি অভিযোগ করেন, চা-বাগানের শ্রমিকদেরও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দিতে দেয় না তৃণমূল। পাকা বাড়ি সর্বত্র পাচ্ছেন মানুষ। কিন্তু এখানে প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। তার পরেও যাঁদের বাড়ি পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন।
‘‘এখানকার নির্মম সরকার যুবক-যুবতীদের পালিয়ে যাওয়ার অভিশাপ দিয়েছে। বাংলার যুবসমাজ মেহনতি। একসময় এই বাংলা সকলের আগে ছিল। আজ এখানকার যুবক-যুবতী না এখান থেকে ডিগ্রি পাচ্ছেন, না চাকরি। তাঁদের ভিন্রাজ্যে চলে যেতে হচ্ছে। প্রথমে কংগ্রেস, তার পর বাম এবং তৃণমূল... এরা একে একে এসেছে। নিজেদের পকেট ভরেছে। উন্নয়নের কাজ পড়ে থেকেছে। তৃণমূল সরকার প্রকাশ্যে চাকরি বিক্রি করেছে। এ বার সময় এসেছে এই হাল বদলের। বাংলায় যুবক-যুবতীরা এ বার বাংলায় কাজ পাবেন। এই স্বপ্ন পূরণের গ্যারান্টি মোদীর। তৃণমূল না নিজে কাজ করে, না অন্যদের কাজ করতে দেয়। কাটমানি না পেলে কোনও প্রকল্পকে গ্রামেগঞ্জে পৌঁছোতে দেয় না। তাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে পৌঁছোতে দেয় না। ’’
মোদী বলেন, ‘‘বাংলার নবনির্মাণ করবে বিজেপি। বাংলায় এখন আমাদের সরকার নেই। তা-ও কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে বাংলার উন্নয়নে রয়েছি আমরা। আজও ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন হল।’’
‘‘এ বার বাংলায় জঙ্গলরাজ খতম হবে। বাংলার প্রত্যেক কোণ থেকে আওয়াজ উঠছে, ‘চাই বিজেপি সরকার’। কাল তৃণমূল আপনাদের সবাইকে চোর বলে গালি দিয়েছেন। আসল চোর কে তা বাংলার তামাম মানুষ জানেন। কুর্সি বাঁচানোর জন্য এখানকার নির্মম সরকার সব হাতিয়ার বার করে ফেলেছে। আপনাদের আটকাতে গাড়ি থামিয়েছে। সেতু বন্ধ করেছে... কিন্তু নির্মম সরকার দেখে নাও, তোমরা কাউকে দমিয়ে রাখতে পারোনি। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। সে দিন আর দূরে নেই। এ বার আইনের শাসন শুরু হবে। যে আইন ভাঙবে, তাকে খুঁজে খুঁজে বার করা হবে।’’
‘‘আমার প্রিয় বাংলাবাসী। আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে প্রণাম।’’ বাংলায় ভাষণ শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ঐতিহাসিক ব্রিগেড’ থেকে তিনি বলেন, ‘‘যেখানেই চোখ পড়ছে, সেখানেই মানুষ। অদ্ভুত দৃশ্য।’’
‘‘১২০টি দেশকে কোভিডের সময় সাহায্য করেছেন। যিনি স্বপ্ন দেখতে পারেন এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতেন, সেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী এখানে উপস্থিত হয়েছেন।’’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক খোঁচা দেন সিপিএমকে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘এমন ভোটার লিস্ট কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানি সে যে আমার বঙ্গভূমি।’’ তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, ‘‘এখানে গণতন্ত্র আক্রান্ত, বিরোধী দলনেতা আক্রন্ত। এমনকি, রাষ্ট্রপতিও বাদ যায় না। তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত। তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে আর ক্ষমতায় ফিরছে না। আপনারা শান্তিপূর্ণ ভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন। মনে রাখবেন, মানুষ যাঁর উপর ভরসা রাখেন সেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখানে উপস্থিত।’’
‘‘যাঁরা রাষ্ট্রের বিরোধিতা করছে, তাঁদের কর্ণগোচর হওয়া দরকার। জোরে বলুন, ‘জয় শ্রীরাম’। লক্ষ লক্ষ মানুষ এসেছেন, তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ।’’ তিনি স্লোগান দেন, ‘‘বাঁচতে চাই, মা-বোনের সম্মান চাই, চাকরি চাই, চোরমুক্ত বাংলা চাই। তাই প্রধানমন্ত্রী বলে গিয়েছেন দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে ১ নম্বর ছিল বাংলা। বাংলার সেই গৌরব ফেরাবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গ্যারান্টার। আমরা তাঁর নেতৃত্বে ডবল ইঞ্জিন সরকার করব।’’
মঞ্চে পৌঁছোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এক দিকে শমীক ভট্টাচার্য অন্য দিকে বসেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস এবং উদ্বোধনের পরে ব্রিগেডে আর একটি মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক ভাষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সড়ক এবং রেল যোগাযোগ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, জলপথের সংস্কারও ততটাই প্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সে এ জন্য সংস্কার হচ্ছে। কলকাতা ডকেও সংস্কার হচ্ছে। এর ফলে পূর্ব ভারতের ‘লজিস্টিক সিস্টেম’ আরও উন্নতি হবে।
সরকারি অনুষ্ঠানে ভাষণ মোদীর। তিনি শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভাষণ শুরু করেন। তিনি জানান, রেলকে আধুনিক করার কাজ করছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ যেন পিছিয়ে না থাকে, সেই প্রয়াস শুরু করেছেন তাঁরা।
প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি জাহাজ চলাচল ও বন্দর-সম্পর্কিত প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সে পাঁচ নম্বর বার্থের সংস্কারের উদ্বোধন করেন। যা দ্রুত পরিবেশ-বান্ধব পণ্য পরিবহন সক্ষম করবে। তিনি খিদিরপুর ডকের সংস্কারের প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। এ ছাড়াও রেলপ্রকল্প রয়েছে।
সরকারি অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে রয়েছেন নতুন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। মোদীর হাতে গৌর-নিতাইয়ের মূর্তি তুলে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
ব্রিগেডে সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী। পাশে রাজ্যপাল।
রেসকোর্সে হেলিপ্যাড নামার পরে সড়কপথে ব্রিগেডের দিকে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী।
কপ্টারে পৌঁছোচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। রেসকোর্টে হেলিপ্যাডে অবতরণ করবে কপ্টার। ব্রিগেড থেকে প্রধানমন্ত্রীর নামে স্লোগান তুললেন নেতা-কর্মীরা।
৪২০ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের বেশ কয়েকটি জাতীয় সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সব মিলিয়ে খরচ প্রায় ১৬,৯৯০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও আরও বেশ কিছু প্রকল্পের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
রেসকোর্সে হেলিপ্যাডে প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার আসবে। সেখান থেকে ব্রিগেডে পৌঁছোবেন তিনি। প্রথমে প্রশাসনিক সভা এবং তার পরে ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’ করবেন মোদী।
সরকারি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে কলকাতা সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেডেই সরকারি মঞ্চ থেকে ১৮,৮৬০ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস এবং উদ্বোধন করবেন তিনি। তার পরে সেখানেই পৃথক মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক সভা করবেন। বিধানসভা ভোটের আগে কলকাতা শহরে মোদীর ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে স্বভাবতই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।