West Bengal Assembly Election 2026

ঠনঠনিয়ায় গিয়ে, পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে উত্তর কলকাতায় রোড শো মোদীর, রাস্তায় ভিড় সামলাতে হিমশিম খেল পুলিশ

রবিবার বিকেলে ঠনঠনিয়া কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে এবং পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে র‌োড শো শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। বিকে পাল অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয় এই রোড শো। তার পর শোভাবাজার, হাতিবাগান হয়ে তা শেষ হয় খন্না মোড়ে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৪
ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বিকেলে।

ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বিকেলে। ছবি: সংগৃহীত।

বাঙালির শাক্ত উপাসনার ঐতিহ্যকে স্মরণে রেখে ফের কালীর থানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বিকেলে ঠনঠনিয়া কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে এবং পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে র‌োড শো শুরু করলেন তিনি। বিকে পাল অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয় এই রোড শো। তার পর শোভাবাজার, হাতিবাগান হয়ে তা শেষ হয় খন্না মোড়ে।

Advertisement

এর আগে একাধিক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ‘জয় মা কালী’ বলে বক্তৃতা শুরু করেছেন। বাংলা এবং বাঙালির আবেগ ছুঁতেই তাঁর এই সুকৌশলি পদক্ষেপ বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। রবিবার দুপুরে দু’টি জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম সভাটি করেন উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে। দ্বিতীয় সভাটি করেন হুগলির হরিপালে। বিকেলে মোদীর কনভয় পৌঁছোয় ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির সামনে। সেখানে কালীর আরতি করেন। পুরোহিত কালীপ্রতিমার ফুল প্রধানমন্ত্রীর মাথায় ঠেকিয়ে আশীর্বাদ করেন।

পুজো দিয়ে মোদী চলে যান বিকে পাল অ্যাভিনিউতে। সেখান থেকে শুরু হয় রোড শো। কাশীপুর-বেলগাছিয়া, শ্যামপুকুর, বেলেঘাটা, মানিকতলা, চৌরঙ্গী, এন্টালি এবং জোড়়াসাঁকো এই সাত বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে রোড শো করেন মোদী। সাত প্রার্থীই প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে রাস্তার দু’ধারে ভিড়় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। কয়েকটি জায়গায় অস্থায়ী মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়।

ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। শোভাবাজার, হাতিবাগান-সহ কয়েকটি জায়গায় ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন উৎসাহী জনতার একাংশ। তবে মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে শেষ রবিবাসরীয় প্রচারে দু’টি জনসভা থেকেই তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদীর বক্তৃতায় আই-প্যাক মামলার প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা সৃষ্টি করছিল। প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। এই কাজ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতি বলেও মেনেছে আদালত।’’ তৃণমূলের ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান নিয়েও খোঁচা দেন মোদী। বলেন, “ ‘‘তৃণমূল মা-মাটি-মানুষ সকলকে ধোঁকা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতাদের মুখে মা-মাটি-মানুষ শব্দও বার হচ্ছে না। কারণ এরা মাকে কাঁদিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী এবং সিন্ডিকেটের হাতে মাটিকে তুলে দিয়েছে আর মানুষের উপর হিংসা, অত্যাচারের তলোয়ার ঝুলিয়ে রেখেছে।’’

তার আগে ঠাকুরনগরের সভা থেকেও তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেছিলেম প্রধানমন্ত্রী। মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে তিনি মতুয়াদের স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বলেন, “মতুয়া, নমশূদ্রদের বলব, আপনাদের নাগরিকত্ব, স্থায়ী ঠিকানা, কাগজ দেওয়া হবে, সব অধিকার দেওয়া হবে, যা ভারতের সকল নাগরিক পান। এটা মোদীর গ্যারান্টি।’’

দু’টি সভা থেকে প্রথম দফার ভোটের ফল নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রথম দফায় বাংলা কামাল করেছে। আর কি ঘুমাতে যাবেন, না কি জাগবেন? বুথে শক্তি দেবেন তো? প্রথম দফার রেকর্ড ভাঙবেন তো? প্রথম দফায় তৃণমূলের অহঙ্কার ভেঙে গিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বিজেপির জয় পাকা হচ্ছে।’’ বক্তৃতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রক্ত দাও, স্বাধীনতা দেব। দেশের মানুষ সব উজাড় করে দেন। আশীর্বাদ দিন, ভোট দিন, আমরা তৃণমূল থেকে মুক্তি দেব। জঙ্গলরাজ, ভয়, দুর্নীতি, মহিলা নির্যাতন, বেকারত্ব, অনুপ্রবেশকারী থেকে মুক্তি দেব।’’

Advertisement
আরও পড়ুন