—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
জগদ্দলে দুই দলের মধ্যে অশান্তির ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন জগদ্দল পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর গোপাল রাউতও। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাত থেকে জগদ্দল, ভাটপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। তবে অনেক অভিযুক্তের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে ওই সূত্রের দাবি। এই আবহে সোমবার সকালেই অভিযুক্তদের খুঁজে বার করে দ্রুত গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার ধৃতদের ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানোর কথা।
সোমবার জগদ্দলে জনসভা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগে, রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জগদ্দল। গন্ডগোলের সূত্রপাত হয় আটচলা বাগানে। ওই এলাকায় সন্ধ্যায় দুই দলের সংঘর্ষের খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র্যাফ নামে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জগদ্দল থানায় নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী তথা ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংহকে নিয়ে উপস্থিত হন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার। বিজেপির অভিযোগ, সেখানেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাঁদের উপর ইটবৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন অর্জুন। থানা থেকে বেরিয়ে রাজেশ আঙুল তোলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘আমার বিরুদ্ধে বিদায়ী চিফ মিনিস্টার মানুষকে উস্কেছেন। বলেছেন, সকলে বদলা নেবেন কি না। একটা থানার ভিতরে আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে। আইসি-রা পালিয়েছেন। গুন্ডারা এসে আমাদের লোকেদের পিটিয়েছে।’’
পাল্টা ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তের অভিযোগ, তাঁদের এক কর্মীকে মারধর করেছে বিজেপি। সেই সময় অভিযোগ জানাতে এলে অর্জুন এবং তাঁর অনুগামীরা তাঁদের উপর চড়াও হন। এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, দু'পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটবৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। রাতেও পুলিশবাহিনী মোতায়েন ছিল ওই এলাকায়।
অন্য দিকে, জগদ্দলের মেঘনা মোড়ে ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী তথা অর্জুনের পুত্র পবন সিংয়ের বাড়ির বাইরে গুলি-বোমা চলার অভিযোগ উঠেছে। পবনের দাবি, কী কারণে ঝামেলা, বাইরে তা দেখতে বেরিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তাঁর নিরাপত্তায় নিযুক্ত এক সিআইএসএফ জওয়ান। সোমবার সকালে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে অর্জুন অভিযোগ করেন যে, তৃণমূলের তরফেই হামলা চালানো হয়েছে। জগদ্দলের তৃণমূল প্রার্থী তথা এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম অবশ্য এই ঘটনার জন্য অর্জুনকে দায়ী করেছেন। নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থীকে গ্রেফতার করারও দাবি তুলেছে তৃণমূল।