কলকাতার সদ্য প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। ফাইল চিত্র।
রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। ৮১ জন পুলিশ ইনস্পেক্টরকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। সরানো হল ৬৮ জন সাব-ইনস্পেক্টরকেও। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, এই আধিকারিকেরা ভোটের কোনও কাজের সঙ্গে আর যুক্ত থাকতে পারবেন না। কলকাতার সদ্য প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে ভোটের দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যবেক্ষক হিসেবে তামিলনাড়ুতেই যেতে হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। শারীরিক অসুবিধার কথা জানিয়ে তামিলনাড়ুর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন সুপ্রতিম।
৮১ জন ইনস্পেক্টরকে নতুন দায়িত্বও বলে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বৃহস্পতিবার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁদের নতুন পদে দায়িত্ব নিতে হবে। কমিশনের নির্দেশে এঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারেরা। কমিশন জানিয়েছে এই পুলিশ অফিসারেরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভোটের কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না, এই মর্মে পুলিশ সুপারদের মুচলেকা দিতে হবে।
সাব-ইনস্পেক্টরদের বদলি সংক্রান্ত পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কমিশন। তাতে বলা হয়েছে, গত ২৯ মার্চ ১৫০ জন ইনস্পেক্টর এবং সাব-ইন্সপেক্টরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ৪৯ জন এসআই বিভিন্ন থানায় কাজ করছেন। সেই ৪৯ জন যে জেলায় কর্মরত, সেখান থেকে তাঁদের অন্য জেলায় সরিয়ে দিতে হবে। তাঁরা ভোটের কাজে কোনও ভাবেই যুক্ত থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া আর একটি বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে ১৯ জন সাব-ইনস্পেক্টরকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যে সমস্ত ইনস্পেক্টরকে ভোটের কাজ থেকে সরানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কোচবিহারের দু'জন, রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার চার জন, ইসলামপুর পুলিশ জেলার চার জন, আলিপুরদুয়ারের এক জন, দক্ষিণ দিনাজপুরের তিন জন, শিলিগুড়ির দু'জন, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তিন জন, বারুইপুর পুলিশ জেলার দু'জন, বারাসত পুলিশ জেলার তিন জন, বসিরহাট পুলিশ জেলার এক জন, বনগাঁ পুলিশ জেলার এক জন, ব্যারাকপুরের চার জন, বিধাননগরের ছ'জন, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার চার জন, রানাঘাট পুলিশ জেলার চার জন, আসানসোল দুর্গাপুরের এক জন, পশ্চিম মেদিনীপুরের তিন জন, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁচ জন, পুরুলিয়ার দু'জন, বীরভূমের দু'জন, জলপাইগুড়ির এক জন, মালদহের তিন জন, বাঁকুড়ার এক জন ইনস্পেক্টর রয়েছেন।
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে দুই দফায়। বর্তমানে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে। ভোট ঘোষণা হওয়ার পরেই রাজ্য প্রশাসনে ঢালাও রদবদল করেছে কমিশন। বদলে দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিব, পুলিশ কমিশনার, ডিজি-দেরও। প্রশাসনিক রদবদলে কমিশনের এই অতি তৎপরতাকে ভাল চোখে দেখছে না শাসক তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে একাধিক জনসভা থেকে এ বিষয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। এমনকি, সুপ্রতিমের তামিলনাড়ুতে পোস্টিং প্রসঙ্গেও কমিশনের সমালোচনা করেছিলেন মমতা। কিন্তু দেখা গেল,সেই সুপ্রতিমকেও অব্যাহতি দেওয়া হল না।