ভোটের মুখে নাকা চেকিংয়ের সময় গুলি, বন্দুক উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত।
বিধানসভা ভোটের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এ বারের ভোটে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করার বিষয়ে প্রথম থেকেই জোর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রতি ভোটের মতো এ বারও দিকে দিকে তল্লাশি, নাকা চেকিং চালাচ্ছে পুলিশ বা বিশেষ দল। প্রায় প্রতি দিনই কোথাও না কোথাও থেকে টাকা, অস্ত্র বা নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য উদ্ধার করছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে নাকা চেকিং বা তল্লাশির সময় টাকা এবং অস্ত্র উদ্ধারের খবর মিলেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে গুরুসদয় দত্ত লেন এবং আশুতোষ চৌধুরী অ্যাভিনিউয়ের ক্রসিংয়ে নাকা চেকিংয়ের সময় সন্দেহজনক একটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে তল্লাশির সময় ২৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। শনিবার সকালে তপসিয়া মোড়ে তল্লাশির সময় একটি গাড়ি থেকে দু’লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই টাকা কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, কোথা থেকে পাঠানো হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত কোনও প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি ওই গাড়ির চালক।
এ ছাড়াও, রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের বাসস্টপ থেকে অস্ত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, শনিবার গোপনে খবর পেয়ে ওই এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় সোহেল আখতার নামে বছর বিয়াল্লিশের এক ব্যক্তিকে প্রথমে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। জানা গিয়েছে, ছ’টি দেশি বন্দুক, ১৪টি ৮এমএম কার্তুজ পাওয়া যায় সোহেলের থেকে। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অন্য দিকে, ভোটের আগে কলকাতার বিভিন্ন হোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলির দিকেও নজর দিয়েছে লালবাজার। সূত্রের খবর, কলকাতার কতগুলি হোটেল বিনা অনুমতিতে চলছে বা লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে— তার তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকা রিপোর্ট আকারে জমা করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানাগুলিকে। সেই রিপোর্টের সঙ্গে আরও কয়েকটি বিষয় জুড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার।
সূত্রের খবর, কলকাতায় কতগুলি হোটেল বা গেস্ট হাউস আছে, তাদের মধ্যে কাদের লাইসেন্স আছে কাদের নেই, কতগুলির লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করা হয়নি— তা জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যাঁরা লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা-ও লিখিত আকারে জানতে চেয়েছে লালবাজার।