অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
মুর্শিদাবাদে রোড শোয়ের পর একযোগে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, অধীর চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীরকে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ভোটের সময় মুর্শিদাবাদে বিজেপির ‘তিন এজেন্সি’ কাজ করছে। এই ‘তিন এজেন্সি’ কী, তা ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ জানান, কমিশন, অধীরের কংগ্রেস এবং হুমায়ুনের মিম ও আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম— বিজেপির হয়ে কাজ করছে। অভিষেকের কথায়, ‘যাঁরা ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা বিজেপির দালাল।’’
শনিবার আল-আমিন মিশন গ্রাউন্ড থেকে জিগরি মোড় পর্যন্ত রোড শো করেন অভিষেক। সেই রোড শোয়ের পর তিনি সুর চড়ান বিজেপি, কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে নদী ভাঙন রোখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘ফরাক্কা এবং সমশেরগঞ্জের অন্যতম বড় সমস্যা হল নদীভাঙন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এবং সরকার বার বার কেন্দ্রকে চিঠি লিখে এই নদী ভাঙনকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করার আর্জি জানিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও কেন্দ্র কোনও পদক্ষেপ করেনি।’’
অভিষেক জানান, নদী ভাঙন প্রতিরোধ এবং সমস্যা মোকাবিলায় ১০০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যায় করে কাজের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তার পরেই তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘ফরাক্কা বাঁধে অনেক অব্যবহৃত জমি পড়ে আছে। সেগুলি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে। আমি কথা দিচ্ছি, আমরা পুনরায় নির্বাচিত হলে ওই জমিগুলি ফেরত পাওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করবে তৃণমূল।’’ অভিষেকের প্রতিশ্রুতি, ‘‘নদী ভাঙনের কারণে যাঁরা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তাঁরা সকলে সেই জমিতে একটি করে বাড়ি পাবেন।’’
নির্বাচনী প্রচার থেকে একযোগে বিজেপি, কমিশনকে নিশানা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘মুর্শিদাবাদে একটি বিপজ্জনক খেলা চলছে। বিজেপির তিনটি এজেন্সি এখানে কাজ করছে। প্রথমত, নির্বাচন কমিশন, যারা মানুষের নাম বাদ দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেস এবং তৃতীয়ত মিম এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি।’’ অভিষেকের আবেদন, ‘‘ভোটের সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আমাদের ভাগ করতে পারবেন না। যারা আমাদের মধ্যে বিভাজন করতে চায়, তাদের যোগ্য জবাব দিতে হবে।’’
অভিষেকের বক্তৃতায় উঠে এসেছে এসআইআর এবং নাম বাদের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘‘যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা দুশ্চিন্তা করবেন না। আমরা ৪ তারিখে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এক মাসের মধ্যে সকলের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেব।’’ একই সঙ্গে শুক্রবার লোকসভায় কেন্দ্রের আনা সংবিধান সংশোধনী বিল আটকে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা মহিলা বিলের কথা বলছে। কিন্তু ওটা মহিলা বিল ছিল না। ওটা ছিল ডিলিমিটেশন বিল। তৃণমূল কংগ্রেস দেখিয়ে দিয়েছে যে, বিজেপি চাইলেও দেশ ভাঙতে বা ভাগ করতে পারবে না।’’
অন্য দিকে, সবংয়ে এক তৃণমূল সমর্থকের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে হেনস্থা করার অভিযোগও তুললেন অভিষেক। এক্স পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘আমার নজরে এসেছে কয়েক জন গুন্ডা সবংয়ে আমাদের এক সমর্থকের বাড়িতে জোর করে ঢুকে, তাঁর কন্যার সামনে কটূক্তি করেছে। ভয় দেখিয়েছে।’ বিজেপির বিরুদ্ধেই এই হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, গণতান্ত্রিক ভাবে বিজেপি-কে জবাব দেবে এ রাজ্যের মানুষ।