অধীররঞ্জন চৌধুরীর উপস্থিতিতে তৃণমূল ও বিজেপি ছেড়ে শতাধিক কর্মী-সমর্থক যোগ দিলেন কংগ্রেসে। — নিজস্ব চিত্র।
বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই মুর্শিদাবাদে আবার নিজেদের হারানো গড় পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে কংগ্রেস। শুক্রবার বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলবদল ঘটল এলাকায়। অধীররঞ্জন চৌধুরীর উপস্থিতিতে তৃণমূল ও বিজেপি ছেড়ে শতাধিক কর্মী-সমর্থক যোগ দিলেন কংগ্রেসে।
বড়ঞার গড্ডা ও সবলদহ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মহিষগ্রাম থেকে ৩০টি পরিবারের সদস্যেরা শাসক দল ও গেরুয়া শিবির ত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি সুন্দরপুর অঞ্চল থেকেও বেশ কিছু পরিবার অধীরের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন। নব্য যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা বহরমপুর বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, ‘‘বড়ঞা বরাবরই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। মাঝপথে কিছু মানুষ বিভ্রান্ত হলেও আজ ফের তাঁরা ঘরের ছেলে হয়ে ঘরে ফিরছেন। আমরা এই হারানো জমি পুনরুদ্ধার করে বড়ঞাকে আবারও কংগ্রেসের অপরাজেয় দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলব।’’
শুক্রবারের সভায় কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এসসি (তফসিলি জাতি) সংরক্ষিত এই আসনে বরাবরই কংগ্রেসের একটা প্রভাব ছিল। নির্বাচনের ঠিক মুখে এই দলবদল বড়ঞার ভোটের সমীকরণে শাসক দলের রক্তচাপ বাড়াতে পারে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, অধীরের এই সভা এবং নিচুতলার কর্মীদের এই যোগদান আগামী দিনে এলাকায় দলের সাংগঠনিক শক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। যদিও তা মানতে নারাজ তৃণমূল। দলের মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ‘‘ওরা কংগ্রেসেই ছিল। ভোটের আগে হাওয়া গরম করার জন্য নাটক চলছে। এর কোনও প্রতিফলন হবে না।’’ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য মোস্তফা কামাল এবং রানিনগরের পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দিলশাদ হোসেন-সহ ওই পঞ্চায়েতের ১৪ জন সদস্য অধীরের হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।