রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সিইও মনোজ আগরওয়াল। — ফাইল চিত্র।
অতীতে ভোটে হিংসা ছড়ানো এলাকায় পরিদর্শনে এসেছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সিইও মনোজ আগরওয়াল। জমি আন্দোলনের আঁতুড় নন্দীগ্রামে এসে তাঁকে পড়তে হল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বাসিন্দাদের প্রশ্নের মুখে। ভোটের পরে হিংসা ছড়ালে নির্বাচন কমিশন পাশে থাকবে তো, শুনলেন সে প্রশ্নও।
শনিবারে পূর্ব মেদিনীপুরের নিমতৌড়িতে জেলার পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে নন্দীগ্রাম ও ময়নায় অতীতের অশান্তির কথা শোনেন মনোজ। এর পরেই রবিবার সেখানে যাওয়ার কথা জানান। এ দিন নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের দক্ষিণ কেন্দামারির একটি বুথ ঘুরে দেখে তিনি গাড়িতে ওঠার সময়ে, কয়েক জন বাসিন্দা জড়ো হন।
মতিউর রহমান নামে এক জন প্রশ্ন করেন, ‘‘ভোটার তালিকা থেকে আমাদের নাম বাদ গিয়েছে। এখন আমরা কী করব?’’ সিইও বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গোটা প্রক্রিয়াটা দেখছেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকেরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো, ট্রাইবুনালেআবেদন করুন।’’
নন্দীগ্রামের চিল্লোগ্রাম, সরস্বতীপুর ও বঙ্কিম মোড়েও যান মনোজ। এ সব এলাকায় গত বিধানসভা ভোটের আগে-পরে অশান্তি বেধেছিল। বাসিন্দাদের মনোজ আশ্বাস দেন, এ বার ভোট শান্তিপূর্ণ হবে। বঙ্কিম মোড়ে স্থানীয় এক মহিলা জানতে চান, ভোটের পরে নির্বাচনী আধিকারিকেরা পাশে থাকবেন কি না। মনোজ তাঁকে বলেন, ‘আমরা আছি।’
বিকেলে মনোজ পটাশপুরের সাউৎখণ্ড পঞ্চায়েতের গোপালপুর এবং ঘোঙায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বললেন। রাতে যান ময়নার বাকচায়। বিজেপির জেলা (তমলুক) সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালের দাবি, ‘‘২০২১ সাল থেকে সব নির্বাচনের পরে তৃণমূলের হিংসা মানুষ দেখেছেন। আমরা সর্বদল বৈঠকে হিংসা বন্ধের জন্য একগুচ্ছ প্রস্তাব রেখেছি।’’ নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা শেখ শামসুল ইসলামের পাল্টা দাবি, ‘‘কমিশন বিজেপিকে জেতাতে কাজ করছে। কিন্তু লাভ হবে না।’’