ট্রাইবুনাল গঠনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নবান্নের। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এই সংক্রান্ত কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের ট্রাইবুনালের সঙ্গে অবিলম্বে যুক্ত করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নবান্ন থেকে জারি হওয়া এক নির্দেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং নির্বাচন কমিশনের ২০ মার্চ ও ৩ এপ্রিল ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি অনুসারে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফেও ট্রাইবুনালের জন্য সচিব পর্যায়ের সহায়তা প্রদানের নির্দেশ ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এই কর্মীনিয়োগ ও সংযুক্তিকরণ। এই ট্রাইব্যুনালটি গঠিত হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টি. এস. শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বে। তাঁর অধীনে গঠিত অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের কাজে সহায়তার জন্য বিভিন্ন পদে কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, স্টেনোগ্রাফার, আপার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং গ্রুপ ডি কর্মীরা।
সরকারি নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থ, পরিবহণ, পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি এবং অন্যান্য দফতর থেকে একাধিক কর্মীকে এই ট্রাইবুনালের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বজিৎ বাগ, সোমনাথ সাঁতরা, প্রণজিৎ রায়-সহ আরও অনেকে। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবিলম্বে ট্রাইবুনালের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার তদারকির জন্য এক জন নোডাল অফিসারও নিয়োগ করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার এই দায়িত্বে রয়েছেন সুজয় সাধু, যিনি বর্তমানে প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দফতরের সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি পদে কর্মরত। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্মীকে ৬ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সল্টলেকের বিডিএ ভবনে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। এই ট্রাইবুনাল গঠন ও কর্মী সংযুক্তিকরণ জনস্বার্থে করা হয়েছে বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখছে প্রশাসনিক মহল। বিশেষ করে নির্বাচন সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই ট্রাইবুনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।