বাঁ দিকের ছবি: পিটিআই। ডান দিকের ছবি: সারমিন বেগম।
সোমবার রাতেও যে রাস্তায় বিধিনিষেধ ছিল, সকাল হতেই সেই পথ অবাধ!
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে যাওয়ার গলির মুখে ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’ ছিল, তা সরিয়ে দেওয়া হল মঙ্গলবার সকালে।
এত দিন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রীর বাড়ির দিকে রাস্তায় এগোনোর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ছিল। পরিচয় জানতে চাওয়া হত। কী কাজ, কার সঙ্গে দেখা করবেন, এমন নানা প্রশ্ন করতেন মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিবেশীদেরও বাড়ি থেকে বার হওয়ার সময় পকেটে কিংবা ব্যাগে আধার কার্ড নিতে হত। এক রাতেই সে সব অতীত। বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক পরের দিন সকালে দেখা গেল, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখে নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কাউকে আটকাচ্ছেন না। ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’-ও খোলা। দক্ষিণ কলকাতার ‘কড়াকড়ি গলি’ এখন অবাধ।
তৃণমূলের ভরাডুবি এবং বিজেপির বিপুল জয়ের প্রেক্ষিতে সোমবার রাতে কালীঘাট জুড়ে মিছিল করেছেন পদ্মশিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরের রাস্তাতেও বাইক নিয়ে মিছিল হয়েছে। কিন্তু সোমবার রাতে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখে একই রকম ভাবে ছিল ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’। অর্থাৎ, দুটো গার্ডরেল কাঁচির মতো করে রাস্তার মুখে রাখা থাকত। পথচারীরা কেউ ওই গলি দিয়ে যেতে চাইলে জিজ্ঞাসাবাদ করে তবেই ছাড়পত্র দিতেন নিরাপত্তারক্ষীরা। ফাঁক হত ব্যারিকেড। গলিতে ঢুকলেই আবার বন্ধ হত ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’। এলাকায় থাকতেন সাদা পোশাকের পুলিশও। গলিতে ঢোকা যে কোনও আগন্তুকের দিকে নজর থাকত তাঁদের। গাড়ি নিয়ে ঢুকলেও বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ, তথ্য যাচাই করে তবেই গলি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি মিলত।
কিন্তু সকাল হতেই দেখা গেল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সেই কাঁচির মতো ব্যারিকেড একদিকে সরানো। মঙ্গলবার সকালে শশব্যস্ত এক যুবককে ওই গলি দিয়ে বার হয়ে আসতে দেখা গেল। পরিচয় জিজ্ঞাসা করায় তিনি জানালেন, নাম রাজু মাহাতো। মমতার প্রতিবেশী। ঠিক উল্টো দিকের বাড়িতে থাকেন। ব্যারিকেড সরে যাওয়ার কথা তুলতেই তিনি বললেন, ‘‘দেখতেই তো পাচ্ছেন, যাওয়া-আসায় কোনও বাধা নেই।’’
হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, পাড়ার মুদিখানায় ডিম কিনতে গেলেও পকেটে টাকার সঙ্গে সঙ্গে আধার কার্ড রাখতে হত। নিজের বাড়িতে আসতে গেলেও বলতে হত, ‘‘ওই যে ওখানে আমার বাড়ি।’’ নিজের নাম, বাবার নাম ইত্যাদি বললে তবেই মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় ঢোকা যায়। কিন্তু ফলঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব কড়াকড়ি শেষ!
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে ব্যারিকেড সরে যাওয়া প্রসঙ্গে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশকর্তার মন্তব্য, ‘‘যেন বার্লিন পাঁচিল ভাঙল!’’