মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা কলকাতা হাই কোর্ট খারিজ করতেই এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল। তাদের মামলা গ্রহণ করেছে শীর্ষ আদালত। শনিবারই এই মামলার শুনানি হবে। মামলার শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ সকাল সাড়ে ১০টায় তৃণমূলের দায়ের করা মামলা শুনবে।
ভোট গণনাকেন্দ্রে কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার বা তাঁর সহকারী বা অন্যান্য গণনাকর্মী হিসাবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করছে নির্বাচন কমিশন। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। তাদের আবেদন ছিল, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারে না। মাইক্রো অবজ়ার্ভার হিসাবে কেন্দ্রীয় কর্মচারী নিযুক্ত করায় আপত্তি নেই তৃণমূলের। তবে বাকি গণনাকর্মীরাও কেন কেন্দ্রীয় সরকারি সরকারি কর্মচারী হবেন? কেন সেখানে রাজ্য সরকারের কর্মীরা থাকবেন না?এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক আদালত। প্রত্যেক গণনার টেবিলে কমপক্ষে এক জন কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার বা সহকারী হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী নিয়োগের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন, তাতে হস্তক্ষেপ করেনি হাই কোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও শুনানিতে জানান, কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের নিয়োগ বৈধ। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কমিশনের সিদ্ধান্তে বেআইনি কিছু নেই। মামলাকারীর অভিযোগ প্রমাণহীন। যদি ভবিষ্যতে গণনায় কারচুপি প্রমাণ হয়, তবে ইলেকশন পিটিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেল তৃণমূল।
প্রথম দফার ভোট শেষ হয়েছে ২৩ এপ্রিল। আর দ্বিতীয় দফার ভোট হল বুধবার, ২৯ এপ্রিল। রাজ্য জুড়ে দু’দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণই হয়েছে। এ বার রাজ্যে ভোটগণনা কেন্দ্রের সংখ্যা আগের চেয়ে কমিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২৯৪টি আসনের জন্য ৭৭টি কেন্দ্রে ভোট গণনা হবে। কোন জেলায় কোথায় কোথায় গণনা চলবে, তার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা ধরে ধরে গণনাকেন্দ্রের ঠিকানাও জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। সাধারণত একটি গণনাকেন্দ্রে ১৪টি টেবিল থাকে। প্রত্যেক বার ১৪টি টেবিলে গণনা সম্পন্ন হলে এক রাউন্ড হয়। ওই টেবিলগুলিতে কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার বা সহকারী হিসাবে কমপক্ষে এক জন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্তেই আপত্তি তৃণমূলের।