বুধবার মেখলিগঞ্জে ২৪ ঘণ্টার অনশনমঞ্চে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী। — নিজস্ব চিত্র।
এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় এ বার ২৪ ঘণ্টার অনশনে বসলেন কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী। দু’দিন আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহও একই ভাবে ২৪ ঘণ্টার অনশনে বসেছিলেন। এ বার সেই একই পথে পরেশও। ২৪ ঘণ্টার অনশন এবং ১৫ মার্চ পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনি।
গত শুক্রবার কলকাতায় ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমাপ্তি হয় সেই কর্মসূচির। মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি ছিল। আদালতের সে দিনের শুনানি পর্বের কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, “যে দরজাটা একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেই দরজাটা অনেকটাই খোলা হয়েছে।” সেই কারণে আপাতত ধর্না তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেন তৃণমূলনেত্রী।
এ বার এসআইআর-এর মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ তুলে অনশনে বসলেন পরেশচন্দ্র। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মেখলিগঞ্জ মহকুমাশাসকের দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে তৃণমূল। এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক।
অনশন এবং অবস্থান মঞ্চ থেকে পরেশ বলেন, “এসআইআর-এর নামে বৈধ ভোটারদের নাম কাটার প্রতিবাদ তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই অনশন অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না এবং প্রত্যেকে ট্রাইবুনালে দরখাস্ত করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে আমরা স্বাগত জানাই।”
বস্তুত, এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলা নাম জড়িয়েছিল পরেশকন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর। সেই পরেশেরই এই অনশন এবং অবস্থান কর্মসূচিকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি শিবির। বিজেপির কোচবিহার জেলার সহ-সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, “এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করছেন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা। উদয়নবাবু অনশন করেছেন। তাঁর দেখাদেখি পরেশবাবুও সেই পথেই হাঁটছেন, যিনি কিনা চাকরি কেলেঙ্কারিতে জড়িত। তিনি অনশন করতেই পারেন, তবে নির্বাচন কমিশন কারও প্রভাবে বা কারও কথায় চলে না।”