অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
বিজেপি বুথে বসার টাকা দিলে তা নিয়ে নিতে বললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ভোট তৃণমূলকেই দেওয়ার আর্জি জানালেন তিনি। শুক্রবার বিনপুরে গিয়ে এ ভাবেই রাজ্যের মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার হয়ে প্রচার করলেন অভিষেক। মনে করিয়ে দেন, তাঁকে নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য। অভিষেক জানান, বিরবাহাকে হেনস্থা করে জনজাতিদেরই হেনস্থা করেছে সরকার। তাঁর দাবি, রাজ্যে ভোট মিটলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করবে নরেন্দ্র মোদী সরকার। তার পরে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়াতেও জনসভা করেন অভিষেক। সেখানে গিয়ে তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন। পাঁশকুড়া তমলুক লোকসভার অন্তর্গত।
শুক্রবার অভিষেক ঝাড়গ্রামের বিনপুরে গিয়ে বিজেপির নাম না করে বলেন, ‘‘মন দিয়ে শুনুন, তারা বুথে বসার জন্য টাকা দিচ্ছে। টাকা নিন, ওটা আপনাদেরই টাকা আর তার পর তৃণমূলকে ভোট দিন। আমি জানি আমার মানুষজন বিশ্বাসঘাতক নয়। আমাদের ঠকানোর জন্য তাদের উচিত শিক্ষা দিন। বিরবাহা হাঁসদাকে ভোট দিন।’’ বিরবাহাকে কী ভাবে হেনস্থা করেছে বিজেপি, তা-ও তুলে ধরেছেন তিনি। অভিষেক জানান, রাজ্যবাসীর ‘ন্যায্য পাওনা’র দাবিতে যখন দিল্লিতে গিয়েছিলেন তাঁরা, তখন তাঁদের হেনস্থা করা হয়। সেই দলে ছিলেন বিরবাহাও। অভিষেকের কথায়, ‘‘এক দিকে দোলা সেন এবং অন্য দিকে বিরবাহা হাঁসদা ছিলেন— আমাদের আন্দোলনের সময় দিল্লি পুলিশ ওঁদের মেঝেতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং হেনস্থা করে। আর তার পর তারা আদিবাসীদের প্রতি তাদের ভালবাসা ও শ্রদ্ধার কথা বলে?’’
এর পরেই শুভেন্দুর একটি মন্তব্য তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেছেন যে, দেবনাথ হাঁসদা এবং বিরবাহা হাঁসদার মতো নেতারা আমার জুতোর নীচে থাকেন, আর তার পর তারা নীতিকথা বলতে আসে।’’ সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর রাজ্য সফর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি নিজে এই রাজ্যে জনজাতির উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই আবহে অভিষেক বলেন, ‘‘যে বিজেপি রামনবমী পালন করে, ভারতের রাষ্ট্রপতি জনজাতি হওয়ার কারণে তারা তাঁকেও রাম মন্দিরের উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানায়নি।’’ লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে যুবসাথী— রাজ্য সরকারের প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন অভিষেক। মনে করান ভোটের আগে তৃণমূলের করা ‘প্রতিজ্ঞা’র কথা। তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সুবিধা আর থাকবে না। এমনকি, গ্যাসের দামও বেড়ে যাবে। তাঁর কথায়, ‘‘আমার কথা মিলিয়ে নেবেন, ভোট শেষ হওয়ার দিনই এলপিজি ২,০০০ টাকা এবং পেট্রল-ডিজ়েল ২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।’’ তিনি এ-ও জানান, বিজেপি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করতে চাইছে। তাঁর কথায়, ‘‘তারা শুধু আমাদের ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট নয়, তারা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনকেও নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র দল, যারা এর বিরুদ্ধে লড়ছে।’’
বিনপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডুর বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলের একাংশ। সেই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘এক দিকে আপনাদের কাছে ঘরের মেয়ে বিরবাহা রয়েছেন। অন্য দিকে, বিজেপির কর্মীরাই তাঁদের প্রার্থীর নির্দেশ মানছেন না। তিনি হাওড়ার লোক। গত লোকসভা নির্বাচনে কালীপদ সরেনের কাছে তিনি দেড় লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়েছিলেন। আর এখন তিনি আবার লড়ছেন। কোনও ছাত্র যদি বার বার ফেল করে, তবে স্কুলও তাকে বার বার সুযোগ দেয় না।’’
এর পরে পাঁশকুড়া পূর্ব কেন্দ্রের প্রার্থী অসীমকুমার মাজির হয়ে ভোট চেয়ে অভিষেক কটাক্ষ করেন অভিজিৎকে। একই সঙ্গে এসআইআর নিয়ে আবার আঙুল তোলেন কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে। তিনি বলেন, ‘‘অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে যাঁরা ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তাঁরা এখন অবৈধ, অথচ তিনি বৈধ? যে মানুষগুলো প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তারা যদি অবৈধ হয়ে যান, তবে প্রধানমন্ত্রী বৈধ হন কী ভাবে? মানুষকে যদি লাইনে দাঁড় করিয়ে তাদের নাম বিচারাধীন রাখা হয়, তবে প্রধানমন্ত্রীর নাম কেন বিচারাধীন থাকবে না?’’ তিনি বলেন, ‘‘গত বারও পাঁশকুড়া থেকে আমাদের প্রার্থী জিতেছিলেন এবং এ বারও আমাদের জয় নিশ্চিত করতে হবে।’’