বিধানসভা নির্বাচনে যুযুধান (বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
গত ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের পর সন্ধ্যা থেকেই বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। অধিকাংশ সমীক্ষাতেই দেখা যায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। ১৫০ থেকে ২০০-র বেশি আসন পেয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বুথফেরত সমীক্ষাগুলি। কোথাও কোথাও তৃণমূলকেও এগিয়ে রাখা হয়েছে।
এ বারের বিধানসভা ভোটে আলোচনার কেন্দ্রে ভবানীপুর কেন্দ্র। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করেছে শুভেন্দু অধিকারীকে। শুভেন্দু নন্দীগ্রাম থেকেও ভোটে দাঁড়িয়েছেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তাই আলাদা করে এ বার এই দ্বৈরথের দিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
বিজেপির বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একতরফা বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল দেখাতে বাধ্য করার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩০ এপ্রিল সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তায় দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করেন। জানান, ২২৬ পেরিয়ে যাবে তৃণমূল।
এসআইআর-এর ফলে ৯০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত, নিখোঁজ ভোটারও রয়েছেন।
২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার ছিল ৭.৩৪ কোটি। এসআইআর-এর পর ২০২৬ সালে ৫১ লক্ষ ভোটার কমেছে। এখন ভোটারের সংখ্যা ৬.৮২ কোটি। তবে ২০২১ সালে ভোট দিয়েছিলেন ৬.০৩ কোটি মানুষ। এ বার ভোট দিয়েছেন ৬.৩৩ কোটি মানুষ। অর্থাৎ, মোট ভোটারের সংখ্যা কমলেও ভোটের হার বেড়েছে। নাম বাদ যাওয়ার ভয়ে অনেকে দূরদূরান্ত থেকে শুধু ভোট দিতে এসেছেন। ২০২১ সালের তুলনায় বিধানসভা প্রতি এ বার গড়ে ভোটদান বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ হাজার।
এসআইআর-পরবর্তী নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের হার নজিরবিহীন। ৯২.৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে দুই দফা মিলিয়ে। শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্যই নয়, সারা দেশের ভোটদানের নিরিখে এই হার সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে এ রাজ্যে ভোটের হার ছিল ৮২.১৭ শতাংশ।
এ বারের ভোটে প্রথম থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। বিজেপির দাবি, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য এই ছাঁকনির প্রয়োজন ছিল। এর মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন। তবে তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেসের মতো দলগুলি এসআইআর-এর কারণে মানুষের হেনস্থার দিকটি তুলে ধরে বিজেপি-কে আক্রমণ করেছিল। অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কমিশনকে কাজে লাগিয়েছে বিজেপি। এসআইআর-এর জন্য নথিপত্র হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সকলকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল। ২১৫টি আসনে তারা জিতেছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। এ ছাড়া, দু’টি আসনে জয় পায় অন্যেরা। মূলত উত্তরবঙ্গ এবং পশ্চিমাঞ্চলের কিছু আসন বিজেপি জিতেছিল। এ বার তারা সেগুলি ধরে রাখতে পারে কি না, সেটাই দেখার।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ড হারবারেও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। ওই দুই বিধানসভার ১৫টি বুথে কমিশন পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। ২ মে, শনিবার বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। তার ফলও সোমবার জানা যাবে।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় নির্বাচনী অপরাধ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভঙ্গের অভিযোগে সমগ্র বিধানসভার ভোট বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ওই কেন্দ্রে ফের ভোট হবে ২১ মে। গণনা হবে ২৪ মে। তাই সোমবার ফলতা বাদে বাকি কেন্দ্রগুলির ভোটগণনা হবে।
কারা পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে, তৃণমূলের উপরেই রাজ্যের মানুষ আস্থা রেখেছে, না অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বঙ্গেও বিজেপি পদ্ম ফোটাতে চলেছে, তা জানতে এ রাজ্যের ভোটের ফলের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গোনা হবে সোমবার। সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হবে। বেলা ১২টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে প্রাথমিক প্রবণতা।