তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
ভবানীপুর থেকে তৃণমূল ৩০-৪০ হাজার ভোটে জিতবে বলে আশাবাদী দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। গণনাপর্বে সকাল থেকে দৃশ্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে ভবানীপুরে। প্রথম দিকে কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কখনও শুভেন্দু অধিকারী এগিয়ে ছিলেন। তার পরের বেশ কয়েকটি রাউন্ড এগিয়ে যান মমতা। আবার কিছু রাউন্ডে ব্যবধান কমাতে শুরু করেন শুভেন্দুও। যদিও গণনা শেষ হতে এখনও অনেকটা সময় বাকি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত একাদশ রাউন্ডের গণনা শেষ হয়েছে। হবে মোট ২০ রাউন্ড গণনা।
গণনাপর্বের প্রাথমিক প্রবণতায় রাজ্যের বেশির ভাগ আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এ অবস্থায় দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের কাছে পৌঁছে যান সুব্রত। এই স্কুলেই ভবানীপুর আসনের গণনা চলছে। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের কাছে তৃণমূল সমর্থকেরা যেখানে বসেছিলেন, সেখানে গিয়ে বসেন দলের রাজ্য সভাপতি। সেখানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাকে নির্দিষ্ট ভাবে ভবানীপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবেই আমি বেশি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি যে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জয়যুক্ত করতে পারব। এটাই আমার মূল লক্ষ্য।”
এর পরেই সুব্রত বলেন, “আমাদের মনে হচ্ছে, আমরা ব্যাপক পরিমাণ ভোটে জিতব। ২৫-৩০ হাজার ভোটে আমরা জিতব, এটা নিশ্চিত। যদি কিছু কারচুপি না হয়, নিশ্চিত ভাবে ভবানীপুরে ৩০-৪০ হাজার ভোটে আমরা জিতব।” গণনা চলাকালীন সোমবার দুপুরে দলের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে বার্তা দেন মমতা। একটি ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেন, ‘‘দয়া করে কোনও (তৃণমূল) প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছেড়ে আসবেন না। এটা বিজেপির প্ল্যান (পরিকল্পনা)।’’
দলের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করে মমতা বলেন, ‘‘মনখারাপ করার কারণ নেই। আমি বলেছিলাম, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড সবে কাউন্ট হল। ১৮-১৯ রাউন্ড কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ। আপনারা সকলে জিতবেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি।’’ অন্য দিকে সোমবার সকালে গণনা শুরুর পরে শুভেন্দুও বলেন, “ভবানীপুরে টক্কর হবে। ভবানীপুরে ৯-১০ রাউন্ড থেকে দেখবেন, আমি অনেক এগিয়ে যাব। ১০ রাউন্ডের পর ওঁর দাঁড়ানো মুশকিল হয়ে যাবে।”