Bengal Elections 2026 Phase 2 Voting

হাওড়ায় ভোট দিতে গিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু বৃদ্ধের, অভিষেক দুষলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে, একই অভিযোগ পরিবারেরও

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম পূর্ণচন্দ্র দোলুই (৮১)। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার খোসালপুর অঞ্চলের বলরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেওয়ার পরে হঠাৎ তিনি মারা যান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১২
Unnatural death of An elderly man after casting his vote in Udaynarayanpur of Howrah, TMC accused central forces

—প্রতীকী ছবি।

হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ভোট দিতে গিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর উপর শারীরিক ভাবে আঘাত করে। সেই কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতের পরিবারও দুষেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

Advertisement

যদিও উদয়নারায়ণপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী পর্যবেক্ষক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ভোট দেওয়ার পর, অসুস্থতার কারণে তিনি হঠাৎ ভোটকেন্দ্রের কাছে পড়ে যান। সেই সময় তাঁর ছেলে বুথের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানে তাঁকে ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পর আমি বুথ পরিদর্শন করেছি। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।’

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম পূর্ণচন্দ্র দোলুই (৮১)। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার খোসালপুর অঞ্চলের বলরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে গিয়ে তিনি মারা যান। ২৪৫ নম্বর বুথে ভোট দেওয়ার পরেই তাঁর মৃত্যু হয় এমনটাই অভিযোগ পূর্ণচন্দ্রের পুত্র তরণীর। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ভোট কর্মীদের অসহযোগিতার ফলেই পূর্ণচন্দ্রের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার বাবাকে জওয়ানরা ঠেলে দিয়েছে।’’ তরণীর দাবি, বৃদ্ধ বাবাকে ভোট দিতে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে বুধবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘‘আমতা থানা ও নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করব।’’

জেলা নির্বাচন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে পূর্ণচন্দ্র ভোট দেবার পর বমি করছিলেন। তাঁকে আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অভিষেক সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘অমিত শাহের অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ব্যক্তিগত বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উপর ছেড়ে দেওয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুন্ডাদের এক দল।’

এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি তাঁর ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। একা হাঁটার মতো শক্তি না-থাকায়, তাঁর ছেলে তাঁকে বুথে ঢুকতে সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী দু’জনকেই ধাক্কা দিয়ে হেনস্থা করে। বৃদ্ধ ব্যক্তি লুটিয়ে পড়েন, তাঁকে তড়িঘড়ি আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে পৌঁছানোর পরেই ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়। ভোর থেকে এই কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের আতঙ্কিত করে চলেছে— মহিলাদের চড় মারা, বৃদ্ধদের উপর হামলা, এমনকি, শিশুদেরও আক্রমণ করা হচ্ছে। এটাই ২০২১ সালের শীতলকুচির মানসিকতা। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নির্মম, ঠান্ডা মাথার হিংসা।’

এর পরে ২০২১ সালে কোচবিহারের ওই বিধানসভা আসনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, ‘২০২১ সালে নিরপরাধ মানুষের রক্তের জন্য বিজেপিকে বড় মূল্য দিতে হয়েছিল। ২০২৬ সালে তাদের আরও বড় মূল্য দিতে হবে। আর বাংলায় ঘুরে বেড়ানো জল্লাদদের উদ্দেশে বলছি— তোমরা কোন রাজ্য থেকে এসেছ, তা কোনও বিষয় নয়। কার রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছ, সেটাও কোনও ব্যাপার নয়। এই বর্বরতায় জড়িত প্রত্যেককে খুঁজে বার করা হবে এবং আইনের পূর্ণশক্তির মুখোমুখি করা হবে। তোমাদের সন্ত্রাসের রাজত্ব সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।’

Advertisement
আরও পড়ুন