—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
কলকাতায় এসআইআর সংক্রান্ত আপিল ট্রাইবুনালের অফিসের কাজ প্রায় শেষ। এই অফিসেই বসবেন ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তাঁরাই খতিয়ে দেখবেন ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের নথি। কমিশন সূত্রে খবর, ট্রাইবুনালের প্রত্যেক প্রাক্তন বিচারপতির সঙ্গে থাকবেন চার থেকে পাঁচ জন কর্মী। তাঁরাই নথি যাচাইয়ের কাজে সহায়তা করবেন বিচারপতিদের। কী ভাবে তাঁরা সহায়তা করবেন, কী কী করতে হবে— সেই সব সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ শুক্রবারই দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের। উল্লেখ্য, কলকাতা হাই কোর্টের প্রথম মহিলা বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর যোগ দিচ্ছেন ট্রাইবুনালে। তিনি বম্বে হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিও ছিলেন। সূত্রের খবর, ট্রাইবুনালে থাকা কয়েক জন প্রাক্তন বিচারপতি অব্যহতি চেয়েছেন।
ট্রাইবুনাল বসবে কলকাতার জোকায় পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ইনস্টিটিউটে। চলতি মাসের গোড়া থেকেই এই অফিসে ট্রাইবুনালের কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেই কাজ এখনও শুরু হয়নি। তবে সূত্রের খবর, দ্রুত সেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। জোকার ওই অফিসে পরিকাঠামোগত যাবতীয় কাজ প্রায় শেষ। আগামী রবিবার জোকার ট্রাইবুনালের অফিস পরিদর্শনে যাবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাক্তন বিচারপতিরা। তার পরেই কবে থেকে কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ট্রাইবুনালের বিচারপতিরা কোন পদ্ধতি মেনে আবেদন নিষ্পত্তি করবেন, তা ঠিক করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারের মধ্যে যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন ট্রাইবুনালে। তবে আবেদন করতে কোনও ভোটারকে সশরীরে কলকাতার ট্রাইবুনাল অফিসে না-আসলেও হবে। ইসিআইনেট মোবাইল অ্যাপ বা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এ ছাড়াও, সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরেও আবেদন করতে পারেন ভোটারেরা।
ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতিতে ট্রাইবুনালে ‘পাশ করা’ বাতিল ভোটারদের কী হবে? আদৌ কি তাঁরা ভোট দিতে পারবেন? ট্রাইবুনাল ছাড়পত্র দিলে ‘ফ্রিজ়’ করা ভোটার তালিকায় কি এই নামগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হবে? এ বিষয়ে আগামী সোমবার সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট।