গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইন্টারনেটের দুনিয়ায় তথ্যের বন্যা। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য বেছে নিয়ে তা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্বে থাকেন বিশেষজ্ঞেরা। পাশাপাশি, বিভিন্ন সংস্থার গোপন, প্রয়োজনীয় তথ্যও বর্তমানে অনলাইনে বন্দি করে রাখা হয়। ডিজ়িটাল মাধ্যমে যে বাক্সে ওই তথ্য রাখা হয়, তার পোষাকি নাম ক্লাউড। সেই ক্লাউডকে সুরক্ষিত কী ভাবে রাখা যেতে পারে, তার নীল নকশা তৈরি করেন ক্লাউড আর্কিটেক্ট।
আর কী কাজ করেন ক্লাউড আর্কিটেক্ট?
ক্লাউড আর্কিটেক্টদের কম্পিউটারের স্টোরেজ ক্ষমতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিশেষ ধরনের ক্লাউড তৈরি করতে হয়। তাতে কোন ধরনের অ্যাপ থাকবে, কতটা তথ্য মজুত করা যাবে, কোন নেটওয়ার্কের অধীনে সেই তথ্যের নাগাল পাওয়া যাবে— এই সব কিছু নিয়ে তাঁদের কাজ করতে হয়। এ ছাড়াও ক্লাউড তৈরির করার জন্য বিশেষ কিছু প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। কার্যক্ষমতা অনুযায়ী, কোনটা উপযুক্ত, সেই সিদ্ধান্ত ক্লাউড আর্কিটেক্টদের নিতে হয়।
তথ্য সুরক্ষিত রাখার গুরুদায়িত্বও সামলে থাকেন ক্লাউড আর্কিটেক্টরা। প্রতিটি সংস্থার চাহিদা এবং নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ পদ্ধতিতে অনলাইন মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষিত রাখা কাজটি করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কারা কতটা তথ্যের নাগাল পাবেন, কারা পাবেন না, কোন তথ্য সম্পূর্ণ গোপন থাকবে, কী ভাবে তা গোপন রাখা হবে— সবটাই ক্লাউড আর্কিটেক্টদের পরামর্শ মতই করা হয়ে থাকে।
কারা চাকরি পেতে পারেন?
কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি, সফট্অয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকেরা এই পদে চাকরির সুযোগ পেতে পারেন। তবে, যাঁরা নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা সমতুল বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তাঁরাও উল্লিখিত পদে চাকরির সুযোগ পেতে পারেন।
তবে, এ ক্ষেত্রে তাঁদের ক্লাউড প্ল্যাটফর্মস নিয়ে কাজের দক্ষতা থাকা দরকার। জানতে হবে বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের কৌশল। আলাদা আলাদা অপারেটিং সিস্টেমে নেটওয়ার্ক-এর ধরন অনুযায়ী কোন ক্লাউড ভাল বা খারাপ পরিষেবা দেবে, সেই জ্ঞান থাকা চাই। এ ছাড়াও পাইথন, জাভা, নোড.জেএস-এর মতো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ়, পাওয়ারশেল স্ক্রিপ্টিং-এ দক্ষ হওয়া চাই। তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য যে এনক্রিপশন ডিজ়াইন করতে হয়, তার খুঁটিনাটি জানতে হবে।
শুধু দক্ষতা বা জ্ঞান যথেষ্ট নয়:
সংস্থার গোপন তথ্য রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামলাতে শুধু জ্ঞান বা দক্ষতা থাকাই যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি, কাজের অনুমোদনও আদায় করতে হবে। এ জন্য কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে অ্যাসোসিয়েট, প্রফেশনাল এবং এক্সপার্ট বিভাগের শংসাপত্র আদায় করতে হবে। গুগল, মাইক্রোসফট্-এর মতো সংস্থাগুলি ওই বিভাগের শংসাপত্র দিয়ে থাকে। ওই শংসাপত্র অর্জনের জন্য প্রার্থীদের ক্লাউড আর্কিটেকচার সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে হবে। সেই কাজের মূল্যায়নের পরই শংসাপত্র দেওয়া হয়ে থাকে।
কী ভাবে চাকরির সুযোগ পাওয়া যায়?
শুরুতেই ক্লাউড আর্কিটেক্ট হিসাবে চাকরি পাওয়া যায় না। তিন থেকে আট বছর তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডেভঅপস ইঞ্জিনিয়ার, সফট্অয়্যার ডেভেলপার, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। এর পর ক্লাউড আর্কিটেক্ট হিসাবে পদোন্নতি হতে পারে। শুধুমাত্র সমস্যার সমাধান কিংবা তথ্য সুরক্ষিত রাখাই নয়, নেতৃত্বদানের ক্ষমতাও সমান ভাবে থাকা জরুরি। তবেই এই পেশায় উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
কর্মস্থলের সুলুক সন্ধান
যে সব সংস্থা ক্লাউড পরিষেবা দিয়ে থাকে, সেখানেই এই পদে নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে গুগল, মাইক্রোসফট্, আমাজ়ন ওয়েব সার্ভিসেস অন্যতম। তবে, বর্তমানে ছোট থেকে বড় সব ধরনের বহুজাতিক সংস্থাতেই ক্লাউড আর্কিটেক্টদের চাহিদা রয়েছে। নতুন উদ্যোগের (স্টার্টআপ) ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ শুরু করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।