ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
গত ৫০ বছরে বিনোদন মাধ্যমে এসেছে আমূল পরিবর্তন। বেতার থেকে দূরদর্শন হয়ে এখন তা মুঠোবন্দি। ফুটবল হোক বা ক্রিকেট— টানটান উত্তেজনার এখন ধরা দেয় মোবাইলের ৫-৬ ইঞ্চি পর্দায়। এমনকি পাঁচদিনের ক্রিকেট ম্যাচও এখন কয়েক মিনিটেই শেষ। কিন্তু এ সব কিছুর মধ্যে যা বদলায়নি, তা হল ধারাভাষ্য।
ক্রীড়ামোদী বহু মানুষই ধারাভাষ্যকারের প্রেমে পড়েন। মাঠে যখন ফুটবল নাচাচ্ছেন বিদেশি কোনও খেলোয়াড়, তাঁর সেই মুহূর্তের ছন্দ বর্ণনা করতে থাকেন ধারাভাষ্যকার, স্থানীয় ভাষায়। ধারাভাষ্যকারের নিজস্ব বাচন, শব্দচয়ন, ক্রীড়াবোধ ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা তাঁকে করে তোলে দক্ষ।
বহু কিশোর-কিশোরী স্বপ্ন দেখে ঠিক ওই ভাবে ধারাভাষ্য দেওয়ার। পাড়া ক্রিকেটে হয়তো মিলে যায় সুযোগ। অথচ, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগোতে পারলে ধারাভাষ্য হয়ে উঠতে পারে পেশা।
ধারাভাষ্যের ইতিহাস:
এ দেশে ক্রিকেট ম্যাচের প্রথম ধারাভাষ্যকার ছিলেন ববি তাল্যারখান। ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ১৯৩৪-এ তৎকালীন বম্বে জিমখানার একটি ম্যাচে ধারাভাষ্য দিয়েছিলেন। তিনিই পরবর্তীতে অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো-য় ক্রিকেট ধারাভাষ্য দিতেন। এর পর বিজয় মার্চেন্ট, ডিকি রুতনাগুর, বেরি সর্বাধিকারী, দেবরাজ পুরির মতো সাংবাদিক এবং ক্রীড়া বিশেষজ্ঞেরা ধারাভাষ্য দেওয়া শুরু করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে এই কাজে যোগদান করেন রিচার্ড বেনাউড, ইয়ান বিশপ, ইয়ান স্মিথ, নাসের হুসেন, হর্ষ ভোগলে, নভজ্যোৎ সিংহ সিধু, রবি শাস্ত্রী, সুনীল গাওস্কর, সঞ্জয় মঞ্জরেকরের মতো প্রাক্তন খেলোয়াড়েরা।
বর্তমানে ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার হিসাবে আকাশ চোপড়া, দীনেশ কার্তিক, অজিত আগরকর, বীরেন্দ্র সিংহ সহবাগ, যতীন সাপ্রু জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এই পেশায় মহিলারাও বর্তমানে সমান ভাবে কাজ করেন। অঞ্জুম চোপড়া, মিতালী রাজ, ইশা গুহ, অ্যালিসন মিশেল, কেটি মার্টিন, সানা মীর, মেল জোনস-এর মতো প্রাক্তন খেলোয়াড়রা তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সুযোগ পাওয়া যায় কী ভাবে?
ক্রিকেট, ফুটবল-সহ সমস্ত খেলার সরাসরি সম্প্রচার টেলিভিশন এবং রেডিয়ো-য় করা হয়। বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও খেলা দেখার সুযোগ থাকে। সেখানেই প্রাক্তন ক্রিকেটার কিংবা ক্রীড়া সাংবাদিকদের ধারাভাষ্যকার হিসাবে নিয়োগ করা হয়। এ ছাড়াও বর্তমানে স্থানীয় টুর্নামেন্টে যাঁরা খেলার ধারাভাষ্য দেন, তাঁরাও এই কাজে সুযোগ পেতে পারেন।
সাধারণত, রেডিয়ো বা টেলিভিশন চ্যানেলে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে প্রার্থীদের কথা বলার দক্ষতা, ক্রীড়া বিষয়ক জ্ঞান যাচাই করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের খেলা এবং খেলোয়াড় সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া জানিয়েছেন, এই পেশায় অর্থ উপার্জন নির্ভর করে প্রার্থীর অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা, বাগ্মিতার উপরে।
পড়াশোনার সুযোগ:
ক্রীড়া সাংবাদিকতা, ব্রডকাস্টিং অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ়, স্পোর্টস অ্যানালিটিক্স নিয়ে পড়াশোনার পর এই পেশায় সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। উল্লিখিত বিষয়ের মাধ্যমে পড়ুয়ারা কী ভাবে ধারাভাষ্য দেবেন— তা শিখে নিতে পারবেন।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কী কী দক্ষতা থাকা প্রয়োজন?
একটি সাক্ষাৎকারে ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে জানিয়েছেন, শুধু জ্ঞানই যথেষ্ট নয়, খেলার প্রতি আগ্রহ ও ভালবাসা থাকাও সমান ভাবে জরুরি। তার সঙ্গে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত সকলের প্রতি শ্রদ্ধাও থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে আগ্রহীদের স্থানীয় স্তরে প্রতিযোগিতায় ধারাভাষ্যকার হিসাবে কাজ করা শুরু করতে হবে। এর পর ধাপে ধাপে অডিশন দিয়ে রাজ্য এবং জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় কাজ পাওয়ার সুযোগ মিলবে।
এ ছাড়াও থাকতে হবে যে সব গুণ:
বেতন:
১০০ দিন বা দৈনিক চুক্তির ভিত্তিতে এই পেশায় নিযুক্তদের বেতন বা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়ে থাকে। প্রতিযোগিতার সূচি অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের বেছে নেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করার সুযোগ মেলে। এই পেশায় বিশেষজ্ঞদের চাহিদা থাকলেও দক্ষতা থাকলে নবীনরাও সুযোগ পেতে পারেন।