Govt Rules for Startup Recognition

পড়াশোনার সঙ্গে স্টার্টআপ নিয়েও কাজের ভাবনা! জানেন কি নতুন উদ্যোগকে সরকার স্বীকৃতি দেয়? কী ভাবে তা পাওয়া যায়?

নিত্যনতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন ভাবনাকে সঠিক দিশা দেখাতে বিভিন্ন স্টার্টআপকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক। তবে, তা অর্জনের জন্য পূরণ করতে হয় বেশ কিছু শর্ত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০২

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চাকরির বাজারে কাজের সুযোগ দেয় বিভিন্ন স্টার্টআপ। নয়া উদ্যোগের দুনিয়ায় ভারতীয় মেধার প্রবেশ ২০১১-তে। কৃত্রিম মেধাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়া থেকে শুরু করে দ্রুত ওষুধ-সহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া— বিভিন্ন ধরনের ভাবনাকে ব্যবসায়িক আঙ্গিকে বদলে ফেলেছেন অনেকেই। এর এক দশকের মধ্যেই প্রায় ১,৫৯,১৫৭ স্টার্টআপ শুরু হয়েছে এই দেশে। তার সুবাদে ২১ লক্ষের বেশি মানুষ চাকরির সুযোগও পেয়েছেন।

Advertisement

যাঁরা পড়াশোনার পর স্টার্টআপ শুরু করার চিন্তা করছেন, তাঁদের বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। দৈনন্দিন জীবনের কোনও সমস্যার কার্যকরী সমাধান করা যাবে, এমন বিষয় ব্যবসার জন্য বেছে নিতে হবে। এর জন্য সেই পরিষেবা অন্য কোনও সংস্থা দিচ্ছে কিনা, তা নিয়ে খোঁজ খবর করে নেওয়া জরুরি। বিষয় নির্বাচনের পর নতুন উদ্যোগের কাজে পূর্ব-অভিজ্ঞতা রয়েছে, কিংবা বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান রয়েছে— এমন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি দল গঠন করতে হবে। যাতে কাজ ভাগ করে স্টার্টআপকে দ্রুত প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

মাথায় রাখতে হবে, স্টার্টআপের বিষয় যেন সমসাময়িক এবং প্রাসঙ্গিক হয়। কারণ প্রাসঙ্গিক ব্যবসায়িক মডেল বা বাজারের চাহিদা পূরণ করতে পারে, এমন উদ্যোগকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অফ প্রোমোশন অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেড (ডিপিআইআইটি) ওই স্বীকৃতি দেয়। তবে, এর জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। পড়াশোনা শেষ করার পর স্টার্টআপ শুরু করতে আগ্রহীদের সেই নিয়ম জেনে রাখা প্রয়োজন।

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

১। ‘স্টার্টআপ’টিকে কোনও বেসরকারি সংস্থার অধীনে নথিভুক্ত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড পার্টনারশিপ ফার্ম কিংবা সীমিত অংশীদারত্ব (লিমিটেড লায়াবিলিটি পার্টনারশিপ) রয়েছে, এমন সংস্থা হলেও চলবে। কিন্তু একক মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকে ‘স্টার্টআপ’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।

২। সংস্থা প্রতিষ্ঠা হওয়ার ১০ বছরের মধ্যে স্বীকৃতির জন্য আবেদনের সুযোগ মিলবে। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম মেধা, মেশিন লার্নিং, সিন্থেটিক বায়োলজি, রোবোটিক্স-এর মতো ‘ডিপটেক স্টার্টআপ’ হলে ওই সময়সীমা ২০ বছর পর্যন্ত থাকছে।

৩। সংস্থার বার্ষিক আয় ২০০ কোটি টাকার বেশি হলে চলবে না। তবে ‘ডিপটেক স্টার্টআপ’-এর ক্ষেত্রে ওই অঙ্ক ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

৪। ব্যবসার ভাবনায় উদ্ভাবনী ক্ষমতা থাকা চাই। কর্মসংস্থান বা কোনও নতুন সামগ্রী বা পরিষেবা দেওয়ার মত মডেল না থাকলে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।

৫। উৎপাদিত পণ্যের পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো থাকা প্রয়োজন।

সম্প্রতি শীতকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক জানিয়েছিল, এখনও পর্যন্ত ৬,৩৮৫টি স্টার্টআপ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন কারণে। তাই ‘স্টার্টআপ’গুলিকে পুঁজি এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আর্থিক সহায়তা করতে স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ় ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (সিডবি) এবং সিকিউরিটি অফ এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি) সাহায্য করে থাকে।

Advertisement
আরও পড়ুন