Rishi Kaushik Interview

আমি ডানপন্থী এবং জাতীয়তাবাদী, দেশই সবার আগে! ভোটের মুখে বঙ্গরাজনীতি নিয়ে অকপট ঋষি

তাঁরাও ভোটার। তবে তাঁদের ভাবনা-চিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে তেমনই কয়েক জন তারকা ভোটারের কাছে ১৩টি প্রশ্ন নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। এ দফায় উত্তর দিলেন অভিনেতা ঋষি কৌশিক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৯
ভোট নিয়ে ঋষি কৌশিকের মতামত।

ভোট নিয়ে ঋষি কৌশিকের মতামত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান? 

ঋষি: এমন কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চাই, যিনি কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবেন, সকলের জন্য সমান থাকবে আইনের নিয়মাবলি। পশ্চিমবঙ্গে এমন কোনও পকেট থাকবে না, যেখানে গেলে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে। সেই ব্যক্তি যেন শান্তি ও সুরক্ষা আনতে পারেন।

Advertisement

২. দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?

ঋষি: দু’টিই দেখা দরকার। লোকসভায় মানুষ সাধারণত দল দেখে ভোট দেয়। বিধানসভায় দু’টিই দেখা হয়। আর প্রার্থী দেখে ভোট দেওয়ার প্রবণতা থাকে পুরসভা ভোটে।

৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?

ঋষি: দেশ চালানোর দক্ষতা ডিগ্রি দিয়ে অর্জন করা যায় না। এমন একজন মানুষ হয়তো দুর্দান্ত দেশ চালাতে পারেন, যিনি কখনও স্কুলেও যাননি। রাজ্যের ক্ষেত্রেও তা-ই। আর পরীক্ষার ব্যবস্থা হলে তাতে কী প্রশ্ন রাখা হবে, কিসের ভিত্তিতে বিচার হবে, কে বিচার করবে? আর প্রশিক্ষণও আলাদা করে প্রয়োজন নেই, থেকে থেকেই শিখে যায় সকলে। প্রতিষ্ঠান হিসাবে তৈরি করলে এর পিছন পিছন আরও সমস্যা চলে আসবে।

৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?

ঋষি: রাজ্যে কঠোর আইনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাইব। যেখানে শাস্তির ভয় নেই, সেখানে অপরাধীরা মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ায়। তাই এই বিষয়ে মন দিতে চাইব। কথায় আছে, বিলম্বিত ন্যায়বিচার মানে ন্যায়বিচারকে অস্বীকার করা। তবে এ কাজ কেবল সরকারের নয়, সাধারণ মানুষকেও সতর্ক এবং সচেতন থাকতে হবে। সুবিধা নেব, অথচ দায় নেব না, এটা হতে পারে না। নয়তো ব্যক্তিস্বাধীনতাকে মানুষ অত্যন্ত খেলো করে ফেলেছে। অপব্যবহার করা হচ্ছে। তাতে অপরাধ বাড়ে।

৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?

ঋষি: না! প্রয়োজন নেই। বঙ্গরাজনীতির নিরিখে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটা খুবই ছোট। তাই সেটার উল্লেখ এখানে দরকার নেই।

৭. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?

ঋষি: আমি টেকনিক্যালি অতটা বলতে পারব না। কিন্তু আমার মতে, এই দায় কেবল এক জনের নয়। দুর্নীতি দূর করতে হলে সবাইকে দায়িত্ববান হতে হবে।

৮. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

ঋষি: এখানেই গণতন্ত্রের ফাঁকটা ধরা পড়ে যায়। কেউ ১০০ বার দল বদলালেও কিছু করার নেই। নিয়ম যদি করতে হয়, তখন অন্য প্রশ্ন উঠবে। কেউ যদি বলেন, দলে যোগদান করার পর মতবাদ বদলে গিয়েছে, তখন কী বলবেন? এই বিষয়টি বেশ ধূসর। তবে টাকার লোভে দলবদলের সংখ্যা এত বেড়ে গিয়েছে যে যাঁরা আদর্শের কারণে দল বদলাচ্ছেন, তাঁদের কেউ বিশ্বাস করছেন না। কিন্তু বিধায়ক হিসাবে জিতে যাওয়ার পর দলবদল করতে চাইলে তাঁকে না নেওয়া উচিত। কারণ, সেটা বিশ্বাসঘাতকতা।

৯. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?

ঋষি: অপশব্দের মধ্যে কী কী পড়ে? গালিগালাজ না কি রূঢ় ভাবে সত্য বলা? সত্যি কথা বলতে গেলে কিছুটা ঘৃণা প্রকাশ পেতে পারে। তা বলে তো সত্যটা চাপা উচিত নয়। কিন্তু যদি কেউ ঘৃণাভাষ্য ছড়াবে বলে করে, সেটা অন্যায়। অপশব্দ বা ঘৃণাভাষ্যকে আলাদা করা খুবই মুশকিল হয়ে যায় আজকাল। এটিও খুব ধূসর।

১০. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

ঋষি: দেশজ সংস্কৃতি। শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকলে উন্নয়ন এমনিই আসবে। আমাদের দেশে হাজার হাজার সংস্কৃতি, সেগুলিকে এক তারে বেঁধে নিয়ে চলা খুবই কঠিন। তাই আমার মতে, ভারতবর্ষ যিনি চালান, তিনি গোটা পৃথিবীটা চালাতে পারেন। তাই সমালোচনা করার আগে ভেবে দেখা উচিত। আর ‘সমান অধিকার’ বা ‘সাম্যবাদ’ শুনতে ভাল, কিন্তু বাস্তবে হয় না। হাতের পাঁচটি আঙুল তো আর সমান হয় না। এটা প্রকৃতি-বিরুদ্ধ। যোগ্যতা ও ক্ষমতা অনুসারে মানুষের স্তর ভিন্ন হয়। আইনি অধিকারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সমান অধিকার দরকার, কিন্তু সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

১১. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?

ঋষি: (হেসে) কূটনীতি ও রাজনীতির চারটি প্রধান উপায়, সাম, দাম, দণ্ড, ভেদ। এর মধ্যেই আছে, পুরস্কার বা অর্থ দিয়ে বশ করার কথা। এ সব তো হবেই। বিদেশেও আছে। কিন্তু মানুষ সদ্ব্যবহার করছে না। এখানে খানিকটা এ রকম, ‘টাকা নাও, ভোট দাও’। এর ফলে অনেকে কর্মবিমুখ হয়ে পড়ছেন। ভাতা-র বন্দোবস্তও খুব শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়া উচিত। আর ভাতাও কারও আয় থেকে নেওয়া হচ্ছে। তার মানে কেউ কেউ খাওয়াচ্ছে, আর কেউ কেউ বসে বসে খাচ্ছে। তা হলে সাম্যবাদ বা সমান অধিকার কোথায়?

১২. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?

ঋষি: বিরোধীশূন্যের প্রশ্ন উঠছে কেন? বা অল্পসংখ্যক বিরোধীর পরিস্থিতিই বা হল কী করে? হেরেছে বলেই তো সংখ্যায় কমে গিয়েছে। কেউ তো স্বেচ্ছায় অল্পসংখ্যক হয় না। হারতে হারতে এই অবস্থা এখন। তাই এটা নিয়ে কিছু বলার নেই। স্বাস্থ্যকর বা অস্বাস্থ্যকর কি না, সে সব ভেবে লাভ নেই।

১৩. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?

ঋষি: চেনা মুখের তো মূল্য থাকেই। একটা দলে অসংখ্য নেতা-মন্ত্রী রয়েছেন, আমরা কি তাঁদের সকলকে মুখে চিনি? জনগণের কাছে প্রিয় যিনি, তাঁর জন্য তো আকর্ষণ তৈরি হবেই। ফলে তারকাদের কাজে লাগানোটা স্বাভাবিক।

১৪. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?

ঋষি: রাজনীতিবিদের নাম বলব না, কিন্তু রাজনীতিটা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই। আমি ডানপন্থায় বিশ্বাসী। আমি জাতীয়তাবাদী মানুষ। দেশের সঙ্গে আপস নয়। দেশ বাঁচলে আমি বাঁচব!

Advertisement
আরও পড়ুন