Shayan Munshi Doing Bengali Cinema

আগের মতো বিনোদনদুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত নই, জেনেশুনে, রয়েসয়ে কাজ করছি! ভাল লাগছে: সায়ন মুন্সী

“বছর তিনেক কলকাতায়। চোখের হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। সারা দিন সকলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে বাংলা ভাষায় উন্নতি করেছি।”

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ১৯:৫৭
সায়ন মুন্সী

সায়ন মুন্সী ছবি: সংগৃহীত।

সায়ন মুন্সী। হিন্দি ছবি ‘ঝঙ্কার বিটস্‌’ দিয়ে অভিনয় শুরু। বাংলাতেও কাজ করেছেন একাধিক ছবিতে। ২৩ বছরের লম্বা কেরিয়ার। কেরিয়ারগ্রাফ ততটাও লম্বা নয়! ‘জেসিকা লাল হত্যা মামলা’য় জড়িয়ে মাঝের অনেকটা সময় অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। এখনও যে বিনোদনদুনিয়ার খুব ঘনিষ্ঠ, তেমন নয়। আপাতত তিনি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের ছবি ‘রেখা’য় অভিনয় করছেন। তিনিই নায়ক। পর্দায় ট্যাক্সিচালক।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম মুখোমুখি হয়েছিল সায়নের। অভিনেতাকে শেষ দেখা গিয়েছে গত বছর। অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর বাংলা ছবি ‘ডিয়ার মা’তে। সে প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, “আগের মতো বিনোদনদুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত নই। ঘনিষ্ঠতা কমেছে। এখন জেনেশুনে, রয়েসয়ে কাজ করছি! এতে একটি ছবির পিছনে বেশি সময় দিতে পারছি। অনেক কাজের তাড়া নেই। অভিনয়টাও ভাল হচ্ছে। বেশ ভাল আছি।” মেকআপ ভ্যানে তখন অভিনেতা আর তাঁর রূপসজ্জাশিল্পী। চেক শার্ট, জিন্‌স, গামছা। এই তাঁর পোশাক। মুখে কয়েক দিনের বাসি দাড়ি-গোঁফ। চোখের কোলে, কপালে আঘাতের চিহ্ন! কী হয়েছে আপনার? মৃদু হেসে জবাব দিলেন, “প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মারধর খেয়েছি। তারই দাগ দেখছেন।”

বাস্তবেও কি সায়ন প্রতিবাদী? “না না! প্রতিবাদ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি”, জবাব এল তড়িঘড়ি। এখন সায়ন চোখের হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। “বছর তিনেক কলকাতায়। চোখের হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। সারা দিন সকলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে বাংলা ভাষায় উন্নতি করেছি।” তাই কখনও জয়া আহসানের সঙ্গে অভিনয়, কখনও ঋতুপর্ণার সঙ্গে! অনিরুদ্ধের পর অনুপ দাসের ছবিতে রাজি নায়িকার কারণে? অস্বীকার করলেন না অভিনেতা। বললেন, “ঋতুর সঙ্গে কাজের কথা অনেক দিন ধরেই চলছিল। কিন্তু ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। অবশেষে এই ছবিতে সেটা হল। ছবির গল্প ভাল। আমার চরিত্রটাও অন্য রকম। সব মিলিয়ে রাজি।” ঋতুপর্ণা প্রসঙ্গে সায়নের আরও সংযোজন, নায়িকা ইদানীং বেশ অন্য ধারার ছবিতে অভিনয় করছেন। নিজেকে প্রত্যেক মুহূর্তে বদলাচ্ছেন। ফলে, ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার পরেও ঋতুপর্ণাকে নায়িকা ছাড়া ভাবতে পারেন না কেউ!

সদ্য বদলেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। তালে তাল মিলিয়ে বদলাচ্ছে টলিউড। বদল বলিউডেও। সেখানে এখন বিনোদনধর্মী ছবির পাশাপাশি রাজনৈতিক ছবিও হচ্ছে। এই ‘বদল’ কী চোখে দেখছেন সায়ন? অভিনেতারাও চেয়ে বা না চেয়ে জড়িয়ে পড়ছেন এই পালাবদলের সঙ্গে। রাজনীতির সঙ্গে বিনোদনদুনিয়ার গাঁটছড়া কাম্য? সায়নের পরিষ্কার জবাব, “আমার মতে, অভিনেতাদের রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়। তাঁর দায়িত্ব অভিনয় করা। একই ভাবে বাকিদেরও বুঝতে হবে, কোনও অভিনেতা যদি কোনও বিষয়ে সমাজমাধ্যমে বা অন্যত্র ব্যক্তিগত মতামত রাখেন, তা হলে সেটা তাঁর ‘ব্যক্তিগত’ বিষয়। সেটা নিয়ে অন্যদের বলা সাজে না। কারণ, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।” ছবি বানানোর ধারাবদলের ক্ষেত্রে সায়নের মত, “আমাদের দেশের সব ইতিহাস দেশবাসী বা রাজ্যবাসী জানেন না। কিছু ছবিতে যদি সেই ইতিহাস ধরা থাকে, সমস্যা কোথায়? মানুষ তো তা হলে নিজের দেশ সম্পর্কে জানতে পারে।”

কথা শেষের দিকে। রেকর্ডার বন্ধের আগে অভিনেতাকে খুব ‘সোজা’ প্রশ্ন, চারিদিকে এত বদল। ২৩ বছরে বলিউড আর টলিউডের ফারাক কিন্তু বদলাল না! সায়ন যুক্তি দিলেন, “কিছু করার নেই। বাংলায় কম সময়ে, কম বাজেটে ছবি তৈরি হয়। বলিউড সেই জায়গা থেকে অনেক বেশি সুবিধা পায়। যে কোনও ছবির বাজেট বেশি হলে, সেই ছবি ভাল তো হবেই!” তাই অভিনেতা মনে করেন, যত দিন না বাজেট এবং পারিশ্রমিকের দিক থেকে দুটো ইন্ডাস্ট্রি এক হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত বলিউড-টলিউডের মধ্যে তুলনা না টানাই ভাল।

Advertisement
আরও পড়ুন