রানি, অদিতি, না কি সানি— প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানবেন কে? ছবি: সংগৃহীত।
জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ। যদিও বছরের শুরুতেই হিন্দি-বাংলা মিলিয়ে একগুচ্ছ ছবি মুক্তি পেয়েছে। সেই ছবিগুলিই এখনও প্রেক্ষাগৃহে রয়েছে। গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে ‘বর্ডার ২’। সপ্তাহ পেরোনোর আগেই ইতিমধ্যে ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছে এই ছবি। এ ছাড়াও চলছে তিনটি বাংলা ছবি। যার মধ্যে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ‘বিজয়নগরের হীরে’ নিয়ে উৎসাহ রয়েছে দর্শকদের। এ ছাড়াও রয়েছে ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ ও ‘হোক কলরব’। এই সপ্তাহে অবশ্য ছবিমুক্তির সংখ্যা কম। বাংলা ছবি নেই একটাও। বক্সঅফিসে মুক্তি বলতে দু’টি মাত্র ছবির। রানি মুখোপাধ্যায় অভিনীত ‘মর্দানি ৩’ ও নির্বাক ছবি ‘গান্ধী টক্স’।
‘মর্দানি ৩’
রানির অভিনীত অন্যতম চর্চিত ও সফল ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি ‘মর্দানি’। ২০১৪ সালে মুক্তি পায় ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির প্রথম ছবি। প্রয়াত বাঙালি পরিচালক প্রদীপ সরকারের পরিচালনায় ইনস্পেক্টর শিবানী শিবাজি রায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রানি, বিপরীতে ছিলেন যিশু সেনগুপ্ত। বক্সঅফিসে দর্শকের সাড়া ফেলেছিল ছবিটি। প্রথম ছবির সাফল্যের পরে, ২০১৯ সালে তৈরি হয় ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির দ্বিতীয় ছবি ‘মর্দানি ২’। সেই ছবি অবশ্য প্রদীপ সরকার নন, পরিচালনা করেন গোপী পুথরন। প্রথমটির মতো নজরকাড়া না হলেও দর্শক পছন্দ করেছিলেন দ্বিতীয় ছবিও। তবে এই ছবিতে রানির পাশাপাশি খলচরিত্রে বিশাল জেঠওয়ার অভিনয়ও প্রশংসিত হয়। এ বার ‘মর্দানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির তৃতীয় ছবির জন্য মুখিয়ে রানি মুখোপাধ্যায়ের অনুরাগীরা। এই ছবিতে নারীপাচার চক্র ধরতেই দেখা যাবে রানিকে। যদিও বিগত দু’টি ছবিতে রানির বিপরীতে খলচরিত্রে পুরুষ অভিনেতা থাকলেও এ বার অবশ্য মুখোমুখি হবেন দুই নারী। এমনিতেই বেছে বেছে ছবি করেন রানি। তার মধ্যে এটি একটিমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি যার সঙ্গে যুক্ত অভিনেত্রী। গত দু’বার তুলনায় এ বার একটু বেশি উৎসাহী। কারণ, তাঁর মেয়ে আদিরা বড় হয়েছে। মায়ের ছবি দেখে কী প্রতিক্রিয়া দেয় সে, তার অপেক্ষাতেও রানি।
গান্ধী টক্স
অদিতি রাও হায়দরী, বিজয় সেতুপতি, অরবিন্দ স্বামী অভিনীত এই ছবি পরীক্ষামূলক বলা যেতে পারে। গোটা ছবিতে কোথাও সংলাপ নেই। ছবির নাম দেখে ঐতিহাসিক উপাদান খুঁজতে গেলে ভুল হবে। বরং এই ছবি একটা সাধারণ মানুষের লোভ, লালসা, রিরংসার গল্প। ‘হীরামান্ডি’র সাফল্যের পর অদিতি বার বার আক্ষেপ করেছেন, সিরিজ়ে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হলেও নতুন কোনও কাজের প্রস্তাব পান না। সেই অর্থে এই ছবি অদিতির নতুন আর এক অভিজ্ঞতা, সেটাই জানিয়েছেন তিনি। অদিতি বলেন, ‘‘আবেগ অভিব্যক্তি কথা না বলেও প্রকাশ করা যায়।’’ এই ছবির মাধ্যমে প্রথম বার জুটি বাঁধলেন অদিতি ও বিজয়। দিনকয়েক আগে মুম্বইয়ে ছবির বিশেষ প্রদর্শনী ছিল। যদিও কলকাতায় মাত্র একটি প্রেক্ষাগৃহেই মুক্তি পাচ্ছে এই ছবি।