পরিচালনায় ফিরছেন অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।
বাংলা বিনোদনদুনিয়ার ইতিহাস বলছে, অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের শেষ পরিচালনা ২০১৮-য়। অঙ্ক বলছে, মাঝে আটটা বছর চলে গিয়েছে। পরিচালক ফের ব্যঙ্গের মোড়কে সমাজকে বার্তা দিতে আসছেন।
১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুটিং শুরু হবে পরিচালকের নতুন ছবি ‘চোর’-এর। ছবি সম্পর্কে জানতে চাইতেই আনন্দবাজার ডট কম-কে অগ্নিদেব বললেন, “জীতু যখন আমাদের বাড়িতে এসেছিল, তখন ওকে দেখে মনে হয়েছিল, ‘চোর’ ছবির নায়ক ওকেই মানায়।” মাঝে অসুস্থতা, পারিবারিক সদস্যের বিয়োগব্যথা। সব সামলে পরিচালক আবার চনমনে। আবারও কাজে মন তাঁর। কিন্তু বাংলা ছবির দুনিয়া যে বদলে গিয়েছে! কথাশেষের আগেই পরিচালক বললেন, সেই অনুযায়ী গল্প বেছেছেন তিনি। ‘চোর’ আসলে রূপক। ছবিতে একটি রাতকে সামনে রেখে সমাজের সব স্তরের চুরির উপর থেকে পর্দা তোলার চেষ্টা তাঁর!
অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের ‘চোর’ ছবিতে জীতু কমল। ছবি: ফেসবুক।
অগ্নিদেবের কথায়, “চুরিতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে একুশ শতক। আমরা ছিঁচকে চোরদের দিকে অনায়াসে আঙুল তুলি। ‘চোর’ বলে দাগিয়ে দিই। অথচ রাঘববোয়ালেরা দিব্য ঘুরে বেড়ান। আমরা তাঁদের সব অন্যায় মেনে নিই। কিচ্ছু বলি না। তাঁরাও তো একই কাজ করেন!” এই দিকটাই দেখানোর চেষ্টা করবেন তিনি। চিত্রনাট্য লিখেছেন সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়। অতিরিক্ত চিত্রনাট্য আর সংলাপ লিখেছেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। ছবিতে প্রধান চরিত্রে জীতু কমল। অন্যতম দুটো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রাজেশ শর্মা, শঙ্কর চক্রবর্তী। সুদীপা জানিয়েছেন, এই ছবি দিয়ে প্রযোজনা দুনিয়ায় পা রাখতে চলেছেন অগ্নিদেবের বড় ছেলে আকাশ। একটি রাতের গল্প। তাই কলকাতার নানা জায়গায় সারা রাত ধরে শুটিং হবে। নারী চরিত্রে দেখা যাবে অঞ্জনা বসু, মানসী সিংহকে। নায়িকা দেবলীনা কুমার। এ ছাড়াও থাকবেন দুই বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, বরুণ চন্দ।
সমাজের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ্যে এলে অনেক সত্যি সামনে আসবে। ছবি ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হবে। হয়তো বা ছবি প্রদর্শনীও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অগ্নিদেব এ সব ভেবে ভয় পাচ্ছেন না?
পরিচালকের সাহসী জবাব, “আমি বরাবরই এই ধরনের ছবি বানিয়েছি। শুরুতে হয়তো ভয় একটুআধটু পেয়েছি। ৩৯ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে। আমারও কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই ভয় আর পাই না।” সঙ্গে এ-ও জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি কাউকে কিচ্ছু বলবেন না। কারও নামও উচ্চারণ করবেন না। এর পরেও তাঁর ছবি দেখে কেউ যদি নিজেকে কাঠগড়ায় তোলেন, তার দায় তা হলে তাঁর। কেন জিৎ নন, জীতু— এই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছে। অগ্নিদেবের যুক্তি, “জিৎ নিঃসন্দেহে ভাল অভিনেতা। কিন্তু তাঁর অভিনয়ে ‘জিৎ’-এর ছায়াটাই থেকে যাবে। জীতুকে ইচ্ছেমতো ভাঙতে পারব। তাই ওকে বেছেছি।”
অগ্নিদেব ছবির পাশাপাশি ধারাবাহিকও পরিচালনা করেছেন। ঝুলিতে ‘বাজল তোমার আলোর বেণু’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিক। তাঁর পরিচালনায় হাতেখড়ি ‘চৌধুরী ফার্মাসিউটিক্যাল্স’ দিয়ে। ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় আর মুনমুন সেন। ধারাবাহিক পরিচালনাতেও কি ফেরার ইচ্ছে আছে তাঁর? পরিচালকের আশ্বাস, “সুযোগ পেলে অবশ্যই করব। তবে ধারাবাহিক পরিচালনা করলে আবার পুরনো দিনের গল্প ফিরিয়ে আনব।”