পরিচালক অনীক দত্ত। ছবি: সংগৃহীত।
বুধবার দুপুরে আচমকাই দুঃসংবাদ টলিউডে। দুপুর ১টা নাগাদ পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক প্রয়াণের খবর। কেউ কেউ বলছেন, রহস্যমৃত্যু। কারও মতে দুর্ঘটনা। ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটে গেল? তবে এ নিয়ে পুলিশ এখনও কোনও মন্তব্য করেনি। মরদেহ আপাতত শায়িত এসএসকেএম হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, সেখানে রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গিয়ে প্রয়াত পরিচালকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।
অনীক থাকতেন ডোভার লেন এলাকায়। সেখানেই তাঁর নিজের বাড়ি। বুধবার বেলা পড়তেই নিজের বাড়ি থেকে সোজা চলে আসেন হিন্দুস্তান পার্কে প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্তের আবাসনে। পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অনীক নাকি ফ্ল্যাটে ঢুকে সটান উঠে যান ছাদে। সেখান থেকে ঝাঁপ দেন। গুরুতর জখম অবস্থায় পরিচালককে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে জানান চিকিৎসকেরা। এ দিকে অনীকের হাসপাতালে যাওয়ার খবর দাবানলের মতো ছড়াতে থাকে।
খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছে যান তাঁর ‘অপরাজিত’ ছবির নায়ক জীতু কমল ও তাঁর অধিকাংশ ছবির প্রযোজক ফিরদৌসল হাসান। বেলা গড়াতেই ভিড় বাড়ে হাসপাতালে। একে একে টলিপাড়ার পরিচালক থেকে অনীকের শুভাকাঙ্ক্ষীরা আসতে শুরু করেন। আসেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, ওই দলের নেতা দীপ্সিতা ধর, শতরূপ ঘোষ, সৃজন ভট্টাচার্যেরা। পৌঁছোন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তার আগে, বেলা ২টো নাগাদ পুলিশ গিয়ে পৌঁছোয় ঘটনাস্থলে। যদিও পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ অবশ্য অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে নেমেছে। পরিচালকের প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্তের সঙ্গে যোগযোগ করা হয়। এমন দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও তার বেশি কিছু বলতে রাজি হননি সন্ধি।
বিকেল ৫টা নাগাদ পরিচালকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় এসএসকেএম হাসাপাতালে। বৃহস্পতিবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। মেয়ে ঐশী দত্ত থাকেন সুইডেনে। তিনি এলেই শেষকৃত্যের কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২২ মে ছিল অনীকের জন্মদিন। সে দিন বিদেশ থেকে বাবার জন্য কেক পাঠান ঐশী। সেই ছবি সমাজমাধ্যমের পাতায় ভাগ করে নেন অনীক। তার মাত্র পাঁচদিনের মাথায় এমন ঘটনা!
দুর্ঘটনাস্থল থেকে এক পাটি চটি এবং ওই বাড়ি থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ইংরেজি ম্যাগাজিনের মধ্যে রাখা একটি খাম থেকে মিলেছে সেই ‘নোট’। মেয়ে ঐশীর উদ্দেশেই লেখা বলে জানা গিয়েছে।
বিধায়ক রুদ্রনীল হাসপাতালে দাঁড়িয়ে জানান, বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের পর পরিচালকের মরদেহ খানিকক্ষণ শায়িত থাকবে নন্দনে। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হবে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। তবে বাকি কাজের সবটাই তাঁর মেয়ে আসার পরে হবে বলে তিনি জানান।