অনু আগরওয়াল ছবি: সংগৃহীত।
তাঁর বলিউডে আত্মপ্রকাশ ‘আশিকী’ ছবির মাধ্যমে। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের হৃদয় জিতে নিয়েছিলেন অনু আগরওয়াল। মিউজ়িক্যাল ব্লকব্লাস্টার থেকে নায়িকাকে আলাদা করে মনে রেখেছিল ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু ১৯৯৯ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনা যেন বদলে দিয়েছিল নায়িকার জীবন। বলিউড থেকে হারিয়ে যান তিনি। কী হয়েছিল অনুর সঙ্গে?
১১ জানুয়ারি ৫৭ পূর্ণ করছেন অনু আগরওয়াল। ১৯৯০ সালে মহেশ ভট্টের ‘আশিকী’ রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিয়েছিল অনুকে। তার পরে ১৯৯২-এ ‘গজব তমাশা’, ১৯৯৩-এ ‘কিং আঙ্কল’, ১৯৯৫-এ ‘জন্মকুণ্ডলী’, ১৯৯৬-এ ‘রিটার্ন অব জুয়েল থিফ’— একের পর এক ছবিতে অভিনয় করেন অনু। আক্ষরিক অর্থেই অনুর যখন ধুলোমুঠি সোনা হচ্ছে, তখনই আচমকা ছন্দপতন! দুর্ঘটনার জেরে সেই যে দৌড় থেকে ছিটকে গেলেন, আর ফিরতেই পারলেন না।
অভিনেত্রী হিসেবে নন, যোগশিক্ষক হয়ে এখন দিন কাটছে তাঁর। একটা লম্বা সময় জুড়ে অন্তরালে ছিলেন অনু। কিন্তু ফের আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে ফেরেন মুম্বইয়ে। নয়ের দশকের শেষ দিকে এক দুর্ঘটনায় স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। বাঁচার আশা ছিল না। কোমায় ছিলেন প্রায় ২৯ দিন। যদিও মৃত্যুকে জয় করে ফিরেছেন অনু। কিন্তু রুপোলি জগতে ফিরতে পারেননি আর।
এক ভয়ঙ্কর গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কোমায় চলে যান অনু। প্রায় একমাস মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তিও ছিলেন। শারীরিক ভাবে সুস্থ হয়ে উঠে যোগপ্রশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন অনু। মাঝে অবশ্য একটা লম্বা সময় বেঙ্গালুরুতেই থাকতেন অনু। সেখানে বিনা পারিশ্রমিকে বহু বছর যোগব্যায়াম শিখিয়েছেন বাচ্চাদের। বছর তিনেক হল মুম্বই ফিরেছেন। আলোকচিত্রী দেখলে হাসিমুখে পোজ়ও দেন। যদিও অনু ভেবেছিলেন, আর মুম্বইয়ে ফিরবেন না, তবু গ্ল্যামার জগতের টান এখনও হয়তো কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
একটা সময় অনু বলেছিলেন, ‘‘শাহরুখ খানের বাড়ির সামনে এখন যেমন ভিড় হয়, নয়ের দশকে আমার বাড়ির বাইরে তেমনই ভিড় হত।’’ তবে সব হারিয়েও আত্মবিশ্বাস হারাননি। তার জোরেই নিজেকে ভুলে গিয়েও আবার মনে পড়িয়েছেন। ডাক্তারবাবুরা যখন জবাব দিয়েছেন, তখনও হাল না ছেড়ে নিয়মিত যোগব্যায়াম করেছেন। যার ফলে তিনি আবার নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন।