Aparna Sen on Tollywood

‘টলিউড মুমূর্ষু, ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে হেরে যাচ্ছি আমরা’, বাংলা ছবির হাল নিয়ে অকপট অপর্ণা সেন

চেনা ছকের বাইরে হেঁটেছে রঞ্জন ঘোষ পরিচালিত এবং অপর্ণা সেন নিবেদিত ছবি ‘অদম্য’। ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে এসে টলিউড প্রসঙ্গে এ বার নিজের মতামত স্পষ্ট করলেন অপর্ণা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫৬
বাংলা ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অকপট অপর্ণা সেন।

বাংলা ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অকপট অপর্ণা সেন। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গিয়ে নাকি একের পর এক সমস্যার মুখে পড়ছেন নির্মাতারা। নানা নিয়মের বেড়াজালে বাঁধা হচ্ছে তাঁদের, অভিযোগ এমনই। এর জেরে নির্মাতাদের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ। কিন্তু, এ সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিকল্প দিশা দেখাচ্ছেন কেউ কেউ। সম্প্রতি ‘নধরের ভেলা’ নিয়ে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছেছেন পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। স্টেশন থেকে বাসস্ট্যান্ড, কলাকুশলীদের পাশে নিয়ে বিক্রি করেছেন টিকিট। এক কথায়, নিজের ছবির ‘ডিস্ট্রিবিউশন’-এর দায়িত্ব নিয়েছেন নিজেই। প্রথাভাঙা এই প্রচার বিফলে যায়নি। হল ভর্তি করেছেন বাংলা ছবির দর্শক। একই ভাবে চেনা ছকের বাইরে পা রেখেছে রঞ্জন ঘোষ পরিচালিত এবং অপর্ণা সেন নিবেদিত ‘অদম্য’ ছবিটিও।

Advertisement

দর্শকের প্রশংসা তো কুড়িয়েইছে। পাশাপাশি, ‘অদম্য’ দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে আবীর চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতারা। আর, এই প্রথম ছবির নিবেদনে অপর্ণা সেন। সম্প্রতি, ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন তিনি। দর্শকের সঙ্গে বসে ছবি দেখেছেন। ছবির ভূয়সী প্রশংসা করে অপর্ণা বলেন, “চিত্রকল্পটা যদি ভাল হয়, তা হলে সেটা আজকাল বিজ্ঞাপনী হয়ে যায়। কিন্তু ‘অদম্য’র ক্ষেত্রে আলাদা করে সুন্দর করার চেষ্টা নেই। একেবারে দগদগে যা সত্যি, তাই দেখানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও নান্দনিক ভাবে উত্তীর্ণ। ছবিটা সেখানেই সকলকে টানছে।”

টলিউডে ছবি বানানোর পথটা এখন কি সত্যিই নিয়মের নানা বেড়াজালে ক্রমশ আটকে পড়ছে? এই প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে মতামত জানিয়েছেন অপর্ণা। তাঁর মতে, “পরিবেশনার দিক থেকে নতুনত্ব আনছেন সব পরিচালক। ‘নধরের ভেলা’ ছবিটা দেখিনি, তাই গুণাগুণ জানি না। কিন্তু এই ছবিটার প্রচার যে ভাবে হল, একেবারে গেরিলা স্টাইলে প্রচার! ‘ওয়ার্ড অফ মাউথ’-এর মতো শক্তিশালী প্রচার আর হয় না। আস্তে আস্তে আগুন জ্বলার মতো খানিকটা।”

ছবি তৈরির ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ উঠতেই টলিউড ইন্ডাস্ট্রির সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনার উপর ক্ষোভ উগরে দেন অপর্ণা। এক অভিনেতার ‘ব্যান্‌ড’ হওয়ার অভিযোগ শুনে ব্যথিত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত ব্যথিত, দুঃখিত, লজ্জিত এবং ক্রুদ্ধ। যত ছেড়ে দেবে, তত ফুলে-ফেঁপে উঠবে ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু, যত নিয়ন্ত্রণ করবে, তত সমস্যা বাড়বে। এই তো মুমূর্ষু একটা ইন্ডাস্ট্রি। কেউ টাকা লগ্নি করতে চান না। আমার বন্ধু, যাঁরা মুম্বইয়ে কাজ করেন, তাঁদের কাছে বাংলা ছবির কথা বললেই বলছেন, ‘ওখানে নানা নিয়ন্ত্রণ’। আসলে তো আমরা সমগ্র ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে হেরে যাচ্ছি।”

তা হলে কি চেনা ছক ভেঙে অন্য ধারার গল্প এ ভাবে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার এমন উদ্যোগে ভরসা রাখছেন স্বাধীন পরিচালকেরা? তাই কি নিজেদের মতো করে নতুন পথ বেছে নেওয়া? তবে কি স্বাধীন ছবিই বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ? এ প্রশ্নই উস্কে দিয়ে গেলেন অভিজ্ঞ পরিচালক অপর্ণা সেন। উত্তর দেবে সময়।

Advertisement
আরও পড়ুন