Updates Of RG Kar Case

নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে সাধুবাদ! আরজি কর কাণ্ডে তিন পুলিশ আধিকারিক সাসপেন্ড হতেই খুশি টলিউড

আশায় বুক বাঁধছে বাংলা বিনোদনদুনিয়া। আরজি কর কাণ্ডে ধর্ষণের পর মৃত তরুণী চিকিৎসক তবে কি বিচার পেতে চলেছে? একই সঙ্গে আফসোস, মায়ের শূন্য কোল পূর্ণ হবে না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ২০:৩৪
বিচার পাবেন আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতা?

বিচার পাবেন আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

২০২৪-এর অগস্ট থেকে একটা বছর দফায় দফায় তাঁরা পথে নেমেছেন। রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নীচে। মানবিক সমর্থন জানাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন অনশনরত পড়ুয়া চিকিৎসকদের কাছে। আরজি কর কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তিন পুলিশ আধিকারিক বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অভিষেক গুপ্তের সাসপেন্ড (নিলম্বিত) হওয়ার ঘোষণায় তাই খুশি চৈতি ঘোষাল, বাদশা মৈত্র, বিরসা দাশগুপ্ত, বিদীপ্তা চক্রবর্তী। এ কথা তাঁরা জানিয়েছেন আনন্দবাজার ডট কম-কে।

Advertisement

আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হল রাজ্যের তিন আইপিএস অফিসারকে। শুক্রবার নবান্ন থেকে এ কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আরজি করের চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের মামলার ফাইল আবার খোলা হচ্ছে। ওই সময়ে বিভিন্ন পদে কর্মরত তিন আইপিএস অফিসার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। আপাতত তাঁদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

এই প্রসঙ্গে বাদশা আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেছেন, “যাঁরা তদন্তকে ভুল পথে চালিত করেছিলেন, তাঁদের শুধুই সাসপেন্ডই নয়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আমাদের দেশে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সংখ্যা কম। আর শাস্তি হয় কেবল নিচুতলার কর্মীদের।” অভিনেতার মতে, উচ্চ পদাধিকারিকদের দায়িত্ব বেশি। তাঁদের আসনটাও উঁচুতে। তাঁরা যদি এই আচরণ করেন, তা হলে সাধারণ মানুষ বিচার চেয়ে কার কাছে যাবে? একই সঙ্গে তিনি শাস্তি চেয়েছেন সেই সব রাজনীতিবিদের, যাঁরা এই ঘটনায় জড়িত। কার নির্দেশে পুলিশ আধিকারিকেরা ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে চেয়েছেন, সেই খবরও প্রকাশ্যে আনতে হবে। বাদশা মনে করেন, জনতার সেই সত্য জানার অধিকার আছে। পাশাপাশি, তাঁর আশা, একবার অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেলে আগামী দিনে কোনও পার্টির নেতার কথায় আর প্রশাসন অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবেন না।

বাংলা বিনোদনদুনিয়ার যে সব খ্যাতনামী সে সময়ে রাতের পর রাত জেগে কাটিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে পরিচালক বিরসা দাশগুপ্ত অন্যতম। আনন্দবাজার ডট কম-এর থেকে খবর শুনে বিরসা বলেছেন, “একা আমি বা টলিউড নয়, সাধারণ মানুষেরাও রাত জেগেছিলেন। পথে নেমেছিলেন। সত্যিই খবরটা জেনে ভাল লাগছে।” নির্যাতিতা ন্যায়বিচার পাবেন এ বার, আশা করছেন বিরসা? পরিচালকের মতে, “বিচারপ্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। তাই এখনই বিষয়টি নিয়ে মতামত দিতে চাইছি না। তবে আরজি কর কাণ্ডের ফাইল যে আবার খোলা হল, এটা যথেষ্ট ইতিবাচক পদক্ষেপ।”

বিদীপ্তা চক্রবর্তী মনে করিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের দাবি কিন্তু পাল্টায়নি। অভিনেত্রীর কথায়, “আমাদের দাবি প্রথম দিন যা ছিল, আজও তা-ই আছে। আজও চাই নৃশংস খুনের বিচার হোক। নির্যাতিতার পরিবার ন্যায়বিচার পান। এটা চেয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম।” বাদশার মতো বিদীপ্তাও সমস্ত অপরাধীর শাস্তি চেয়েছেন। কেউ যেন আইনের ফাঁক গলে ছাড় পেয়ে না যান, দাবি তাঁর। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, সে সময়ে গণ আন্দোলন আছড়ে পড়েছিল শহরের বুকে। কিন্তু তৎকালীন সরকার তা শুনেও শোনেনি। উল্টে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন রাজনীতিতে পালাবদল ঘটিয়েছেন। বিদীপ্তার তাই অনুরোধ, সেই বদল যেন সব দিক থেকে ইতিবাচক হয়। নির্যাতিতা যেন ন্যায় পান। কারণ, পুলিশ আধিকারিক ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের সেই সময়ের আচরণ আজও ভুলতে পারেননি অভিনেত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পদক্ষেপ খুশির পাশাপাশি স্বস্তি এনে দিয়েছে পরিচালক-অভিনেত্রী চৈতি ঘোষালের মনে। তিনি ফিরে গিয়েছেন ফেলে আসা দু’বছর আগের সময়ে। তাঁর আজও মনে আছে, চিকিৎসক পড়ুয়াদের পাশে ছিল টলিউড। বাংলা বিনোদনদুনিয়ার যাঁরা সে সময়ে পথে নেমেছিলেন, তাঁরা অধিকাংশই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ছিলেন না। তার পরেও তাঁদের আটকে দেওয়া হয়েছিল। আটকে দিয়েছেন বিনীত গোয়েল। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে চৈতির দাবি, “পাপ কখনও বাপকেও ছাড়ে না। এই সত্য আবার প্রমাণিত। একেই বলে ‘কর্ম’। এত গুলো লোকের দীর্ঘশ্বাস কখনও বিফলে যায়?” চৈতি নিজেও মা। তিনি বোঝেন, সন্তানকে হারিয়ে একজন মা কতটা নিঃস্ব হয়ে যান। এই উপলব্ধি তাঁর একার নয়, গোটা রাজ্যের— দাবি বর্ষীয়ান অভিনেত্রী-পরিচালকের। সেই জায়গা থেকে সবাই পথে নেমেছিলেন, দাবি তাঁর। কেউ অকারণে পথে নামেননি।

চৈতির মতে, প্রতিবাদের সেই আগুন আগের রাজ্য সরকার দমনপীড়ন নীতির মাধ্যমে নিভিয়ে দিতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। আজও প্রত্যেকের মনে সেই আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে। একমাত্র ন্যায় বিচার পারবে সেই আগুন নেভাতে। চৈতিও সকলের মতো নির্যাতিতার খুনের বিচার চাইছেন। চাইছেন, অপরাধীরা কঠোরতম শাস্তি হোক।

Advertisement
আরও পড়ুন