বাংলাদেশের তারকা অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। ছবি: ফেসবুক।
পেশাজীবনের বয়স মাত্র ন’বছর। তাঁর অনুরাগীদের দাবি, সিয়াম আহমেদ উল্কার গতিতে প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছেন। কলকাতার নায়িকা সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আপাতত তিনি শ্রীলঙ্কায়। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের ইদের ছবি ‘রাক্ষস’-এ তাঁরাই জুটি।
রবিবার সকালে সিয়াম-সুস্মিতার একটি ছবি ভাইরাল। পরস্পর প্রেমে মত্ত! এভাবেই ধরা দিয়েছেন তাঁরা ক্যামেরায়।
আপনি নাকি শাকিব খানের ঘাড়ে শ্বাস ফেলছেন? এ পার বাংলার দর্শকের তো তেমনই দাবি। ইদে আপনাদের একসঙ্গে ছবিমুক্তি। ভয় কাজ করে? আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল নায়কের সঙ্গে। তখনও শুটিং শুরু হয়নি। শ্রীলঙ্কা থেকে ফোনে ধরা দিলেন সিয়াম। মৃদু হেসে বললেন, “সত্যিই যদি সে রকম বলে লোকে, তা হলে আমার দায়িত্ব আরও বাড়ল। আরও ঘষেমেজে নিজেকে তৈরি করতে হবে। আরও ত্রুটিমুক্ত হতে হবে।” তার পরেই জোর গলায় জানালেন, সে রকম কিছুই না। ২৬ বছর ধরে বাংলাদেশের বিনোদনদুনিয়াকে কাঁধে নিয়ে বয়ে চলেছেন। ওঁর সমতুল্য হওয়া সহজ নয়। তিনি সেই চেষ্টাও করেন না। নিজের কাজ করে যান। বললেন, “ইদ আমাদের বড় পরব। ওই সময় সবার সেরা কাজগুলো পর্দায় জায়গা করে নেয়। শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আমিও জায়গা পাই, এটা ভেবেই আনন্দ।”কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই? “নেই”, দাবি তাঁর। নায়কের মতে, যাবতীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাঁর অন্তরে। “নিজের সঙ্গে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কাজ করে। দর্শক নতুন ছবি কতটা ভালবাসল। তাঁদের নতুন কী দিতে পারলাম। আগের ছবির থেকে নিজেকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম।”
‘রাক্ষস’ ছবির শুটিংয়ে সিয়াম আহমেদ, সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। ছবি: ফেসবুক।
তবে নিজেকে নিয়ে, নিজের কাজ নিয়ে যথেষ্ট সজাগ সিয়াম। তিনি জানেন, কোন ধারার ছবিতে তাঁকে মানায়। এখানেও তিনি শাকিবকেই অনুসরণ করেন। “আমি জানি, বিনোদনধর্মী ছবিতে আমায় মানায় ভাল। দর্শকও সে ভাবেই দেখতে চান। ওঁদের জন্যই আমি সকলের ভালবাসা পাচ্ছি। তাই কোনও ভাবেই দর্শককে নিরাশ করতে পারব না।” পরিচালক হৃদয়ের ছবি ‘রাক্ষস’ও সেই ঘরানার। রোমান্স থেকে রক্তপাত— সবই আছে ছবিতে। সেখানেই নায়ককে প্রেম করতে দেখা যাবে সুস্মিতার সঙ্গে। এ পার বাংলার ছবি নিয়ে কিছু বলুন! সুস্মিতার সঙ্গে বন্ধুত্ব হল? ফের হাসি। নায়ক শিকার করে নিলেন বন্ধুত্ব হয়েছে। বন্ধুত্ব না হলে কাজ করা যায় না, সে কথাও জানাতে ভোলেননি।
অনুরাগীরা তাঁকে অ্যাকশনে-রোমান্সে দেখে অভ্যস্ত। পর্দার সঙ্গে বাস্তবের আকাশপাতাল ফারাক। সিয়াম নিশ্চয়ই পর্দার মতো নন?
সিয়াম আহমেদের প্রথম ছবি। ছবি: ফেসবুক।
জবাব দিয়ে গিয়ে নায়ক ফিরে গিয়েছেন ২০১৮-য়। ওই বছর তাঁর প্রথম ছবিমুক্তি। একটু থেমে সিয়ান শুরু করেন, “রায়হান রাফী ভাইয়ের পরিচালনায় ‘পোড়া মন’ ছবিটি চলবে কি না জানতাম না। আমি প্রতিষ্ঠা পাব কি না ভাবিনি। কিন্তু ওই বছরেই প্রেমিকা শাম্মা রুশাফি অবন্তীকে বিয়ে করি। বরং ওকে না পেলে মরেই যেতাম! কারণ, আমি প্রেমিক পুরুষ। প্রেমে থাকি, ভালবাসাতেও...!” সিয়াম অন্তর থেকে বিশ্বাস করেন, পেশাজীবন নির্দিষ্ট সময়ের পরে শেষ। ভালবাসা, কাছের মানুষ আজীবন থেকে যান।
সিয়াম আহমেদ এবং শাম্মা রুশাফি অবন্তী। ছবি: ফেসবুক।
সেই বিশ্বাস তাঁর পরের কথাতেও। “জানেন, আমার স্ত্রী ব্যবসায়ী। সৌন্দর্য দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত। তার পরেও আমার যত্ন নেন, সময় দেন। আমাদের চার বছরের সন্তান আছে।” ২০১১-য় প্রেমে পড়েছিলেন তাঁরা। আজও সেই প্রেম অটুট, দাবি তাঁর। সিয়ামকে ঘিরে অনুরাগীর থেকে অনুরাগিনীদের ভিড় বেশি। বিবাহিত নায়ককে নিয়েও তাঁদের কী অসীম আগ্রহ! শাম্মা কি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন? “একেবারেই না! কারণ, আমি যখন কিছুই না, তখন থেকে ও আমায় চেনে। আমার পাশে রয়েছে। দিন গিয়েছে। সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে।”
স্ত্রী, পুত্রকে নিয়ে সিয়াম। ছবি: ফেসবুক।
আপনাকে ঘিরে অনুরাগিনীদের যত আগ্রহ, বিবাহিত নায়িকাদের নিয়েও যদি ততটাই আগ্রহী হতেন পুরুষ অনুরাগীরা...! কথা শেষ করতে দিলেন না সিয়াম। বলে উঠলেন, “একুশ শতকে এই ভাবনা আর চলে না। আমি তো দেখি বিবাহিত নায়িকারাও সমান ভাবে পুরুষ অনুরাগীদের ভালবাসা পান!” নায়কের মতে, যাঁরা বাস্তবে বিশ্বস্ত সঙ্গী, তাঁরা দর্শকের কাছেও বিশ্বস্ত। তাঁরা নায়ক বা নায়িকার মধ্যে এই বিশ্বস্ততাই খোঁজেন।
অন্তরঙ্গ আলাপচারিতার মধ্যেই শুটিংয়ের তাড়া। টানা ২০ ঘণ্টা এর পর ক্যামেরার সামনে কাটাবেন বড় পর্দার ‘রাক্ষস’। এত ব্যস্ততা সামলে এ পার বাংলার ছবি দেখা হয়? কলকাতায় কাজ করতে এলে কোন পরিচালকের ছবিতে অভিনয় করতে চাইবেন? মনপসন্দ নায়িকাই বা কে? সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক সিয়াম। পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদের মতোই ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট’ জবাব দিলেন, “হ্যাঁ দেখি তো। আপনাদের ছবি আমারও পছন্দের।” তার পরেই কণ্ঠস্বরে মৃদু হাসির আভাস, “কার নাম বলে কাকে চটাই বলুন তো! আমার ভাগ্যে কোন পরিচালকের নাম লেখা আছে তা-ও জানি না। আবার টলিউডের অনেকেই খুব ভাল বন্ধু। যেমন, জিৎদা। তাই যিনি ভালবেসে ডাকবেন, তাঁর ছবিতেই কাজ করব।” ফোন রাখার আগে যোগ করলেন, নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বেশ কিছু ছবি দেখেছেন। ওঁদের ছবি শিয়ামের পছন্দ। “আমি যে ধারার ছবিতে কাজ করি, ওঁরা ঠিক তেমনই ছবি বানানা। ওঁদের ছবিতে কাজ করতে পারলে ভাল লাগবে”, অকপট নায়ক।