ক্ষুব্ধ অনুরাগ! জানালেন, এটাই তাঁর শেষ ভিডিয়ো! ছবি: সংগৃহীত।
ভিন্জাতে বিয়ে করার জন্য মানসিক হেনস্থার শিকার ‘বিগ বস্’-খ্যাত অনুরাগ ডোভাল! সমাজমাধ্যমে তিনি ‘রাইডার’ নামে পরিচিত। পেশায় তিনি নেটপ্রভাবী। কিন্তু সম্প্রতি একটি ভিডিয়োয় জানালেন, তিনি এতটাই মানসিক ভাবে জেরবার যে, এটাই তাঁর শেষ ভিডিয়ো। দীর্ঘ দু’ঘণ্টার একটি ভিডিয়ো ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
শৈশব থেকে তিনি কী ভাবে মানসিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন, তা এই ভিডিয়োয় তুলে ধরেন অনুরাগ। বাবা-মা ও পরিবারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনেছেন তিনি।
স্ত্রী ঋতিকার সঙ্গে সমাজমাধ্যমে আলাপ অনুরাগের। সেখান থেকেই প্রেম শুরু। অনুরাগের কথায়, “আমার মনে হয়েছিল, ঋতিকা আমার জন্য সঠিক মানুষ। আমাকে কখনও ছেড়ে যাবে না ও। পরিবারকে ওর কথা জানাই। প্রথমে ওরা রাজি না হলেও পরে রাজি হয়।”
এর পরে বিয়ে ঠিক হয় অনুরাগের। কিন্তু বিয়ের ঠিক পাঁচ দিন আগে নাকি নেটপ্রভাবীর বাবা-মা ও পরিবার জানান যে, তাঁরা এই বিয়েতে রাজি নন। হঠাৎই তাঁর পরিবার পিছিয়ে যায়। তখন নাকি নিজের বিয়ের সমস্ত ব্যবস্থা নিজেই করেন অনুরাগ। তাঁর কথায়, “বিয়ের কার্ডও তখন সবাইকে দেওয়া হয়ে গিয়েছে। একার দায়িত্বে বিয়েটা করেছিলাম।”
এখানেই শেষ নয়। পরিবারের সকলের সামনে তাঁকে নাকি এই বিয়ের জন্য অপমান করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, “আমাকে অপমান করা হয়। হাতজোড় করে, ওঁদের পা ছুঁয়ে আমাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছিল। আমি ক্ষমা চাইলে তবেই তাঁরা বিয়েতে আসবেন, এমন শর্ত দেওয়া হয় আমাকে।” তাঁকে কী ভাবে মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে, তার সব রেকর্ডও রয়েছে বলে জানান অনুরাগ। স্ত্রী অন্য জাতের বলেই নাকি পরিবার থেকে আপত্তি জানানো হয়, জানান তিনি। এমন অবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন বলে জানান অনুরাগ। আগামী দিনেও নিজের জীবন নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই বলে দাবি তাঁর। অনুরাগের কথায়, “আমার মৃত্যুর জন্য আমার মা, বাবা, ভাই দায়ী থাকবে। আমার আর কিছু করার নেই। খুব অবসাদে ভুগছি। জানি না, কী ভাবে এই ভাবনা মাথা থেকে বার করব। এই শেষ ভিডিয়োর পরে আমি হয়তো হারিয়ে যাব। ৫ দিন ধরে কিছু খাইনি। মাথা চলছে না।”
একাধিক ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনুরাগ বলেছেন, “নিজের স্বপ্ন পূরণ করার আগে আমি অন্যদের স্বপ্ন পূরণ করেছি। কখনও ভাবিনি এমন একটা ভিডিয়ো আমাকে বানাতে হবে। অনেকেই বিশ্বাস করবে না হয়তো। আমি সত্যিই ভাবিনি আমার শেষ ভিডিয়ো এমন হবে। এখন মনে হচ্ছে, আমার জীবন একেবারে নিরর্থক।”