কোন শহরে কত টাকায় বিকোচ্ছে ‘ধুরন্ধর ২’-এর টিকিট? ছবি: সংগৃহীত।
মুক্তি পেয়েছে ‘ধুরন্ধর ২’। ডিসেম্বরে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধুরন্ধর’ ঝড় তুলেছিল বক্সঅফিসে। সেই প্রত্যাশা নিয়েই বৃহস্পতিবার ছবিটি মুক্তি পেতেই দেশ জুড়ে প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। টিকিটের দামের তোয়াক্কা না করেই আদিত্য ধর পরিচালিত এই ছবি দেখতে ভিড় করছেন দর্শক। সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে মুম্বইয়ে। তবু চাহিদায় কোনও কমতি নেই। দেশের কোন শহরে টিকিটের সর্বোচ্চ দাম কী রয়েছে?
পাঁচটি ভাষা— হিন্দি, তেলুগু, তামিল, কন্নড় ও মলায়লমে মুক্তি পেয়েছে এই ছবি। প্রথম দিনের হিসাব অনুযায়ী, ব্যবসা করে ফেলেছে ৫০ কোটি টাকার। এখনও অবধি এমনই জানা যাচ্ছে। সারা দেশে ‘ধুরন্ধর ২’-এর মোট ৮,৯২৮ টি শো চলছে।
রণবীর সিংহ অভিনীত এই ছবির সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ৩১০০ টাকা। মুম্বইয়ের বোরিবলীর এক মাল্টিপ্লেক্সে এই দামে টিকিট বিক্রি হয়েছে। আইম্যাক্স ২ডি-তে বিশেষ রিক্লাইনার আসনের জন্য এই দাম ধার্য করা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে মুম্বইয়ের আর এক মাল্টিপ্লেক্স, যেখানে টিকিটের দাম ২৫০০ টাকা। আইম্যাক্স ২ডি স্ক্রিনে মুম্বইয়ে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৪০০ টাকা।
কলকাতা শহরেও এই ছবি দেখতে ভিড় করছে দর্শক। দক্ষিণ কলকাতার মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ১৯০০ টাকা। তার পরে রয়েছে ১৮৮০ ও ১৪০০ টাকার টিকিট। টিকিট বুক করার নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট দেখলেই বোঝা যায়, দাম তুলনামূলক বেশি হলেও টিকিট বিক্রিতে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে অল্প খরচেও এই ছবি দেখার সুযোগ রয়েছে। কলকাতার সিঙ্গল স্ক্রিন— যেমন সোনালি, বিজলী, নবীনার মতো সিনেমাহলে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকার টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে।
দিল্লিতেও রিক্লাইনার আসনের জন্য ‘ধুরন্ধর ২’-এর টিকিটের দাম পৌঁছেছে ২৪০০ টাকায়। বিলাসবহুল ব্যবস্থাপনা রয়েছে এমন প্রেক্ষাগৃহে ২০০০ টাকা ও ১৮০০ টাকার টিকিটও রয়েছে। কিন্তু মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার মধ্যেও রয়েছে কিছু প্রেক্ষাগৃহের টিকিট। দিল্লির আসফ আলি রোডের একটি সিনেমাহলের টিকিটের দাম ৯৫ টাকা। ১৭০-২৫০ টাকার মধ্যেও রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহের টিকিট।
বেঙ্গালুরুতে হিন্দি ভাষার পাশাপাশি কন্নড় ভাষাতেও ছবিটি দেখতে ভিড় করছেন দর্শক। সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ২৯০০ টাকা। ২০০০ থেকে ২৯০০ টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে দামি মাল্টিপ্লক্সের বিলাসবহুল আসনের টিকিট। এর পাশাপাশি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার টিকিট পাওয়া যায় এমন সিনেমাহলেও মুক্তি পেয়েছে ‘ধুরন্ধর ২’।
পুণেতে সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ঘোরাফেরা করছে ২০০০ থেকে ১৪০০-র মধ্যে। গুজরাতের অহমদাবাদে টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য রয়েছে ১৫০০ টাকা।
তবে হায়দরাবাদে টিকিটের দাম অন্য রকম। তেলঙ্গানা সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, সিঙ্গল স্ক্রিনে সব ছবির টিকিটের দাম রাখতে হবে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। মাল্টিপ্লেক্সের ক্ষেত্রে এই দাম ২৯৫ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে। এই একই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে ‘ধুরন্ধর ’-এর ক্ষেত্রেও। প্রায় একই রকমের নিয়ম চালু রয়েছে তামিলনাড়ুতেও। স্থানীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ১৬০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যেই রাখতে হবে সব ছবির টিকিটের দাম।
উল্লেখ্য, পাঁচটি ভাষায় মুক্তি পেলেও, প্রথম দিনের ৫০ কোটি টাকার ব্যবসার মধ্যে ৪৯ শতাংশই হিন্দি সংস্করণ থেকে এসেছে। সবচেয়ে কম ব্যবসা হয়েছে মলয়ালম ভাষায়। জানা যাচ্ছে, এই ছবি প্রথম দিনে সর্বোচ্চ ব্যবসা করেছে বেঙ্গালুরু শহরে। তার পরে রয়েছে পুণে, হায়দরাবাদ, মুম্বই, জয়পুর, লখনউ, দিল্লি, চণ্ডীগড়, ভোপাল, কলকাতা ও অহমদাবাদ।