আদিত্য ধরের সঙ্গে কী ভাবে আলাপ? ছবি: সংগৃহীত।
বক্সঅফিস জুড়ে শুধুই ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। ছবিতে রণবীর সিংহের অভিনয় নিয়ে প্রশংসা হচ্ছে দিকে দিকে। অন্য অভিনেতারাও সাড়া ফেলেছেন। ছবি জুড়ে রয়েছে বেশ কিছু গান, যেগুলি সমান ভাবে অনুরাগীদের প্লে লিস্টে জায়গা করে নিয়েছে। শুধু হিন্দি নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তের সঙ্গীত উঠে এসেছে এই ছবিতে। সঙ্গীত পরিচালক শাশ্বত সচদেবও উঠে এসেছেন আলোচনায়।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বা আঞ্চলিক সঙ্গীতের সঙ্গে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের মেলবন্ধন ঘটিয়ে নতুন সৃষ্টি করেন শাশ্বত । ‘ধুরন্ধর’ ছবিতেও সেই একই ধারা বজায় রেখেছেন তিনি। আদিত্য ধরের ছবিতে ‘জান সে গুজ়রতে হ্যাঁয়’, ‘জাইয়ে সজনা’, ‘মন অটকেয়া’র মতো গানে মেতেছেন সঙ্গীতপ্রেমীরা। এই গানগুলিও নতুন মোড়কে চিত্রনাট্যের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করেছেন শাশ্বত ।
জয়পুরের পরিবারে ১৯৮৭ সালে জন্ম শাশ্বতের। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিখেছেন মাত্র তিন বছর বয়স থেকে। ২১ বছর ধরে উস্তাদ রমজ়ান খানের কাছে সঙ্গীত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি ১০ বছর ধরে পাশ্চাত্য সঙ্গীত ও পিয়ানো বাজানোও শিখেছেন তিনি। পুণের সিমবায়োসিস ল স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন শাশ্বত। ২০১১ সালে শিল্পী পৌঁছে যান লস অ্যাঞ্জেলেসে। সেখানে গিয়ে সাউন্ড ডিজ়াইনিং-এ স্নাতকোত্তর করেন তিনি। সেখান থেকে ফিরে বলিউডে কাজ শুরু তাঁর। প্রথম ছবি ২০১৭ সালের ‘ফিল্লৌরি’। ২০১৯ সালে ‘উরি: দ্য সার্জিকাল স্ট্রাইক’ ছবিতে কাজ করেন। এই কাজ থেকে জনপ্রিয়তা পেতে থাকেন তিনি। তবে নজির গড়লেন ‘ধুরন্ধর’-এর মাধ্যমে।
‘ধুরন্ধর’ মুক্তির আগে শাশ্বত তাঁর ও আদিত্য ধরের সম্পর্কের কথা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান। আদিত্য তাঁর উপরে ভরসা রেখেছিলেন, জানান সঙ্গীত পরিচালক। তিনি বলেন, “আমি আদিত্য ধরের সঙ্গে ২০১৬ সালে দেখা করি। তখন তিনি ‘রাত বাকি’ নামে একটি ছবি বানাচ্ছিলেন, যা পরে ‘ধুম ধাম’ নামে মুক্তি পায়। তখনও আমি কোনও কাজই করিনি। আমার নামে কোনও প্রকাশিত গানই ছিল না। তবুও তিনি আমার উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন।”
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবি থেকে প্রথম জনপ্রিয়তা পান তিনি। যেমন ‘জাইয়ে সজনা’ গানটি আসলে পঞ্জাবি শিল্পী সতিন্দর সরতাজের। তাঁর সঙ্গে জোট বেঁধে নতুন ভাবে গানটি তুলে ধরেছেন শাশ্বত। সতিন্দরের সঙ্গে সেই গানটি গেয়েছেন আমেরিকা নিবাসী পঞ্জাবি গায়িকা জৈসমিন স্যান্ডল্স। এক সাক্ষাৎকারে জৈসমিন জানান, ভোর ৪টের সময়ে এই গান রেকর্ড করেছিলেন তাঁরা।
ছবির আর একটি গান ‘জান সে গুজ়রতে হ্যাঁয়’ আসলে একটি বিখ্যাত কাওয়ালি। শিল্পী নুসরত ফতেহ আলি খানের কণ্ঠে এই গান জনপ্রিয়। সেই গানই নতুন রূপ পেয়েছে এই ছবিতে। গানটি খানসাব নামে এক শিল্পী গেয়েছেন।
‘ধুরন্ধর ২’ ছবির বাজেট ৩২৫ কোটির কাছাকাছি। শোনা যাচ্ছে, ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রায় ২-৩ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন শাশ্বত।
‘ধুরন্ধর’ ছাড়া শাশ্বত ‘বীরে দি ওয়েডিং’, ‘অ্যাটাক’, ‘তেজস’ এবং ‘আর্টিকেল ৩৭০’-এর মতো ছবিতেও কাজ করেছেন।