Cultural Programme Of FETSU

বিশ্ব বিনোদনকে সম্মান জানাতে মার্চের শহরে ফিরছে ‘ছায়ানট’, আয়োজনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

গত ১৮ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্ররা এক ছাদের নীচে সেতু বেঁধেছেন মঞ্চ ও পর্দার মধ্যে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২১
‘ছায়ানট’-এর অনুষ্ঠানে অভিনেতা-পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়।

‘ছায়ানট’-এর অনুষ্ঠানে অভিনেতা-পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

যাঁরা প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করেন, তাঁরা নাকি শিল্প-সংস্কৃতি থেকে দূরে? এই ধারণা গত ১৮ বছর ধরে ভেঙে আসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি ও প্রযুক্তি বিভাগ। বিভাগীয় ছাত্রদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে 'ছায়ানট'। এই অনুষ্ঠানে মঞ্চ আর পর্দা যেন এক সুতোয় বাঁধা।

Advertisement

ছায়াছবি ও মঞ্চকে এক সুতোয় গাঁথতে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তারকাদের ঢল নামে। আসেন নাসিরুদ্দিন শাহ, গৌতম ঘোষ, পায়েল কাপাডিয়া, সুমন মুখোপাধ্যায়, অঞ্জন দত্ত, আবীর চট্টোপাধ্যায়ের মতো তারকারা। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার ঝুলি উজাড় করেন। ছাত্রদের সঙ্গে বসে দেখেন দেশ-বিদেশের পুরস্কৃত ছবি।

প্রতি বছরের মতো এ বছরেও ২৩ মার্চ থেকে পাঁচ দিন ধরে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ অনুষ্ঠান। আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন কারিগরি ও প্রযুক্তি বিভাগের দুই আয়োজক শিক্ষার্থী অন্যর্ঘ পাল ও সব্যসাচী সেন। দু'জনের কণ্ঠেই উচ্ছ্বাস। বললেন, "আমাদের বার্ষিক অনুষ্ঠান নানা স্বাদের গান, নাচ প্রাধান্য পায়। সেই জায়গা থেকেই মনে হয়েছে, তা হলে সিনেমা, নাটককে তুলে ধরা হবে না কেন? এই ভাবনা থেকেই 'ছায়ানট'-এর জন্ম।" আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ১৩ জানুয়ারি। শুধুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয়, এই অনুষ্ঠানে শহরবাসীদের জন্য অবারিত দ্বার।

ওই দিনও সারা দিন ধরে থাকবে নানা অনুষ্ঠান। দেখানো হবে একাধিক ছায়াছবি। মঞ্চস্থ হবে নাটক। স্মারক বক্তৃতায় সম্মান জানানো হবে শতবর্ষ অতিক্রান্ত পরিচালক ঋত্বিক ঘটককে। তাঁকে নিয়ে বলবেন অধ্যাপক, গবেষক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়।

যোগাযোগ করতেই খুশির আমেজ সঞ্জয়ের কণ্ঠেও। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী এবং প্রাক্তন অধ্যাপক। সঞ্জয় বললেন, "বরাবর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতির পীঠস্থান। একই ভাবে প্রতিবাদের মঞ্চও। দেশ, রাজ্য বা শহরে ঘটে যাওয়া নানা অন্যায়ের প্রতিবাদে সবার আগে এগিয়ে এসেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। একই ভাবে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও শিক্ষার্থীদের অনায়াস বিহার।” উদাহরণ হিসেবে সঞ্জয় বলেছেন, “ছাত্রদের অনুরোধে স্বয়ং ঋত্বিক ঘটক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি শিক্ষকতাও করেছেন। ঋতুপর্ণ ঘোষ থেকে জয়া আহসান, সবাই এসেছেন এখানে। এ বছর আমার দায়িত্ব ঋত্বিকবাবুর 'কোমল গান্ধার' ছবি সম্পর্কে বলার। আমি সেটিই পালন করব।" অন্যান্য বিষয়ে বলবেন পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচাৰ্য, জয়ব্রত দাস প্রমুখ।

Advertisement
আরও পড়ুন