TMC vs BJP on Swami Vivekananda

‘স্বাগতম যুবরাজ’, স্বামীজির বাড়িতে অভিষেকের হোর্ডিং, ছবিতে নেই বিবেকানন্দই! নিন্দা বিজেপির, পাল্টা দিল তৃণমূলও

সোমবার স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে সিমলা স্ট্রিটে তাঁর বাড়ির সামনে বিজেপির কর্মসূচি ছিল সকালেই। বিকেলে যাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হোডিং ঘিরে বিতর্ক চলছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৯
সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ির সামনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোর্ডিং।

সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ির সামনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোর্ডিং। —নিজস্ব চিত্র।

উত্তর কলকাতার সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ির সামনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোর্ডিং ঘিরে বিতর্ক। হোর্ডিংয়ের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিজেপি। অভিযোগ, হোর্ডিংটিতে কেবল অভিষেকের ছবি রয়েছে। স্বামীজির কোনও ছবি নেই। অথচ, তাতে লেখা ‘স্বাগতম যুবরাজ’। বিজেপির দাবি, এই ধরনের হোর্ডিং স্বামীজির বাড়ির সামনে বসিয়ে বিবেকানন্দকেই অসম্মান করেছে তৃণমূল। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাজ্যের শাসকদল। পাল্টা বিজেপির প্ল্যাকার্ড এবং হোডিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।

Advertisement

সোমবার বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে সকাল সকাল সিমলা স্ট্রিটে পৌঁছে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদারেরা। বিকেলে বিবেকানন্দের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে সেখানে যাওয়ার কথা অভিষেকের। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে স্বামীজির বাড়ির সামনে হোর্ডিংটি বসান জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিবেক গুপ্ত। এই হোর্ডিংকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘স্বামীজিই আসল যুবরাজ। আর কেউ যুবরাজ নয়।’’

বিরোধী দলনেতার কথায়, ‘‘আমি ৩৩ বছর ধরে এখানে আসি। প্রত‍্যেক বছর স্বামীজির জন্মদিনে আমি হোর্ডিং-ব‍্যানার দিই। নিজের নামটা পর্যন্ত লিখতে দিই না। আর এদের ঔদ্ধত্য কোথায় গিয়েছে যে, মুখ‍্যমন্ত্রীর ভ্রাতুষ্পুত্রকে যুবরাজ লিখছে! আমি শুনেছি, এখানকার প্রধান মহারাজ আর কারও ছবি লাগাতে কাউন্সিলরদের বারণ করেছিলেন। তার পরেও এরা শোনেনি।’’ সুকান্ত আবার বলেছেন, ‘‘একসময় এখানে স্বামীজি ঘুরে বেড়াতেন। এখন কয়লা চোর, গরু চোরেরা ঘুরে বেড়ায়। বাংলার মানুষের উচিত এদের উৎখাত করা। না হলে বিবেকানন্দের মতো প্রতিভা এই মাটিতে আর দেখা যাবে না।’’

স্বামীজিকে শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার সকালে বিজেপির তরফে হেদুয়া থেকে সিমলা পর্যন্ত ‘বিবেক যাত্রা’র আয়োজন করা হয়েছিল। শুভেন্দু, সুকান্তের সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, যুব মোর্চা সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ, উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষরা।

শুভেন্দুদের অভিযোগকে অবশ্য পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, অভিষেককে দলের সমর্থকেরা ‘যুবরাজ’ হিসাবে দেখেন। তাই ওই হোর্ডিং তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে স্বামীজির অপমানের কোনও সম্পর্ক নেই। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, ‘‘কেন্দ্রের মন্ত্রী বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বিবেকানন্দকে ‘কনফিউজ়ড লেফটিস্ট’ (বিভ্রান্ত বাম) বলেছিলেন। সেই বিজেপির মুখে বিবেকানন্দ নিয়ে জ্ঞান শুনব না। আসলে বিবেকানন্দ দিনের শেষে নরেন্দ্রনাথ দত্ত। এই নরেন সেই নরেন নয়। তিনি বাঙালির আবেগ, আত্মমর্যাদার প্রতীক।’’

বিজেপির হোর্ডিং নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। দাবি, বিজেপি নেতাদের হাতে যে হোর্ডিং ছিল, তাতে স্বামীজির বাণী হিসাবে লেখা ছিল, ‘গর্ব করে বলো আমি হিন্দু’। শশী তার সমালোচনা করে বলেন, ‘‘গর্ব করে বলো আমি মানুষ।’’ হোর্ডিংয়ে অভিষেকের ছবি নিয়ে শশীর জবাব, ‘‘এটা নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠছে, আমি জানি না। জনপ্রিয় নেতৃত্বকে তাঁর অনুগামীরা বিভিন্ন চোখে দেখেন। অভিষেককে তাঁর অনুগামীরা যুবরাজ হিসাবে দেখেন। এতে অন‍্য কাউকে অপমান করার ব‍্যাপার নেই। এটা প্রিয় নেতার প্রতি মানুষের ভালবাসা।’’

Advertisement
আরও পড়ুন