US Iran Conflict

খামেনেইরা ফোন করেছিলেন, সমঝোতা চান! ইরানে অশান্তির মধ্যেই হঠাৎ দাবি ট্রাম্পের, সঙ্গে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও

ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান থেকে তাঁর কাছে সমঝোতা চেয়ে ফোন এসেছিল। শীঘ্রই ইরানের নেতাদের সঙ্গে তিনি একটি বৈঠকে বসবেন। তবে তার আগেও মার্কিন বাহিনী পদক্ষেপ করতে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১০
(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে জল মাপছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেই দিলেন, তাঁর বাহিনী ইরানে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ করতে পারে। সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এমনকি, ইরান থেকে পরমাণু-সমঝোতার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। সমঝোতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজনও করছেন ট্রাম্প।

Advertisement

রবিবার (স্থানীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য নির্দিষ্ট বিমানে বসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প। সেখানেই উঠেছিল ইরানের প্রসঙ্গ। ট্রাম্প বলেন, ‘‘ইরানের নেতারা গতকাল আমাকে ফোন করেছিলেন। একটা বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। ওঁরা সমঝোতা করতে চান।’’ কিন্তু তার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, বৈঠকের আগেও তাঁর বাহিনীকে পদক্ষেপ করতে হতে পারে। যে ভাবে বিক্ষোভকারীদের উপর ইরানে কঠোর দমননীতি অনুসরণ করছে প্রশাসন, তার ভিত্তিতে মার্কিন হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন ট্রাম্প।

সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিক্ষোভে সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়টি ভেবে দেখছে আমেরিকার সেনাবাহিনী। পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে অশান্তি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে হস্তক্ষেপ করা যায়, কী কী কঠোর পদক্ষেপ করা যায়, মার্কিন বাহিনীর সামনে কী বিকল্প রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘আমাদের বাহিনী এই দিকেই তাকিয়ে আছে। আমরা ইরানে খুব শক্তিশালী পদক্ষেপের কথা ভাবছি।’’ একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সূত্র উল্লেখ করে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী মঙ্গলবার সিনিয়র পরামর্শদাতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। আমেরিকার কী কী করণীয়, তা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ক্রমে তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। খামেনেইয়ের অপসারণ চাইছেন ইরানের মানুষ। রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের দমন করতে কঠোর হয়েছে ইরান প্রশাসন। নির্বিচারে প্রতিবাদীদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদসংস্থার রিপোর্টে দাবি, ইরানে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫৩৮। গুলিবিদ্ধ রোগীতে উপচে পড়ছে হাসপাতালগুলি।

বিক্ষোভ দমন করতে গত কয়েক দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে ইন্টারনেট চালু করার জন্য তিনি ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলবেন। মার্কিন ধনকুবের মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট পরিষেবা দিয়ে থাকে।

Advertisement
আরও পড়ুন